ছোট মেয়ে থেকে বয়স্কা মহিলাদের মধ্যে যে খেলাটি সবচেয়ে জনপ্রিয় ছিল, তা হলো 'টটা' বা ফুলঘুঁটি। অনেকে এই খেলাকে পাঁচঘুঁটি খেলাও বলে থাকেন। পাঁচটি পাথরের নুড়ি দিয়ে 'এক একে এক', 'দুই একে দুই' ইত্যাদি ছড়া কেটে পয়েন্ট বানানোর ক্রিয়াটির মধ্যে শুধুমাত্র খেলার আনন্দই সীমিত ছিল না, নুড়িগুলো ওপরের দিকে ছুড়ে ভারসাম্য এবং সময়ের অনুপাত ঠিক রেখে মাটি থেকে নুড়ি কুড়িয়ে একই সাথে ওপরে ছোড়া নুড়িগুলো লুফে নেওয়ার মধ্যে এক অশিক্ষিত পটুত্ব ও সৌন্দর্যবোধের পরিচয় মেলে। তাছাড়া অক্ষর জ্ঞানহীন গ্রাম্য মহিলা বা ছোট ছোট স্কুল ছাত্রীদেরচ এক থেকে কুড়ি পর্যন্ত গণনাও অক্লেশে শেখা হয়ে যায়। স্থানভেদে ছড়াটির অনেক পাঠান্তর আছে। যেমন, -
ফুল ফুল ফুলটি/ দুইয়ে দুলটি / তিনে তেলটি /
চাইরে চৌচিকাটা / পাচে পানর বাটা /
ছয়ে ষষ্ঠি / সাতে সালু / আটে আলু /
নয়ে নবঘণ্ট / দশে কড়কড়ি ঘণ্ট /
এগারোয় একটি / বারোয় ঝাপটি /
তেরোয় তেরচি কাটা / চৌদ্দয় রুপি আটা /
পনেরোয় পানর খিল্লি / ষোল্লয় ষষ্ঠী তুলি /
সতেরোয় সাজের মাটি / আঠারোয় আমের আটি /
উন্নিশে মেষ / কুড়কুড়ি আতে শেষ।
কোন কোন স্থানে ছড়াটি আবার ভিন্ন রূপেও বলা হয়। যেমন, -
ফুল ফুল ফুলটি / একে দুলটি / তেলটি /
জামন জামন জামনটি / একে দুর্জামনটি /
সুসম সুসম সুসমটি / একে দুর্সুসমটি /
বকুল বকুল বকুলটি / একে দুর্বকুলটি /
তার্জম তার্জম তার্জমটি / একে দুতার্জমটি /
মন্তন মন্তন মন্তনটি / একে দুর্মন্তনটি /
সাচ্চা বাঘের বাচ্চা সাচ্চাটি /
নন্ট কাটাঘন্ট (স্থানভেদে- কড়িঘণ্ট) নন্টটি /
সাড়ের গুটি বদলে / গুটি কাটা কে বলে /
পঞ্চে পাখা / মুখে ঢাকা / ছয়ে রিকা /
সাতে সালু / আটে আলু / নয়ে নুরা /
দশে ঝুরা / এগারোয় একটি /বারোয় ঝাপটি /
তেরোয় তেরচি কাটা / চৌদ্দয় রূপার বাটা /
পনোরোয় পানর খিল্লি / ষোল্লয় ঝাপটি তুলি /
সতরোয় সতরো ইঞ্চি / আঠারয় বাশর কঞ্চি /
উন্নিশে মেষ / বিশে অইলো শেষ।
'ইকড়ি-মিকড়ি' খেলাটিও পছন্দ ছিল তার মজার ছড়াটির জন্য। আঙ্গুল লুকিয়ে সেই খেলাটির ছড়াতেও স্থানভেদে রূপান্তর লক্ষ করা যায়। যেমন, -
ইকড়ি মিকড়ি চাম চিকড়ি /
চামর আগা মজুমদার /
মজুমদারর হাড়ি কুড়ি /
দুয়ারো বইয়া চাউল কুড়ি /
চাউল কুটতে অইলো বেলা /
ভাতো পইল্ল মাছি / কুদাল দিয়া চাছি /
কুদাল অইলো বুথা / খেক শিয়ালর মাথা।
রূপান্তরে ছড়াটি এভাবেও পড়া হয়, -
ইকড়ি মিকড়ি ঘাঘের গুটি /
চাউল চানা মট মটি /
দাদিয়ে আইনছইন বুয়াল মাছ /
বউয়ে দিলা খুলা /
আরিয়ে পরিয়ে জুকাড় দেইন /
বউর পেটো উলা।
হাসি-তামাসার মধ্য দিয়েই ছড়াটির সৃষ্টি এবং খেলাটিও বেশ আনন্দদায়ক।
…………………………………………………………………………………..