Monday, 26 October 2026

104.‘বামে’ আধুনিক শিক্ষার ভিত্তি স্থাপনে অগ্রণী শিক্ষকদের অবদান-1 :সাদুল্লাহ চৌধুরী সহযোগিতায় :মনমোহন সিকদারের কন্যা মিতা ব্রহ্ম ।

 মহেন্দ্র চন্দ্র সিকদার

বিংশ শতাব্দীর প্রথম দশকে দক্ষিণ বাম অঞ্চলে আধুনিক স্কুল শিক্ষার উপস্থিতি ছিল না। উনিশ শতকের শেষ দিকে এবং বিংশ শতাব্দীর প্রথম দশকে কাছাড়ের  বিভিন্ন স্থান থেকে লোকেরা এই অঞ্চলে চলে আসে। এখানকার বাসিন্দাদের মধ্যে ছিল আর্থিকভাবে দুর্বল মুসলমান, হিন্দু এবং আদিবাসী জনগণ। লোকেরা ছিল নিরক্ষর। তাঁরা আধুনিক শিক্ষার গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতন ছিলেন না ।দক্ষিণ বাম অঞ্চলে আধুনিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ছিল না।মুসলমান  শিক্ষার্থীদের ইসলামিক ধর্মীয় শিক্ষা প্রদান করার জন্য, মৌলানা আরজদ আলী চৌধুরী তাঁর রাজঘাট বাসভবনে একটি মাদ্রাসা পরিচালনা করতেন । তখনকার দিনে হিন্দু ছাত্রদের শিক্ষার জন্য দক্ষিন কাছাড়ে  কোনো  “টুল” হয়ত ছিল না ।এমন পরিস্থিতিতে  সন্তানদের আধুনিক শিক্ষা  প্রদান করা ছিল অভিভাবকদের কল্পনারও বাইরে। এমন একটি মুহূর্তে মহেন্দ্র চন্দ্র শিকদার ১৯২০ সালে চান্নিঘাঠ এল.পি. স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন। এটি ছিল কাছাড়  জেলার দূরবর্তী দক্ষিণ অংশে আধুনিক শিক্ষার সূচনা।

তিলক রাম শিকদার এবং গুণময়ী দেবীর পুত্র মহেন্দ্র চন্দ্র শিকদার  ১৯০০ সালের জুলাই  মাসে হাইলাকান্দির মনাছড়া চা-বাগানে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবা একজন চাষী এবং মাতা ছিলেন অত্যন্ত দক্ষ গৃহিনী। গুণোময়ী দেবী ছিলেন সদয় প্রকৃতির মহিলা এবং তাঁকে তাঁর নাতি-নাতনিরা ভালোবেসে “ঠাকুর দুধু” বলে ডাকতেন।

মহেন্দ্র চন্দ্র শিকদার ১৯১৬ সালে লালা মিডল ইংলিশ স্কুল থেকে তাঁর শিক্ষা সম্পন্ন করেন। পরবর্তী কালে তিনি  বামের শুকতলায়  চলে আসেন এবং ১৯২০ সালে চান্নিঘাঠ এল.পি. স্কুল স্থাপন করেন।পরবর্তী দিনে  এই স্কুলে তিনি বাংলা মাধ্যমে  চতুর্থ, পঞ্চম ও ষষ্ঠ শ্রেণী শুরু করেন এবং ১৯৩০ সালে স্কুলটি  চান্নিঘাট এম ভি স্কুল হিসাবে বিভাগীয় স্বীকৃতি পায়। তিনি প্রধান পণ্ডিতের পদে যোগ্য না থাকায়, শিক্ষা বিভাগের নির্দেশে তিনি দুই বছরের মধ্যে নর্মাল স্কুল পাস করেন। ১৯৩২ সালে তিনি শিলচর নর্মাল স্কুল থেকে নর্মাল পাস করেন এবং চান্নিঘাট এম ভি  স্কুলের হেড পণ্ডিত হন যেখানে তিনি ১৯৫৫ সাল পর্যন্ত কৃতিত্বের  সঙ্গে শিক্ষাদান করে অবসর গ্রহণ করেন। এরপর তিনি হাওয়াইথাং  এম. ই স্কুলে প্রধান পণ্ডিত হিসেবে যোগ দেন এবং ১৯৬০ সাল পর্যন্ত তাঁর মূল্যবান সেবা প্রদান করেনএবং  ১৯৮৫ সালে তিনি  শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন ।

