বিংশ শতাব্দীর পঞ্চাশের দশকের গোড়ার দিকে বাম থেকে মিজোরামে যাওয়ার জন্য কোন মোটরযানযোগ্য রাস্তা ছিল না। শিলচর আইজল সড়কের লাইলাপুর-ভাইরেংটে অংশটি ১৯৫৪ সালের দিকে নির্মিত এবং যাতায়াতের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছিল। এই রাস্তাটি ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য মিজোরামের সাথে বামের সংযোগ স্থাপন করেছে।
স্বল্প দূরত্বের জন্য, যোগাযোগ ছিল মূলত উচ্চ
কণ্ঠ স্বরে ঘোষণার মাধ্যমে । হাটবাজারে ও
গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় ঢোল বাজিয়েও গুরুত্বপূর্ণ খবর জনসমক্ষে ঘোষণা করা হত । বামের
কুকিরা যারা কুঙ্গা পুঞ্জি, ককাই পুঞ্জি মতো পুঞ্জি নামে এক একটি পাহাড়ী গ্রামে বাস করত তাদের যোগাযোগের এক অনন্য পদ্ধতি ছিল। রাতে
ঢোলের তালে বার্তা পাঠাতো তারা। এটি মোর্স কোড ব্যবহার
করে ডট এবং ড্যাশ সহ টেলিগ্রাফিক বার্তা পাঠানোর সাথে সমান্তরাল ছিল ৷ পরিবেশ দূষণমুক্ত, এবং পুঞ্জিগুলি পাহাড়ে
অবস্থান করায়, ঢোলের শব্দ রাতের বেলা বেশ
দূরে চলে যেত। বার্তা আদান-প্রদান হত দুই ঢোল বাদকের মধ্যে।
বিনিময় বেশ কিছুক্ষণ চলত। ঢোল বাদকদের মধ্যে বার্তার
আদান-প্রদান একটি সংলাপের মতো ছিল, যেখানে
একজন বার্তা প্রেরণ করে এবং অন্য
পক্ষ প্রতিক্রিয়া জানায় ।এই প্রক্রিয়াটি
যথেষ্ট সময়কাল ধরে প্রসারিত হতে পারত।
চিঠি আসলেও চিঠি পড়ার লোক ছিল কম।চিঠি পাড়ানোর
জন্য চিঠির প্রাপককে -বিশেষত মুসলমান প্রধান অঞ্চলে -এক গ্রাম থেকে অন্য গ্রামে
যেতে হত।এখন ভাগাবাজারে স্বয়ংসম্পূর্ণ পোষ্ট অফিস রয়েছে। ভাগাবাজার পোষ্ট অফিসের অধীন ৮টি এবং ধলাই পোষ্ট অফিসের অধীন ৮টি শাখা কার্যালয় নিয়ে মোঠ ১৮ টি ডাক পরিসেবা রয়েছে পুরো বামে। ১৯৯০ ইংরেজীতে ভারত সঞ্চার নিগম লিমিটেড কর্তৃক লেণ্ড লাইন টেলিফোন সেবা চালু করা হয়েছিল, কিন্তু বর্তমানে সে ব্যবস্থা বিলুপ্ত হয়ে গেছে। প্রায় সবাই এখন মোঠো ফোন ব্যবহারে অভ্যস্থ হয়ে গেছেন।
No comments:
Post a Comment