রাম নবমীঃ
ভগবান বিষ্ণুর সপ্তম অবতার এবং মহাকাব্য রামায়ণের নায়ক ভগবান রামের জন্মের স্মরণে বামে রাম নবমী পালন করা হয়। চৈত্র মাসের বাসন্তী পূজার মহা নবমী তিথিই রাম নবমী । রাম নবমী হিন্দুদের জন্য অপরিসীম ধর্মীয় তাৎপর্য ধারণ করে, কারণ এটি ভগবান রামের ঐশ্বরিক জন্মকে চিহ্নিত করে, যিনি ধার্মিকতা, পুণ্য এবং নৈতিক সততার প্রতীক হিসাবে সম্মানিত। তাঁর জীবন ও শিক্ষা বিশ্বজুড়ে লক্ষ লক্ষ ভক্তদের অনুপ্রাণিত করে চলেছে। রামনবমী উদযাপনের জন্য ভক্তরা
ব্যাপক প্রস্তুতি নেন। বাড়িঘর, মন্দির এবং রাস্তাগুলি উৎসবের সাজসজ্জায় এবং ফুলের
সাজে সজ্জিত হয়। মন্দিরে ভগবান রাম, দেবী সীতা, লক্ষ্মণ এবং ভগবান হনুমানের মূর্তি
স্থাপন করা হয় এবং ফুল ও মালা দিয়ে সজ্জিত করা হয়। অনেক ভক্ত রামায়ণ পাঠ বা শোনার
মাধ্যমে রাম নবমী পালন করেন। এছাড়াও গল্পকার বা পণ্ডিতরা সমবেত শ্রুতাদের সামনে মহাকাব্য
রামায়ণ বর্ণনা করেন।নিজের সন্তান যে্ন মর্যাদা- পুরুষোত্তম রামচন্দ্রের মতো
আদর্শবান চরিত্রের অধিকারী হয় -প্রত্যেক পিতামাতার
এটাই থাকে ঈশ্বরের প্রতি প্রার্থনা ।.
সরস্বতী
পুজাঃসরস্বতী জ্ঞানের অধিষ্ঠাত্রী দেবী
। তিনি বিদ্যাদায়িনী । তাই বামের প্রতিটি হিন্দু পরিবারের শিক্ষার্থীরা
দেবী সরস্বতীর পূজা করে থাকেন ।দেবী শ্বেত
পদ্মাসনা,শ্বেত হংস বাহনা,বীণাপুস্তক ধারিণী। শ্বেতবর্ণ জ্ঞান,পবিত্রতা ও শান্তির
প্রতীক। মাঘমাসের শুক্লা পঞ্চমী তিতিতে দেবীর আরাধনায় মেতে উঠে ছাত্র
সমাজ।স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী,
শিক্ষকবৃন্দ ছাড়াও সঙ্গীত শিক্ষার্থীরা ও
গভীর শ্রদ্ধা ও ভক্তির সঙ্গে দেবী সরস্বতীর
উপাসনা করে তারঁ আশীর্বাদ কামনা
করেন।ব্যক্তিগত ভাবে অথবা অনেকে মিলে
সম্মিলিত ভাবেও দেবীর আরধনা করা হয় ।
রক্ষা বন্ধনঃ
ভাই এবং বোনের মধ্যে বন্ধন উদযাপন করতে রক্ষা বন্ধন বা রাখি উৎসব পালন করা হয়। শ্রাবণ মাসের পূর্ণিমা তিথিতে (ঝুলন পূর্ণিমার দিনে ) রক্ষা বন্ধন পালন করা হয়।
সকল প্রতিকূলতা থেকে তার বোনকে রক্ষা করার জন্য একজন ভাইয়ের প্রতিশ্রুতি হল রক্ষা বন্ধন।রক্ষা বন্ধনের দিনে, বোনেরা ভাইদের প্রতি তাদের ভালবাসা, শ্রদ্ধা এবং তাদের মঙ্গলের জন্য প্রার্থনার প্রতীক হিসাবে ভাইদের কব্জিতে "রাখি" নামক একটি পবিত্র সুতো বেঁধে দেয় । বিনিময়ে, ভাইরা তাদের বোনদের উপহার, মিষ্টি এবং আশীর্বাদ প্রদান করে, তাদের সারা জীবন রক্ষা এবং সমর্থন করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে।
ভ্রাতৃ দ্বিতীয়া বা ভাইফোঁটাঃ
রাখী
বন্ধন আর ভ্রাতৃ দ্বিতীয়া-এই দুই অনুষ্ঠানের উদেশ্য ও লক্ষ্য একই ।দীপাবলির দুই দিন
পর অনুষ্ঠিত হয় ভ্রাতৃ দ্বিতীয়া ।এই দিনটিকে যম দ্বিতীয়াও
