“নানা ভাসা,নানা মত , নানা
পরিধান, বিবিধের মাঝে দেখ মিলন মহান”
বৈচিত্রময় ভারতবর্ষের আদর্শ সম্বন্ধে
কবিগুরুর এই মহা মুল্যবান মন্ত্যবটি মূর্তিমান
সত্য হয়ে পরিস্ফুট হয়েছে আমাদের এই বাম অঞ্চলে
।বাম অঞ্চলে বহু ভাষাভাষী মানুষ তাদের পরম্পরাগত পোষাক পরিচ্ছদ আর সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য নিয়ে পাশাপাশি বসবাস করে আসছেন ,কারো স্বাধিকারে অন্য
কেউ হস্থক্ষেপ করেনা ।তথাপি কালের প্রভাব থেকে
কেউই মুক্ত হতে পারে না ।তাই দিনে দিনে সরা
পৃথিবী ব্যাপী চলছে ভাষার সংমিশ্রণ । সম্ভবত
আজকের পৃথিবীতে সভ্যতার সংস্পর্শে আসা এমন কোনোও ভাষা নেই ,যা নির্ভেজাল ভাবে টিকে আছে ( জরোয়াদের
মত আদিবাসী ছাড়া ) । তবে কোথাও কোথাও এই মিশ্রণ আগ্রাসী রূপ ধারণ করে অপর ভাষাকে নিশ্চিহ্ন
করে দেবার পথ অনুসন্ধান করছে ।ভারতবর্ষের প্রতিটি ভাষায়,আজ অন্য ভাষার ,বিশেষ করে হিন্দি , আর ইংরেজী ভাষার প্রভাব খুব
বেশি পরিলক্ষিত হয় । মানুষের সাধারণ কথাবার্তার
মধ্যে হুট করে হিন্দি কিংবা ইংরেজী প্রবেশ
আজকাল জল ভাত হয়ে গেছে । বাংলার উপর ইংরেজীর
প্রভাব এমন পর্যায়ে পৌচেছে যে
বাংলার অস্তিত্ব সঙ্কট নিয়ে ভাষাবিদেরা চিন্তায় পড়ে গেছেন ।
বাংলার বাবা- মা আর আব্বা আম্মাকে
কবেই ঘর ছাড়া করে দিয়েছে পাপা- মাম্মী । ইদানিংকালে
দাদা দিদিকেও ব্রো আর সিসি তাড়া করে বেডাচ্ছে। সম্পর্কের নিবিড় মাধুর্য তো সিকেয় উঠেছে ভিন্ন ভাষার প্রভাবে । ।ফুল কাকা ,রাঙ্গা পিসি ,ভালো জেঠু
, সোনা মামা , মিষ্টি মাসি সবাই তো একসারিতে এসে আংকল আর আন্টি হয়ে বসে আছেন ।এই আগ্রাসন থেকে বাদ যায়নি বামাষ্ণলের
প্রচলিত কথ্য ভাষাও । আসামের বরাক উপত্যকা এবং বাংলাদেশের সিলেট অঞ্চলের প্রচলিত বাংলার
মধ্যে যে মাধুর্য ও গভীরতা ছিল তাও আজ বিলুপ্তির পথে । দিনে দিনে এ ভাষার অবক্ষয় ঘটছে অত্যন্ত দ্রুত গতিতে । বাংলাদেশের জনৈক ভাষাবিদ
যিনি বর্তমানে পশ্চিমী কোনোও দেশের বাসিন্দা , কিছুদিন আগে বদরপুরে এক জনসভায় আক্ষেপ করে বলেছিলেন ,আমাদের এতদঞ্চলের
একটামাত্র শব্দ দিয়ে , যে কথাটা বুঝানো যায় , অন্য ভাষায় বলতে গেলে তিন লাইনের একটা
বাক্য দিয়ে তা যথার্থ ভাবে বুঝানো যায় না । দৃষ্টান্ত রূপে তিনি “ উষ্টা “ শব্দটিকে উপস্থাপিত করেছিলেন ।
…………………………………………………………