বিয়েবাড়ীর লোক আমাদেরকে অভ্যর্থনা জানায়। আমরা ভাগাবাজারের মধ্য দিয়ে কিছুদূর হেঁটে মিরজান আলী লস্করের বাড়িতে পৌঁছলাম যেখানে আমরা বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে পরের চার দিন কাটাব। ভাগাবাজার বনগ্রাম গ্রামের মাঝখানে অবস্থিত। ভাগাবাজার বামের দক্ষিণ অংশের গ্রামবাসীদের জন্য সাপ্তাহিক বাজার হিসেবে কাজ করত এবং ধলাইবাজার উত্তর বামের গ্রামবাসীদের জন্য বাজারের স্থান হিসেবে কাজ করত।
সেই
সময়ে ভাগবাজার
একটি ছোট সপ্তাহিক
গ্রামীণ বাজার
ছিল যেখানে
কিছুমাত্র স্থায়ী
দোকান ছিল । বাজারটি সপ্তাহে
নির্ধারিত বাজারবার -
শনিবার এবং মঙ্গলবার দিনগুলিতে
উৎজীবিত হয়ে উঠত ।এই দুই বাজারবারে
শিলচর এবং ধলাইবাজার থেকে ব্যবসায়ীরা কাঁচামাল
কিনতে এবং পণ্য বিক্রি
করতে আসতো।
গ্রামবাসীরা লুঙ্গিএবং
ধুতি পরে তাদের
শস্য,সব্জী,
ফলমূল, ডিম, মুরগি, ছাগল এবং গরু (মঙ্গলবারে) বিক্রি
করতে এবং প্রধানত লবণ, কেরাসিন তেল এবং কাপড় ইত্যাদি কেনার
জন্য আসত। লুসাই পাহাড়
জেলার (বর্তমানে
মিজোরাম) মিজোরা
এবং বামের
বিভিন্ন মিজো পুঞ্জির লোকেরা
মৌসুমের উপর নির্ভর করে তাদের
‘জুম’ উৎপাদিত দ্র্যব্যসামগ্রী নিয়ে আসত, যার মধ্যে
ছিল আদা,হলুদ , মরিচ, আনারস, কমলা এবং অন্যান্য
বনজ উৎপাদন
যেমন রেমা, মধু । ঐতিহ্যবাহী
পোশাক পরিহিত
মিজু পুরুষ এবং মহিলারা তাদের বড়
বড় বাঁশের
ঝুড়িতে (লখাই) তাদের জুম উৎপাদন বুঝাই করে পিঠে বয়ে নিয়ে আসত ।তখন বিদ্যুৎ ছিল না এবং সূর্যাস্তের পরে কেনাবেচা শেষ হয়ে যেত। ‘নেরার’ ছাউনি দেওাা ‘বাচইঘর’ নামে ছোট
ছোট সাময়িক
কুঁড়েঘর ছিল যেখানে দোকানদাররা
সপ্তাহে বাজার
দিনগুলিতে তাদের
পণ্য বিক্রি
করত। অন্য দিনগুলিতে এই কুঁড়েঘরগুলি খালি থাকত। সূর্যাস্তের
পরে, দোকানদার
এবং ব্যবসায়ীরা
তাদের দোকান
বাঁশের মশাল দিয়ে আলোকিত
করত।
মির্জান
আলী লস্কর ছিলেন আমার মায়ের পিসিতুতো ভাই,
এবং তার ছেলে তূর্পান আলী লস্করের বিয়েতে আমরা উষ্ণ আমন্ত্রণ পেয়েছিলাম।প্রথা অনুসারে
আমাদের বাড়ীতে ‘পান বাটা’ দিয়ে দাওয়াত দেওয়া হয়েছিল। আত্মীয়স্বজনদের বিয়েতে যোগ দেওয়া
একটি সামাজিক দায়িত্ব বলে মনে করা হত, তাই দীর্ঘ এবং কষ্ট কর যাত্রা সত্ত্বেও, আমরা অনুষ্ঠানে যোগ দিতে এসেছিলাম।
মির্জান আলী লস্করের পূর্বপুরুষরা অধিক জমি
এবং উন্নত জীবনের সন্ধানে ১৮৯০ সালের দিকে শিলচরের নিকটবর্তী ভাগাডর গ্রাম থেকে বামের বনগ্রামে
চলে আসেন। আজ, তাদের বংশধরদের একটি বড় সংখ্যা রয়েছে এবং তারা অবস্থাসম্পন্ন। বামে,
এরা ‘ছালন খারার ঘুষ্টি’ নামে পরিচিত।
মির্জান আলী লস্কর ছিলেন একজন ধনী মিরাসদার, তাই তার ছেলের বিয়ে স্বাভাবিকভাবেই
পরিবারের জন্য একটি বড় উৎসব ছিল।
কনে বামের
অনতিদূরে রুকনিপারের সিরাজ উদ্দিন মজুমদারের মেয়ে। সিরাজ উদ্দিন শিলচরের টাউন হাই
স্কুলের প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক ছিলেন। তাঁর দাদা মুন্সী মাহমুদ হোসেন মজুমদার বিংশ
শতাব্দীর প্রথম দিকে নিয়াইরগ্রাম থেকে রুকনিপারে চলে আসেন। মুন্সী মাহমুদ হোসেন মজুমদারের
ভাই মুন্সী কবির মোহাম্মদ মজুমদার একই সময়ে বামের হাওয়াইথাং গ্রামে চলে আসেন। বামের
মুন্সী কবির মোহাম্মদ মজুমদারের বংশধররা ‘ভাত খারা ঘুষ্টি’ নামে পরিচিত। এটি বরং
মজার ব্যাপার যে এই বৈবাহিক সম্পর্কটি ‘ছালন (তরকারী) খারা ঘুষ্টি ‘এবং ‘ভাত খারা ঘুষ্টির’
মধ্যে হয়েছিল।