Monday, 29 June 2026

38.বামের হিন্দু সমাজের ধর্মীয় বৈশিষ্ট ও ধর্মস্থানঃ-3 পঞ্চমী নাথ মাজুমদার

 

মহা শিবরাত্রিঃ

“মহা শিবরাত্রি" বা শিবের মহান রাত, ধ্বংস এবং পুনর্জন্মের দেবতা শিবকে উৎসর্গ করা হয়৷ চান্দ্র  ফাল্গুনের    কৃষ্ণ   পক্ষের  ১৪ তম রাতে মহা শিবরাত্রি পালিত হয়।ভক্তরা দিনরাত উপবাস, প্রার্থনা এবং আচার-অনুষ্ঠানের সাথে মহা শিবরাত্রি পালন করে।তারা  বাম অঞ্চলে  গড়ে উঠা বিভিন্ন  শিব মন্দিরে যান, এবং বিশেষ প্রার্থনা  বা পুজা করেন ।মহা শিবরাত্রি মহা ধুমধাম ও উৎসাহের সাথে পালিত হয়।মহা শিবরাত্রি অন্ধকারের ওপর আলোর বিজয়, অজ্ঞতার ওপর জ্ঞান এবং মন্দের ওপর পুণ্যের প্রতীক।দুধ,দৈ, ঘি, মধু মহাকাল কে উৎসর্গ করে ভক্তরা  মনোমতো বর প্রার্থনা করে  এই তিথিতে ।

দোল যাত্রাঃ

দোল যাত্রা, যা দোল পূর্ণিমা উৎসব নামেও পরিচিত।এটি বামে বসন্তের সূচনাকে চিহ্নিত করে এবং ভগবান কৃষ্ণ ও রাধার ঐশ্বরিক প্রেমকে স্মরণ করে। দোলযাত্রা পালিত হয় ফাল্গুন মাসের পূর্ণিমা তিথিতে ।এটি রঙের উৎসব হোলির সাথে মিলে যায়, যা ভারত জুড়ে মহা উৎসাহের  সাথে উদযাপিত হয়।ভক্তরা একে অপরকে রঙিন গুঁড়ো (আবির বা গুলাল) ছিটিয়ে দেয় এবং রঙিন জল স্প্রে করে, ঐতিহ্যবাহী হোলি গান এবং ভজন ,ভগবান কৃষ্ণকে উদ্দেশ্য করে পরিবেশিত হয়   দোল যাত্রা হল একটি প্রাণবন্ত এবং আনন্দের উৎসব যা প্রেম, বন্ধুত্ব এবং প্রকৃতির সৌন্দর্যকে উদযাপন করে   এই উৎসবটি  মানুষের মনে আনন্দ ইতিবাচকতা ছড়িয়ে দেয়।

আসলে বসন্ত উৎসব শুধুমাত্র হালকা বিনোদন বা নিছক আনন্দ হৈ হুল্লোড় নয় ।এর মধ্যে লুকিয়ে আছে বিশ্বপ্রেমের গভীর তাৎপর্য ।বৃন্দাবনের  কৃষ্ণকে মানা হয় প্রেমের অবতার । এ প্রেম  অপার্থিব,সর্বব্যাপী । তিনি শুধু রাধারাণীর নন,স্ত্রী-পুরুষ নির্বিশেষে বৃন্দাবনের সকল গোপ- গোপীর প্রেমিক ,অভিন্ন-হৃদয় গোপ বালকগণ তাঁর সখা । তাঁর প্রেমে  ‘যমুনা উজান বয়’ ,তাঁর  নামে বৃন্দাবনের  তরু লতায় শিহরণ জাগে । তাঁর বিরহে বৃন্দাবনের  গাভীগণ তৃণ খায় না ,মায়ূর নৃত্য করে্‌ না ,শুক -সারি নীরব হয়ে রয় ।বৃন্দাবনের পথের ধূলো তাঁর চরণ চিহ্ন বুকে ধরে রাখার জন্য উদ্গ্রীব  হয়ে থাকে । অর্থাৎ নদ নদী ,গাছ-পালা , পশু-পাখী ,দেশের মাটি, সব কিছুকেই তিনি ভালবাসেন । তিনি প্রকৃতিপ্রেমী,তিনি মানব প্রেমী,তিনি বিশ্ব প্রেমিক । এ প্রেম ভাংতে জানে না ,শুধু গড়তে জানে । সৃষ্টির আনন্দে তাই বসন্ত উৎসব বা দোল উৎসব বিশ্বপ্রেমের রঙ ছড়িয়েই চির রঙীন ।

