6.উল্লেখ্য যে এওলা টিলা বা ঘামারি টিলা রয়েছে জামাল্পুরের দক্ষিণে ।এওলা টিলা বা ঘামারী টিলা বামের সর্বোচ্চ বিন্দু এবং এওলা টিলা বা গামারী টিলা থেকে বামের মনোরম দৃশ্য অবলোকন করা যায়।বামের লায়লাপুর ও হাইলাকান্দির বিলাইপুর সোজা পথে দূরত্ব মাত্র ৬ কিলো মিটারের বেশী নয় ।রেংটি পাহাড়ের মনোরম শোভা ভ্রমণ বিলাসী পর্যটকদের মন ভরায় ও চোখ জুড়ায় । পশ্চিমের রেংটি হিল রেঞ্জের ধলাই ভিউ পয়েন্ট এবং তবতকুড়ের নিকট ভিউ পয়েন্ট থেকে বামের একটি মনোরম দৃশ্য পাওয়া যায়। পাহাড় চূড়া থেকে পূর্ব দিকে দৃষ্টি দিলে বামের অপরূপ শোভা দর্শককে মোহিত করে ।
এলাকার পাহাড় গুলোর পাথুরে শিলাস্তর
থেকে বেরিয়ে আসা কয়েকটি জলপ্রপাত ও জলধারা রয়েছে । আর্জানপুরের পশ্চিমে রেংটি পাহাড়ে রয়েছে টিংলয় জলপ্রপাত আর জয়ধনপুরের
এবং উত্তর লাইলাপুরের পশ্চিমে রেংটি
পাহাড়ে রয়েছে তবতকুড় জলপ্রপাত নামে দুটি জ্লপ্রপাত।
রাস্তা যোগাযোগের অভাবে উত্তর লাইলাপুর তবতকুড় জল্প্রপাতটি এখনো পর্যটকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পারেনি।দক্ষিণে মিজোরামের সীমানায় রয়েছে নথছড়া নদীর খিয়াং জলপ্রপাত
, আর তার সন্নিকটে রয়েছে পানছড়া জলধারা ।আরও একটি জলপ্রপাত হল কালাখাল থেকে ২ কিঃমিঃ
পূর্বে দিশরু জলপ্রপাত যা পাহাড়ি নদীতে জল কে লির (ওয়টারস্লাইডিং ) জন্য বিখ্যাত।
বামের পূর্ব দিকে স্মিথনগর এফভি থেকে ২ কিমি দূরে ভুবন পাহাড়ে মোসিনালার জলপ্রপাত
রয়েছে। এই পরিচিত জলপ্রপাতগুলোর পাশাপাশি গভীর পাহাড় ও জঙ্গলে ছড়িয়ে থাকা আরও অনেক ঝরনা ও জল
প্রপাত
আবিষ্কারের অপেক্ষায় রয়েছে।
বাম
এ দুঃসাহসিক পর্যটনের সুযোগ রয়েছে। দুঃসাহসিক পর্যটকের জন্য ট্র্যাকিং এবং হাইকিংয়ের ট্র্যাক রয়েছে ৷ পাহাড়ি রুকনি নদী এবং অন্যান্য
পাহাড়ি স্রোতগুলি র্যাফটিং এবং রোয়িংয়ের জন্য বিশাল সুযোগ এনে দেবে । অ্যাডভেঞ্চার
ট্যুরিজমের সুযোগ থাকার জন্য হোম স্টে একটি
বিকল্প হবে। হোমস্টে পর্যটকদের বামের ৩৫ টি ফরেস্ট ভিলেজে বসবাসকারী বিভিন্ন জাতি ও
উপজাতীয় সম্প্রদায়ের জীবন ও সংস্কৃতির অভিজ্ঞতা লাভ করতে দেবে। অবশ্য বেশিরভাগ ফরেস্ট
ভিলেজ শেওড়ারতল গ্রাম পঞ্চায়েতে অবস্থিত। দক্ষিণে মিজোরাম ছুঁয়ে এই গ্রাম পঞ্চায়েত।
বামের প্রাকৃতিক শোভা প্রকৃতি বিলাসী ভ্রমণ প্রয়াসী পর্যটকদের আকর্ষণ করে ।ব্লগার এবং
ইউটিউবারদের দৌলতে
বামের পর্যটন স্পটগুলো জনপ্রিয় গন্তব্য স্থল
হয়ে উঠছে।
পশ্চিমের
রেংটি পাহাড় শ্রেণী যখন হাইলাকান্দির সঙ্গে
বামের সীমানা নির্দেশ করছে তখন পূবের
ভুবন পাহাড় মণিপুর থেকে বাম অঞ্চলকে স্বতন্ত্র পরিচয়ে চিহ্নিত করে রেখেছে।
সোনাই নদী এবং বরাক নদীর মধ্যবর্তী ভুবন পাহাড় পূবদিকে বামের প্রাকৃতিক প্রাচীর। বামের পূবদিকে
অবস্থিত ভুবন পার্বত্য রেঞ্জের এই অংশটি সম্প্রতি আসাম সরকার কর্তৃক ঘোষণা করা ৩২০ বর্গ কিমি “ বরাক ভুবন বন্যপ্রাণী
অভয়ারণ্যের ” একটি অংশ। এই সংরক্ষিত অভয়ারণ্যটি একাধারে
ভুবন পার্বত্য
এলাকা এবং বামের প্রাকৃতিক পরিবেশ ও
বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ প্রকল্পকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলবে অবশ্যই আশা করা যায়।