তিনি ছিলেন একজন অসাধারণ নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষক  এবং মনপ্রাণ দিয়ে শিক্ষা বিস্তারের জন্য কাজ করে গেছেন । সেই সময়ে, নারী শিক্ষাকে অপ্রয়োজনীয়  বলে মনে করা হত এবং পরিবারগুলি খুব অল্প বয়সে তাদের মেয়েদের বিয়ে দিতে পছন্দ করত। ছেলেদের স্কুলে পাঠানোর পরিবর্তে প্রায়ই খামারের কাজের জন্য তৈরি করা হত। এই পরিস্থিতিতে, পণ্ডিত মহেন্দ্র সিকদারের জন্য নতুন স্কুলে ছাত্রদের আকৃষ্ট করা একটি কঠিন কাজ ছিল। মুসলিম পরিবার থেকে ছাত্রদের স্কুলে আনা  আরও বেশি কঠিন কাজ ছিল, কারণ বামের মুসলমানরা সাধারণত স্কুল শিক্ষার প্রতি বিরূপ ছিল এবং তার পরিবর্তে মাদ্রাসা শিক্ষায় মনোনিবেশ করেছিল।

পণ্ডিত সিকদার তৃণমূল পর্যায়ে অক্লান্ত পরিশ্রম করে, অভিভাবকদের তাদের সন্তানদের স্কুলে পাঠাতে রাজি করান। এমনকি তিনি রাজঘাটের মওলানা আরজদ আলী চৌধুরীকে তার বড় ছেলে মাহমুদ হাছন চৌধুরী, যিনি একজন মাদ্রাসার ছাত্র ছিলেন, তাকে স্কুলে ভর্তি করতে রাজি করান। এই সিদ্ধান্ত একটি দিকনির্দেশক ঘটনা হিসাবে প্রমাণিত।. রাজঘাটের অন্যান্য মুসলমান গ্রামবাসীরা যখন দেখল যে একজন মওলানা তাঁর ছেলেকে স্কুলে পাঠিয়েছেন, তখন তাদের অনেকেই তা অনুসরণ করেছিল। এটি রাজঘাটের মুসলমানদের মধ্যে আধুনিক শিক্ষার সূচনা করে, যা আজও অব্যাহত রয়েছে।

 (ক্রমস)

……………………………………………………………………

Sunday, 25 October 2026

103 .স্বাধীনতা সংগ্ৰামী মোঃ সাজিদরাজা মজুমদারের সংক্ষিপ্ত আত্মজীবনী মোঃ সাজিদরাজা মজুমদার

 ১৯০৪ ইংরেজী সনে কাছাড় জেলার হাইলাকান্দি মহকুমার সৈদবন্দ গ্ৰামের এক সম্ভ্ৰান্ত বংশে আামার জন্ম হয়। আমার প্ৰপিতামহ ‘পাখী’ ও ‘মুল্লা’ এই দুইটি রাজ উপাধিতে বিভূষিত ছিলেন। আমার পিতা মকবুল মিয়া মজুমদার, বংশবৃদ্ধির দরুণ অভাবগ্ৰস্থ হইয়া আমার ৫ বৎসর বয়সে সোনাই থানার অন্তর্গত বাম অঞ্চলের ইসলামাবাদ গ্ৰামে (বর্তমান ঠিকানায়) জমি ক্ৰয় করতঃ চলিয়া আসেন।

১৯১৬ ইংরেজীতে পাঠশালা পরীক্ষায় বৃত্তি লাভ করতঃ পুনরায় হাইলাকান্দি মহকুমার ১নং আলগাপুর এম.ভি. স্কুলে ভর্তি হইয়া মধ্য শিক্ষা লাভ করি।

