১৯১২ সালে ঐতিহাসিক উপেন্দ্র চন্দ্র গুহ তার কাছাড়ের ইতিবৃত্ত বইতে পূর্বাভাষ দিয়েছিলেন যে বাম অদূর ভবিষ্যতে বিকশিত হবে এবং অতীতের ঐতিহ্যকে পুণঃসংস্থাপিত করবে। তার ভবিষ্যৎ বাণীর পঞ্চাশ বছরের ও কম সময়ের মধ্যে বাম তার অতীতের চেয়েও বেশী পরিমাণ উন্নত হয়ে উঠছে। বাম আজ সঠিক ভাবে প্রাচুর্য্যে ভরপুর আধুনিকতার দিকে ধাবমান এক উন্নত জনপদ। বর্তমানের বামের অগ্রগতির যে মাত্রা পরিলক্ষিত হচ্ছে, তা দেখে প্রযুক্তিগত আগ্রগতি এবং পরিবর্তনশীল বিশ্বব্যবস্থার প্রেক্ষাপটে যদি কেউ উপেন্দ্র চন্দ্র গুহের মত ভবিষ্যদবাণী করতে চায় যে আজ থেকে ১০০ বছর পরে ২১২৫ সনে বাম কি হবে তা হ'লে তাকে নিঃসন্দেহে গভীর সমস্যায় পড়তে হবে। দ্রুত পরিবর্তনের সাথে সাথে ভৌগোলিক অঞ্চল হিসেবে ‘বাম’ নামের পরিচিতি ভাগাবাজার, ধলাইবাজার ইত্যাদি উন্নয়নশীল কেন্দ্রগুলোর পরিচিতির আড়ালে হারিয়ে যাচ্ছে। আজ মানুষ ভাগাবাজার বা ধলাইবাজারে যায়, বামে যায় না। ‘বাম’ নামটি টিকিয়ে রাখতে হ’লে বামের জনগণকে নতুন নতুন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সংস্থা এবং স্থানের নামের সঙ্গে ‘বাম’ শব্দটি যুক্ত করে নামাকরণ করতে হবে। ইতিমধ্যে নিম্নলিখিত প্রতিষ্ঠানগুলির সাথে ‘বাম’ শব্দ যুক্ত করে নামকরণ
করা হয়েছে – বাম নিত্যানন্দ বহুমুখী উচ্চতর মাধ্যমিক বিদ্যালয়,রাজঘাট বাম ঈদগাহ, বাম বিদ্যাপীঠ উচ্চ বিদ্যালয়, বাম নবকুমার উচ্চ বিদ্যালয়,বাম হাইস্কুল,রাজনগর ,বাম প্রেমানান্দ এম ই স্কুল ; বাম
ইদগাহ – বনগ্রাম ও বাম ইদগাহ -জয়ধনপুর ।এছাড়াও বামের নাম বিলুপ্তির হাথ থেকে
রক্ষা
করতে বামবাসীরা বিয়ে, জন্মদিন, শ্রাদ্ধ ও বিবাহবার্ষিকী ইত্যাদির আমন্ত্রণপত্রে গ্রামের নামের সাথে ‘বাম’ শব্দটি যোগ করতে পারেন। যেমন ‘বাম’ ভাগাবাজার
, ‘বাম’রাজঘাট । ইতিমধ্যেই কাছাড়ের মূল ভূখণ্ডের মানুষের কাছে ধলাই বাজার ‘বাম’ ধলাই নামে পরিচিত হয়ে আছে।
তৎসঙ্গে বামের অধিবাসীগণকে “বাম উৎসব” বা এই ধরণের আরও অন্যান্য কর্ম্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে এই নামকে সমুন্নত রাখতে হবে। উদাহরণ স্বরূপ বলা যায় যে অতি সম্প্ৰতি ২০৩৭ জনসংখ্যার ছোট জনপদ শেওড়ারতল যা ৭৫ হেক্টর এলাকা জুড়ে বিস্তারিত তার অধিবাসীরা যেরকমভাবে উৎসাহ ও উদ্দিপনার সাথে গ্রামটির প্রতিষ্ঠার শতবর্ষ উদ্যাপন করেছে এবং মুখ্যমন্ত্রীসহ অন্যান্য মন্ত্রীর শুভেচ্ছা বাৰ্ত্তা সমন্বিত “স্মৃতিগ্রন্থ (স্যুভিনির)” প্রকাশ করেছে তা থেকে দৃষ্টান্ত গ্রহণ করা যায়।
পরবর্তী
প্রজন্মের কাছে বামের ঐতিহ্য ও পরিচয় তুলে
ধরা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বামবাসীদের
সম্মিলিত প্রচেষ্টায় গৌরবময় ‘বাম’ নামটি আরও দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত করা সম্ভব ।
কিন্তু ভৌগোলিক
অঞ্চল হিসাবে বাম নামটি তলিয়ে গেলেও একটি বিষয় নিশ্চিত যে সংযোগবিহীন দূরবর্তী
অনুন্নত অঞ্চল বুঝাতে কাছাড়ের মূল ভূখণ্ডের মানুষের শব্দভাণ্ডারে
‘বাম-বাউরি’ বাগধারাটি টিকে থাকবে।
গ্রন্থপঞ্জিঃ
১। কাছাড়ের ইতিবৃত্ত — উপেন্দ্ৰ চন্দ্ৰ গুহ
২। Indigenous
Muslims of Assam with Focus on Barak Valley —Ali Haidar Laskar
৩।Antiquities
of Cachar-Raj Mohan Nath
৪।Cachar
District Gazetteers -B.C.Allen
৫।Statistical
Hand Book of Assam – Hunter
৬।বামের স্মরণীয় ব্যক্তিত্ব -সাবির আহমদ চেৌধুরী
৭।তথ্যভিত্তিক বামের মসজিদ সমুহ- সাবির আহমদ
চেৌধুরী
লেখক পরিচিতিঃ
জিয়াউদ্দিন চৌধুরী- কাছাড়ের বাম রাজঘাটের বাসিন্দা। বাম বিদ্যাপীঠ
হাইস্কুল, বাম নিত্যানন্দ হাইস্কুল এবং সোনাই নিত্যগোপাল হাইস্কুলে তার স্কুল শিক্ষা সম্পন্ন ।জিসি কলেজ থেকে অর্থনীতিতে অনার্স সহ স্নাতক, গৌহাটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে এমএ এবং গৌহাটী ইউনিভার্সিটি
ল কলেজে এলএলবি । ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ কোঅপারেটিভ ম্যানেজমেন্ট,পুনে থেকে কোঅপারেটিভ বিজনেস ম্যানেজমেন্টে ডিপ্লোমা নিয়ে, আসাম সরকারের সমবায় বিভাগে কর্মজীবন অতিবাহিত করে ২০০৭ সালে অবসর গ্রহণ ।অবসর গ্রহণের পর সামাজিক কাজে নিয়োজিত