Thursday, 2 July 2026

41.বামের হিন্দু সমাজের ধর্মীয় বৈশিষ্ট ও ধর্মস্থান-6: পঞ্চমী নাথ মাজুমদার

 

রাম নবমীঃ

ভগবান বিষ্ণুর সপ্তম অবতার এবং মহাকাব্য রামায়ণের নায়ক ভগবান রামের জন্মের স্মরণে বামে রাম নবমী পালন করা হয়। চৈত্র মাসের বাসন্তী পূজার  মহা  নবমী তিথিই  রাম নবমী রাম নবমী হিন্দুদের জন্য অপরিসীম ধর্মীয় তাৎপর্য ধারণ করে, কারণ এটি ভগবান রামের ঐশ্বরিক জন্মকে চিহ্নিত করে, যিনি ধার্মিকতা, পুণ্য এবং নৈতিক সততার প্রতীক হিসাবে সম্মানিত। তাঁর জীবন শিক্ষা বিশ্বজুড়ে লক্ষ লক্ষ ভক্তদের অনুপ্রাণিত করে চলেছে। রামনবমী উদযাপনের জন্য ভক্তরা ব্যাপক প্রস্তুতি নেন। বাড়িঘর, মন্দির এবং রাস্তাগুলি উৎসবের সাজসজ্জায় এবং ফুলের সাজে সজ্জিত হয়। মন্দিরে ভগবান রাম, দেবী সীতা, লক্ষ্মণ এবং ভগবান হনুমানের মূর্তি স্থাপন করা হয় এবং ফুল ও মালা দিয়ে সজ্জিত করা হয়। অনেক ভক্ত রামায়ণ পাঠ বা শোনার মাধ্যমে রাম নবমী পালন করেন। এছাড়াও গল্পকার বা পণ্ডিতরা সমবেত শ্রুতাদের সামনে মহাকাব্য রামায়ণ বর্ণনা করেন।নিজের সন্তান যে্ন মর্যাদা- পুরুষোত্তম রামচন্দ্রের মতো আদর্শবান   চরিত্রের অধিকারী হয় -প্রত্যেক পিতামাতার এটাই থাকে ঈশ্বরের প্রতি প্রার্থনা ।.

সরস্বতী পুজাঃসরস্বতী জ্ঞানের অধিষ্ঠাত্রী  দেবী ।  তিনি বিদ্যাদায়িনী । তাই  বামের প্রতিটি হিন্দু পরিবারের শিক্ষার্থীরা দেবী সরস্বতীর পূজা করে থাকেন ।দেবী শ্বেত পদ্মাসনা,শ্বেত হংস বাহনা,বীণাপুস্তক ধারিণী। শ্বেতবর্ণ জ্ঞান,পবিত্রতা ও শান্তির প্রতীক। মাