সম্প্রীতির পরিবেশে, একাত্মতা বজায় রেখে, সমবেত প্রচেষ্টায় অনুষ্ঠিত এই পুতুল বিয়ের অনুষ্ঠান স্মৃতির সরণি বেয়ে হৃদয়তন্ত্রীতে অনুরণিত হয় আজও । আর এই সুন্দর সংস্কৃতিটিকে টিকিয়ে রাখার অভিপ্রায়ে, আজকের প্রজন্মের কাছে এর অনুভূতিটুকুকে আরো আকর্ষণীয় করে পৌঁছে দেওয়ার মানসেই "পুতুল বিয়ে"র সামগ্রিক চিত্রের উপস্থাপন ছন্দে ছন্দেঃ
বর্ষশেষের সংক্রান্তিতে
পুতুল বিয়ের লগ্ন ।
পুতুল যাদের পুত্রকন্যা
চিন্তায় তারা মগ্ন ।।
রিতার চোখে ঘুম নেই
মেয়ে রিঙ্কুর জন্য ।
মাসেক কাল বয়েস হলো
জামাইতো নগণ্য ।।
চলছে রীতা জামাইর খোঁজে
সীতার সনে দেখা ।
ভাবনা শুনে বললে সীতা
"এইতো বিধির লেখা ।।
পিন্টুর মোর বয়স হলো
বউ আনতে চাই ।
তোমার রিঙ্কু আসলে ঘরে
আমার চিন্তা নাই ।।"
রইলো কথা পাকাপাকি
চললো দোহে ঘর ।
মায়ের কাছে বললে রীতা
বড়ই সুখবর ।।
সাজো সাজো রব পড়েছে
কনের বাড়ির কাজ ।
একটু যদি ত্রুটি থাকে
পাবো বড় লাজ ।।
রসগোল্লা, জিলিপি আর
পায়েস মিষ্টি দই ।
সফরীকলা নারিকেল
পান সুপারি খই ।।
আয়োজনের সমাপনে
প্রতীক্ষার পালা ।
ঘন ঘন পথ চাওয়া
কনের মার জ্বালা ।।
আসবে কবে বরের পক্ষ
এতো দেরী কেন ?
আয়োজন আর বিয়ের লগ্ন
মাটি হয় না যেন ।।
ঘরে বাইরে আনাগোনা
ধৈর্য নাহি রয় ।
টেলিফোনে বরের মায়ে
ডেকে রীতা কয় ।।
"বরকে নিয়ে আসছিস না যে
কেমন বেয়ান তুই ।
আয়োজন সব নষ্ট হবে
পঁচে যাবে দই ।।"
"এইতো আমি এলেম বলে
দেরী হলো কই ?
বরযাত্রী গীতা, মায়া
আসতে বাকী সই ।।"
_ _ _ _ _ _
_ _ _ _ _ _
জামাই এলো বিয়ে হলো
উলু দিলো সবে ।
হৈ হুল্লোড় কানে তালা
বিয়ে বাড়ির রবে ।।
মাতা এসে হেসে হেসে
বলেন "বসো খেতে ।
বরের পক্ষ কনের মা
সবাই আসন পেতে ।।"
খাওয়া হলো যথারীতি
বাজলো বিদায় সুর ।
প্রাণ উড়ে যায় কনের মায়ের
কি হবে রিঙ্কুর ।।
কেমন করে ওকে ছেড়ে
একলা ঘরে রই ।
আরতো আমার পুতুল নেই
এক রিঙ্কু বই ।।
সীতা এসে বুঝায় তারে
কেঁদোনা বেয়ান ।
বিয়ে হলে যেতে হবে
এইতো হলো আইন ।।
শোভাযাত্রায় যেতে দাও
প্রতিনিধির সাজে ।
বিশ্ব নবদম্পতির
কল্যাণ-সভা মাঝে ।।
ফুল-মালা দিয়ে ।
হুইসেল দিয়ে ছাড়লো জাহাজ
বর-বধূ নিয়ে ।
…………………………………………………………………………………….