মনসা পূজা
বামের প্রায় প্রতিটি বাঙালি হিন্দু পরিবারে সর্পের দেবী মনসার পূজা
হয়।
উৎসবটি সাধারণত শ্রাবণ ভাদ্র মাসে অনুষ্ঠিত হয়। ভক্তরা মনসা দেবীকে তুষ্ট করতে এবং তাঁর আশীর্বাদ পেতে বিস্তারিত আচার অনুষ্ঠান করেন। দেবীকে দুধ, ফল, ফুল, মিষ্টি নিবেদন করা হয়। পূজার মাসে "মনসা মঙ্গল" পাঠ করা হয়। বিখ্যাত বাংলা লোককাহিনী "মনসা মঙ্গল" মনসা পূজার সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। বেহুলা এবং লখিন্দরের গল্প প্রায়ই মনসা পূজা উদযাপনের সময় অভিনীত হয়।
সর্প
ভয় মানুষের সহজাত । এই সর্প বা নাগেরা শীতকালে মাটির গর্তে বাস করে কিন্তু গ্রীষ্মে বেরিয়ে
এসে যত্র তত্র বিচরণ করতে থাকে ।এদের উপদ্রবে ভীত মানুষ নাগমাতা মনসার শরণ নেয় । তাই
শ্রাবনের “ নাগ পঞ্চমী” তিথিই মনসা পূজার জন্য
প্রশস্ত।
গণেশ চতুর্থীঃ
গণেশ চতুর্থী একটি হিন্দু উৎব যা প্রজ্ঞা, সমৃদ্ধি এবং বাধা অপসারণের দেবতা গণেশের জন্মকে সম্মান জানাতে উদযাপিত হয়। গণেশ চতুর্থী হিন্দু চান্দ্র মাসের ভাদ্র মাসের চতুর্থ দিনে (চতুর্থী) বামে পালিত হয়, যা সাধারণত গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার অনুসারে আগস্ট এবং সেপ্টেম্বরের মধ্যে পড়ে। উৎসবটি সাধারণত দশ দিন ধরে চলে।হিন্দু পুরাণ ও সংস্কৃতিতে গণেশ চতুর্থীর অপরিসীম তাৎপর্য রয়েছে ।ভগবান শিব এবং দেবী পার্বতীর প্রিয় পুত্র ভগবান গণেশকে জ্ঞান, সমৃদ্ধি এবং নতুন করে শুরুর দেবতা হিসাবে পূজা করা হয়। কোনো নতুন উদ্যোগ বা ব্যবসা শুরু করার আগে তাঁর আশীর্বাদ চাওয়া হয়। তিনি সিদ্ধিদাতা । যে
কোন দেব দেবীর পূজায় সর্বাগ্রে গনেশের উদ্দেশ্যে
পূজা প্রদান হিন্দুদের এক বিশেষ রীতি ।নববর্ষের শুভারম্ভে ,দোকানের হালখাতা গনেশ পূজার
মাধ্যমেই শুরু করা হয়।
কৃষ্ণ জন্মাষ্টমীঃ
কৃষ্ণ জন্মাষ্টমী হল ভগবান বিষ্ণুর অন্য রূপ । ভগবান কৃষ্ণের জন্ম স্মরণে উদযাপিত একটি উৎসব।
ভাদ্র
মাসের অষ্টমী তিথিতে
কৃষ্ণ জন্মাষ্টমী পালন করা হয়।
কৃষ্ণ জন্মাষ্টমী বামের হিন্দুদের জন্য অপরিসীম ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক তাৎপর্য বহন করে। ভগবান কৃষ্ণ, প্রেম, জ্ঞান এবং করুণার ঐশ্বরিক অবতার হিসাবে সম্মানিত,
চিরন্তন সত্যের প্রতীক হিসাবে পূজিত। তাঁর জন্ম
আধ্যাত্মিকতা ও জ্ঞা নার্জনের একটি নতুন যুগের সূচনাকে নির্দেশ করে বলে বিশ্বাস করা হয়।
জন্মাষ্টমীর দিন মধ্যরাত্রে
জন্মজয়ন্তী পালিত হয় । পরদিন নন্দোৎসব ।সারাদিন ব্যাপী কৃষ্ণলীলা কীর্তন
, কৃষ্ণ পূজা, প্রসাদ বিতরণের.মাধ্যমে উৎসব পালন করা হয় ।
বাম হিস্ট্রি ব্লগ আপনাদের আন্তরিক সাড়া ও উৎসাহে ক্রমশ সমৃদ্ধ হচ্ছে। অত্যন্ত আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে, এ পর্যন্ত ১২১৪৭ বার পাঠকরা ব্লগটি পরিদর্শন করেছেন।
যারা বামের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি সম্পর্কে আগ্রহী, তাঁদের কাছে অনুগ্রহ করে ব্লগটির লিংকটি শেয়ার করুন:bam-history.blogspot.com
এছাড়াও, ব্লগের Comment বিভাগে আপনাদের মূল্যবান মতামত, পরামর্শ ও প্রতিক্রিয়া জানালে আমরা অত্যন্ত উৎসাহিত হব।
আপনাদের সহযোগিতা ও ভালোবাসাই আমাদের অনুপ্রেরণা।
ধন্যবাদান্তে,
বাম হিস্ট্রি ব্লগ