১৯১৯ ইংরেজীতে ১৫ বৎসর বয়সে মধ্যবঙ্গ পরীক্ষায় পাশ করিয়া হাইলাকান্দি হাইস্কুলে চতুর্থ শ্ৰেণীতে ভর্তি হই। তখন দেশবরেণ্য কামিনি কুমার চন্দ প্ৰভৃতি নেতৃবৃন্দের মুখে জালিয়ানওয়ালাবাগের হত্যাকাণ্ড ও কুখ্যাত ডায়ারের পাঞ্জাব নির্যাতন প্ৰভৃতি কাহিনী শুনিতে পাইয়া ১৯২০ ইংরেজীর জাতীয় সপ্তাহে স্কুল বয়কট করতঃ অসহযোগ আন্দোলনে গ্ৰামাঞ্চলে জনসেবার মাধ্যমে বিদেশী বর্জনের জন্য জাতীয় কংগ্ৰেসের প্ৰচার কার্যে আত্মনিয়োগ করি।

১৯২২ সালের ১লা এপ্ৰিল কাছাড়ের তদানিন্তন ডেপুটি কমিশনার ডেভিড ওয়াকারের বিচারে, বিপ্লবি  বলিয়া ‘খদ্দর’ নামে রাজনৈতিক বন্দী জীবন বরণ করি। (DC – তোমার নাম কি? উঃ – খদ্দর, DC –তোমার পিতার নাম কি? উঃ – চরখা, DC – তোমার বাড়ি? উঃ – কাপাসবন)

তখন শিলচর জেলে গৌহাটি আগত বন্দী মাননীয় তরুণ রাম ফুকন, বিষ্ণুরাম মেধি, ত্ৰিগুণা চরন বড়ুয়া, কালী প্ৰসাদ বড়ুয়া, নিধিরাম দাস, মৌঃ মহি উদ্দিন আাহমদ ও কাছাড়ের স্বনামধন্য সনৎ কুমার দাস, সতীন্দ্ৰ মোহন দেব, অশোক কুমার চন্দ, পেকুরাম কানু, মোঃ গোলেজর আলী মজুমদার, মৌঃ মশদ আলী বড়বুইয়া, মৌঃ ইব্ৰাহিম আলী, মৌঃ উমর আলী, মৌঃ মুহছিন আলী, মৌঃ হামিদুর রাজা, মৌঃ আলিম উদ্দিন, কাজী রহমান বক্স প্ৰভৃতি ৪২জন রাজনৈতিক বন্দীর সঙ্গে কারা কষ্ট ভোগ করি। জেল থেকে মুক্তি পাইলে পুলিশের নজরবন্দী থাকিতে হয়।

১৯২৬ সালে নিরুদ্দিষ্ট হইয়া শিবসাগর জেলার জোড়হাট শহরের উপকন্ঠে বিভিন্ন গ্ৰামাঞ্চলও নাহারণি বাগান প্ৰভৃতি স্থানে ও পরে দরং জেলার তেজপুর শহরের নিকটবৰ্তী গ্ৰামাঞ্চল ও বড়লৈ, কাকুলা, ইটাখোলা, চতিয়া, বিশ্বনাথ চারিআলি ও বিশ্বনাথ ঘাট, মাজুলি চর, পাবৈ, প্ৰতাপগড় প্ৰভৃতি চাবাগানে এক বৎসর আত্মগোপন করিয়া গঠনমূলক কাজে ব্যাপৃত থাকি। ঐ সময়ে আমার সন্ধান না পাওয়ায় আমার পিতার ১২০ (এক শত কুড়ি) টাকা জরিমানা হয়।

১৯২৭ সনের মধ্যভাগে বাড়ীতে ফিরিয়া চরখা ও তাঁতের মাধ্যমে গঠনমূলক কর্ম্মরত থাকিয়া কংগ্ৰেসের এক কর্ম্মী দল গঠন করতঃ ১৯৩০ সনে আত্মপ্ৰকাশে সমর্থ হই। উক্ত কর্ম্মী দলে ছিলেন কৃষ্ণজীবন পুরকায়স্থ, বিনোদ বিহারী দাস, গৌরমনি নাথ, অনন্ত কুমার দাস, বি.এল, দেবেন্দ্ৰ লাল চৌধুরী, অশ্বিনী কুমার দত্ত, মৌঃ হরমুজ আলী, মোঃ তুতিরাজা বড়ভুইয়া প্ৰমুখ।

