Thursday, 23 July 2026

49-বৈচিত্রময়ী বাম-5:এক স্মৃতিচারণ নিশি কান্ত লস্কব়।

 


   ধান ছিল আদান-প্ৰদানেব় বিনিময় মাধ্যম।সাপ্তাহিক বাজারের দিনগুলিতে, মানুষ তাদের মৌলিক প্রয়োজনীয়  বস্তু যেমন লবন, দেশলাই  এবং কেরোসিন তেল কিনতেন। সাধারণত, তারা এই ছোট ছোট কেনাকাটার জন্য নগদ অর্থ সংগ্রহ করতেন দু-তিন কাঠি চাউল বিক্রি করে। তখন রাইস মিল ছিল না, তাই মহিলারা ঘাইল বা ঢেকি  ব্যবহার করে চাউল তৈরি করতেন । এটি অত্যন্ত শ্রমসাধ্য কাজ ছিল।

 ফেব়িওয়ালা গ্ৰামে মুড়ি, সাবান, সুডা, সলই , বিড়ী, কমলা, দৈ, মিষ্টি, মাছ, শুকনা মাছ প্ৰভৃতি বিক্ৰী কব়তো, পব়িবৰ্তে ধান নিয়ে যেত। ফেব়িওয়ালা সাধারণত অগ্রহায়ণ ও পৌষ মাসের ধান কাটার মৌসুমে তাদের পণ্য বিক্রি করতে  বেশী করে আসত।

 

 

 ধান চাউল ছাড়া ফলমূল, সুপাব়ী, পাট, ডিম, হাঁস মুব়গী প্ৰভৃতি বিক্ৰী কব়েও কৃষকব়া কিছু অৰ্থ সঞ্চয় কব়তেন। ওজন হিসাবও ছিল অন্যব়কম। ধান, চাল মাপা হত কাঠি দিয়ে। কাঠি বেত দিয়ে তৈব়ি হয় । এক কাটিতে বৰ্তমানেব় কেজি ধান, চাল ধব়ে। ২০ কাটি দিয়ে মন। হিসাব হত কাঠি, কাঠি, ১মন, ২মন এব়ূপে। ৪ছটাক= পোয়া, পোয়া= সেব়, এটাও তেল, ডাল ওজনে ব্যবহৃত হত। সোনা, ব়ূপাতোলায় হিসেব হত। সংখ্যা গনণাই ২০ পৰ্য্যন্ত। ২০টিতে কুড়ি, যেমন কুড়ি কৈ মাছ। ২১ = এক কুড়ি এক। হালি= ৪টাতে হালি। হালি ডিম, হালি কমলা, হালি কলা। কিছু কিছু জিনিষ পন দিয়ে গনা হত। ১পন সুপাব়ী; সুপাব়ী 'ভি' তে হিসাব হয় ৪০০টিতে 'ভি', পান ২০টিতে এক গুছি, গুছিতে পাই। 

   কিছু কিছু জিনিষ আবাব় ভাগা দিয়ে, যেমন ; মাছেব় ভাগা, সব্জীব় ভাগা, তাছাড়া আটি মূলাব় আটি, সজনাব় আটি ,কচুর আটি, বেতেব় আটি। এইসব একটি উদাহব়ণস্বব়ূপ। গ্ৰামেব় মহিলাব়া পঢ়াশুনা না জানলেও এইসব হিসাব নিকাশ ভালভাবে জানতেন।

  ধান তোলাব় পব় পৌষ সংক্ৰান্তি থেকে কয়েকমাস অবসব়। এখনকাব় মত ব়েডিও', দূব়দৰ্শন, মোবাইলেব় ব্যবস্থা ছিল না। তাদের অবসর সময় কাটানোর অনেক উপায় ছিল। মোষের লড়াই বহুদিন ধরে বামের অনেক গ্রামে প্রচলিত এবং জনপ্রিয় খেলা ছিল, যা স্থানীয়ভাবে ‘ভইসর  বা বয়ারর লড়াই’ নামে পরিচিত। এই প্রতিযোগিতা অগ্রহায়ণ বা পৌষ মাসে ফসল তোলার পর বড় খোলা মাঠে অনুষ্ঠিত হতো। বিভিন্ন গ্রামের সবচেয়ে শক্তিশালী এবং আক্রমণাত্মক মোষগুলোকে এই লড়াইয়ে প্রতিযোগিতা করার জন্য আনা হতো। মালিকরা তাদের মোষগুলোকে বিশেষ যত্নে বড় করতেন এবং তাদের শক্তি ও সহনশীলতা বাড়ানোর জন্য বিশেষ খাদ্য খাওয়াতেন।

লড়াইয়ের সময়, মোষগুলো শিং দিয়ে একে অপরকে সর্ব শক্তি প্রয়োগ করে  ধাক্কা দিতে দিতে নিজেদের শক্তি ও প্রাধান্য প্রদর্শন করত। কাছাকাছি গ্রাম থেকে আসা দর্শকরা বিশাল সংখ্যায় জড়ো হয়ে তাদের পছন্দের মোষকে উৎসাহ দিত। লড়াই চলত যতক্ষণ না একটি মোষ পালিয়ে যেত বা স্পষ্টভাবে পরাজিত হতো, যা লড়াইয়ের সমাপ্তি চিহ্নিত করত।

……………………………………………………………………………………………..