বলা হয় । এদিন বোনেরা মৃত্যুর দেবতা যমের পূজা করে ভাইদের দীর্ঘজীবন কামনা করে । ভাইএর কপালে চন্দনের ফোঁটা পরিয়ে
তাঁরা বলেন-
“ভাইয়ের
কপালে দিলাম ফোঁটা ।
যম
দোয়ারে পড়লো কাটা ।।
যমুনা
দেয় যমকে ফোঁটা ।
আমি
দেই আমার ভাইকে ফোঁটা ।।“
যম
যমুনার দিব্যি দিয়ে বোনেরা যেমন ভাইদের জন্য
রক্ষা কবচ হয়ে দাঁড়ান ,ভাইয়েরাও তেমন সারা জীবন
বোনদের সুরক্ষা প্রদানে অঙ্গিকার আবদ্ধ হন । বোনেরা নিজের হাতে ভাইএর পছন্দের
নানা উপাদেয় খাদ্য ভাইদের খাইয়ে দেন । বিনিময়ে
ভাইয়েরা নানা উপহারে সন্তুষ্ট করেন বোনদের
।পরস্পর থেকে দূরে থাকা ভাই বোনেরা এই দিনটির জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করতে থাকেন
। ভাই বোনের মধ্যেকার মধুর সম্পর্ক এই দিনটিতে যেন আরও মধুময় হয়ে উঠে ।
ছট পূজাঃ
ছট পূজা হল বামে বসবাসকারী হিন্দুস্থানি
সমাজের একটি প্রাচীনতম এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উৎসবগুলির মধ্যে একটি
,যা সূর্য দেবতা এবং তার সহধর্মিণী ঊষা (ছঠি মাইয়া) এর উপাসনার জন্য নিবেদিত। ছট পূজা দীপাবলির ছয় দিন পরে
উদযাপিত হয়। এটি পৃথিবীতে জীবন টিকিয়ে রাখার জন্য সূর্য দেবতার প্রতি ভক্তি এবং কৃতজ্ঞতার প্রতীক। ছট পূজা একটি চার দিনব্যাপী উৎসব, যে সময়ে ভক্তরা কঠোর আচার ও উপবাস পালন করে। তারা রুকনি নদীতে ডুব দেয় এবং উদয় ও অস্তগামী সূর্যের উদ্দেশ্যে প্রার্থনা করে। আচারগুলির মধ্যে রয়েছে স্নান, উপবাস এবং দীর্ঘ সময় ধরে জলে দাঁড়িয়ে প্রার্থনা করা। ছট পূজার কেন্দ্রবিন্দু হল সূর্য দেবতার পূজা। ভক্তরা সূর্যোদয় এবং অস্তগামী সূর্যের কাছে প্রার্থনা করে, সূর্যের দ্বারা প্রদত্ত জীবন, শক্তি এবং ভরণপোষণের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে।ছট পূজার পদ্ধতিটি সাস্থ্য বিজ্ঞান সম্মতও বটে ।
........................................................................................................................................
প্রিয় পাঠকমণ্ডলী,
বাম হিস্ট্রি ব্লগ আপনাদের আন্তরিক সাড়া ও উৎসাহে ক্রমশ সমৃদ্ধ হচ্ছে। অত্যন্ত আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে, এ পর্যন্ত ১২২০৬ বার পাঠকরা ব্লগটি পরিদর্শন করেছেন।
যারা বামের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি সম্পর্কে আগ্রহী, তাঁদের কাছে অনুগ্রহ করে ব্লগটির লিংকটি শেয়ার করুন:bam-history.blogspot.com
এছাড়াও, ব্লগের Comment বিভাগে আপনাদের মূল্যবান মতামত, পরামর্শ ও প্রতিক্রিয়া জানালে আমরা অত্যন্ত উৎসাহিত হব।
আপনাদের সহযোগিতা ও ভালোবাসাই আমাদের অনুপ্রেরণা।
ধন্যবাদান্তে,
বাম হিস্ট্রি ব্লগ