১৯৩৫ ইংরেজী পর্যন্ত জনসেবার সাহায্যে সংগঠন গড়িয়া তুলিয়া ১৯৩৬ সনে ধলাইতে এক শক্তিশালী প্ৰাইমারি কংগ্ৰেস গঠন করি। তখন আমাকে সভাপতির পদে বরণ করা হয়। ঐ সময়ে আমি শিলচর মহকুমা কংগ্ৰেস কমিটির উপ সভাপতি ও কাছাড় জেলা কংগ্ৰেস কমিটর সদস্য নির্বাচিত হইয়াছিলাম।

১৯৩৮ সনে কংগ্ৰেসের সর্ব্বাঙ্গীন সুযোগ গ্ৰহণের জন্য পদ মর্যাদা বিসর্জন দিয়া সেক্ৰেটারীর কার্যভার গ্ৰহণ করি।

১৯৪০ সালে কাছাড়ের নির্বাচিত প্ৰতিনিধি হিসাবে আমি ও ধীরেন্দ্ৰ চন্দ্ৰ পুরকায়স্থ রামগড় কংগ্ৰেসে যোগদান করি। তখন আমি প্ৰাদেশিক কংগ্ৰেস কমিটির (বিপিসিসি) সদস্য নির্বাচিত হইয়াছিলাম।

গত যুদ্ধে কংগ্ৰেস সত্যাগ্ৰহ ঘোষণা করায় আমি ঐ যুদ্ধে  কোন রূপ অংশগ্ৰহণে অর্থোপার্জনে বিরত থাকি।  যুদ্ধের  প্ৰয়োজনে দ্ৰব্যমূল্য বর্দ্ধিত হওয়ায় পারিবারিক খরচ বৃদ্ধির কারণে বহু ঋণগ্ৰস্থ হইয়া আমার পিতা জমি বিক্ৰী করিতে বাধ্য হন। ১৯৪৬ সনে তুমুল মুসলিম লীগ আন্দোলনে আমি আপন আত্মীয় স্বজন ও সহকর্ম্মীগণসহ লীগপন্থী মুসলিম কর্তৃক বিশেষভাবে লাঞ্চিত হইয়াও জমিয়তপন্থী দল গঠনে কংগ্ৰেসের সঙ্গে জড়িত থাকি। ঐ সময়ে আমার সহকর্ম্মী দলসহ লীগপন্থীদের দ্বারা বিভিন্ন সময়ে নানাভাবে আক্ৰান্ত হইয়া দুইবার ফৌজদারি মামলা করিতে বাধ্য হই। মোঃ হরমুজ আলী, মৌঃ ওজির আহমদ,  মৌঃ আব্দুল হামিদ, মৌঃ আম্বর আলী, মৌঃ হবিব আলী, মৌঃ মসদ আলী প্ৰভৃতি আমার সহকর্ম্মী ছিলেন।

শ্ৰীহট্ট গণভোটে আমি মৌঃ ওজির আহমদ, মৌঃ আব্দুল হামিদ, মৌঃ হরমুজ আলী, আনফর আলী চৌধুরী, আলা উদ্দিন, আছদ্দর আলী সহ করিমগঞ্জ, সদর সিলেট, বালাগঞ্জ, জয়ন্তিয়াপুর প্ৰভৃতি বিভিন্ন স্থানে কংগ্ৰেসের প্ৰচার কার্য করায় আমার সহকর্ম্মীগণ বিভিন্ন কেন্দ্ৰে ও রাস্থায় এবং গাড়ীতে বিশেষভাবে মাইর খাইতে হয়। এমনকি আামাদের প্ৰাণনাশের চেষ্টারও তাহারা ত্ৰুটি করে নাই।

