Wednesday, 17 June 2026

26.বামের বিভিন্ন সমাজে ধর্মীয় বৈশিষ্ট-7ঃজিয়াউদ্দিন চৌধুরী

 


বামে নক্সবন্দি মুজাদ্দেদি সুন্নি তরিকায় সুফিবাদ চর্চা :

রাজঘাট গ্রামে বসবাসকারী মৌলানা আরজদ আলী চৌধুরী এবং মৌলানা আব্দুল হামিদ চৌধুরী, ১৯১৭ সালে রামপুর মাদ্রাসা থেকে ইসলামিক  উচ্চ শিক্ষা সম্পন্ন করে ফিরে আসার পর, তাদের আধ্যাতিক দিক-নির্দেশক রামপুরের ইব্রাহিম আলী খানের (জনপ্রিয়ভাবে নশাখা নামে পরিচিত) নির্দেশনায় নক্সবন্দি মুজাদ্দেদি সুন্নি তরিকায় সুফিবাদ চর্চা শুরু করেন। তাঁরা আল্লাহর নৈকট্য লাভের জন্য তাঁদের অনুসারীদের পথ নির্দেশনা দেওয়ার ‘ইযাযত’(অনুমোদন) পান।

মওলানা আরজদ আলী চৌধুরী ১৯৪৫ সালে মৃত্যুবরণ করেন, এরপর একই বছরে মওলানা আব্দুল হামিদ চৌধুরীও মারা যান। উভয়কেই পারিবারিক আল-ফিরদৌস কাসিম মুফতি কবরগাহে দাফন করা হয়। মৌলানা আরজদ আলী চৌধুরী এবং মৌলানা আব্দুল হামিদ চৌধুরী  বিগত শতাব্দীর চল্লিশের দশকে বামে এক  অভূতপূর্ব   আধ্যাতিকতার বাতাবরণ সৃষ্টি করেছিলেন  সেই সময়ে বরাক উপত্যকা এবং রামপুর থেকে নক্সবন্দি তরিকার আধ্যাত্মিক নেতারা নিয়মিতভাবে বামে আসতেন। নশা খান নিজেই রাজঘাটে এসেছিলেন এবং তাঁর শিষ্যদের দিক নির্দেশনা দিয়েছিলেন। কাছাড়ে অবস্থানকালে, নশা খান তাঁর অন্যান্য শিষ্যদেরও দিকনির্দেশনা দিতেন , যার মধ্যে ছিলেন গোবিন্দপুরের ইলিয়াস আলী সাহেব এবং আমজাদ আলী সাহেব, আর ভগাডরের আফতাবুর রহমান সাহেব। তাঁরা ছিলেন মৌলানা আরজাদ আলী চৌধুরী এবং মৌলানা আবদুল হামিদ চৌধুরীর সমসাময়িক।মৌলানা আরজদ আলী চৌধুরী এবং মৌলানা আব্দুল হামিদ চৌধুরীর মৃত্যুর পর, তাঁদের অনুসারীরা তাঁদের কবরস্থলে  মোকাম নির্মাণ শুরু করেন। তবে, তাঁদের পরিবারের পক্ষ থেকে তোলা আপত্তির কারণে নির্মাণ কাজ প্লিন্থ স্তরে পৌঁছানোর পর আনুসারীগণ সে কাজ থেকে নিবৃত হন। আজও কিছু দর্শনার্থী তাঁদের কবরে 'জিয়ারত' করতে আসেন।

রাজঘাট আল-ফিরদৌস কাসিম মুফতি কবরগাহঃ মৌলানা আরজদ আলী চৌধুরী এবং মৌলানা আব্দুল হামিদ চৌধুরী এখানে সমাহিত আছেন।

No comments:

Post a Comment