দোল উৎসব পালনের আর একটি তাৎপর্য পূর্ণ বিষয় হলো -এ সময় বসন্ত রোগের প্রাদুর্ভাব ঘটে আর   এই রোগের প্রতিষেধক হিসেবে সর্বাঙ্গে বিশেষ ওষধি গুণ সম্পন্ন আবির মাখা প্রাচীন আয়ুর্বেদ শাস্ত্রের নিদান ।.

বিশ্বকর্মা পূজাঃ

  বাংলা ভাদ্র মাসের শেষ দিনে বামে পালিত হয় দেবতাদের স্থপতি ও কারিগর বিশ্বকর্মার  পূজা। বিশ্বকর্মা পূজায় দেবশিল্পী  বিশ্বকর্মাকে শ্রদ্ধা জানানো হয়, যিনি হিন্দু পুরাণে মহাবিশ্বের ঐশ্বরিক স্থপতি এবং স্রষ্টা হিসেবে সম্মানিত।  বিশ্বকর্মা পূজায় কারিগর এবং কারখানার মালিকরা তাদের নিজ নিজ ব্যবসা এবং পেশায় সাফল্য, সমৃদ্ধি এবং নিরাপত্তার জন্য ভগবান বিশ্বকর্মার আশীর্বাদ কামনা করে। মন্ত্র এবং স্তোত্রের সাথে বিশেষ আরতি  সঞ্চালিত হয় ।বিশ্বকর্মা পূজা ব্যাপক উৎসাহ সামূহিক উচ্ছ্বাসের সাথে পালিত হয়। কারখানার শ্রমিক এবং কর্মচারীরা একত্রিত হয়ে পূজা উদযাপন, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং ভোজের আয়োজন করে, যা সকল অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে একতা সৌহার্দ্যের বোধ জাগিয়ে তোলে। .কারখানার যন্ত্রপাতি ও যানবাহনে ,মন্ত্র উচ্চারণের মাধ্যমে সিঁদুর পরিয়ে  দেন পুরোহিত  । সিঁদুরকে মঙ্গলের প্রতীক হিসাবেই ধরা হয় ।

 ...........................................................................................................................

প্রিয় পাঠকমণ্ডলী,

বাম হিস্ট্রি ব্লগ আপনাদের আন্তরিক সাড়া ও উৎসাহে ক্রমশ সমৃদ্ধ হচ্ছে। অত্যন্ত আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে, এ পর্যন্ত ১১,৯৫৩ বার পাঠকরা ব্লগটি পরিদর্শন করেছেন।

যারা বামের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি সম্পর্কে আগ্রহী, তাঁদের কাছে অনুগ্রহ করে ব্লগটির লিংকটি শেয়ার করুন:

bam-history.blogspot.com

এছাড়াও, ব্লগের Comment বিভাগে আপনাদের মূল্যবান মতামত, পরামর্শ ও প্রতিক্রিয়া জানালে আমরা অত্যন্ত উৎসাহিত হব।

আপনাদের সহযোগিতা ও ভালোবাসাই আমাদের অনুপ্রেরণা।


ধন্যবাদান্তে,
বাম হিস্ট্রি ব্লগ


 

 

 

 

 

 

No comments:

Post a Comment