১৯৪৭ ইং ১৫ আগষ্ট কাবুগঞ্জে আমি সোনাই থানা সম্মেলনে সভাপতি পদে নির্বাচিত হইয়াছিলাম।শৈশবে মাতৃ বিয়োগ জনিত লাঞ্চনা, বাল্য ও নব যৌবনে মুসলিম নির্যাতন ও বার্দ্ধক্যে অর্থ, বস্ত্ৰ, অন্নকষ্ট– ইহা আমার জীবনের পরিহাস। তথাপি আমার জীবনের শেষ নিশ্বাস পর্যন্ত আমার জীবনের ব্ৰত কংগ্ৰেসের আদর্শ ও বাপুজীর নীতি নিয়া থাকিতে কৃত সংকল্প আছি – জয় হিন্দ।

…………………………………………………………………………………

লেখকপরিচিতিঃ-
বামের ইসলামাবাদ নিবাসী  সাজিদরাজা মজুমদার ১৯৬১ সালে মারা যান। তাঁর আত্মজীবনীমূলক রচনা খাইরুল আমিন বড়ভুইয়া (ইসলামাবাদের স্বাধীনতা সংগ্রামী মৌলানা মসদ আলী বড়ভুইয়ার পুত্র) ২০১৮ সালে সাজিদরাজা মজুমদারের বাড়ির একটি কাঠের বাক্স থেকে দৈবক্রমে  উদ্ধার করেন। এর আগে পর্যন্ত এটি কারোই জানা ছিল না।

…………………………………………………………

 

Saturday, 24 October 2026

102.বিলুপ্তির পথে বামের কথ্যভাষার কিছু শব্দ -12:জিয়াউদ্দিন চৌধুরী

 

বাগধারা রূপে কিছু বাক্য বা বাক্যাংশ


·     অ’টায় আর ক’টায় – সামনাসামনি পড়ে গিয়ে একেবারে অপ্রস্তুত অবস্থা

·     অআইল ছালোনো নুন – শেষ হওয়া কাজে বাধা সৃষ্টি করা

·     আগে আল্লা বাদে রসুল – আল্লা রাসুল্ কে সম্বরণ করে

·     আছরবির গুটা – দুষ্প্রাপ্য সামগ্রী

·     আু’টু পানিত হাতার – তুচ্ছ কাজ দুরুহ হওয়া

·     আ’তু খলই – যথেচ্ছ ব্যবহারের পাত্র

·     ইনোর খের্‌ হিনো হরানি  -- শ্রম কাতরতা

·     উ’দান মাদান চিন করা – সময় আসময় বিবেচনা করা

·     এওত কাত্তি বার মাস – সারা বছর ধরে

·     এ্যটির মা পুটির মা – নগণ্য জনও

·     কিলাইয়া  কাটল্‌ পাকানি – জোর করে মতলব হাসিল করা

·     কুটাদি বাইগন পাড়া – পরোক্ষে কাজ হসিল করা

·     খাটো না মাটিত – অনিশ্চিত অবস্থান

·     খারার তলর মুরুক --  আয়ত্তাধীন

·     গাইন্‌চা পাতাইয়া বআ – ভিক্ষার জন্য হাথ পাতা

·     ঘুড়ার ঘাস কাটা – নিষ্ফল খাটুনি

·     চিলে পাটা নেওয়া – অলিক ভাবনা

·     ধান্‌দি কান মলা – কৌশলে শাস্তি দেওয়া

·     নেকিত ঢেকি – ভাল করলে খারাপ হয় এমন

·     পাড়ার তলর  ব্যাঙ – অধীনে থাকা বাধ্য ব্যক্তি

·     ভুতর বেগারি – নিরর্থক শ্রম

·     মাথার ঘাম পাও পালানি – কঠোর পরিশ্রম করা

·     রাড়ি বেটির দেশ – পৌরুষহীন এলাকা

·     লেঙ্গুড় পাইত – সিধা-সাবুদ

·     সাপে নেউলে – ভীসণ শত্রুতার সম্পর্ক

·     হকল্‌ মাতো টেপ দেওয়া – অপর ব্যক্তিগণের আলোচনায় অযাচিত মন্ত্যব্যকরণ

·     হাড়ি বারো আ’ত –ঘুরেফিরে এক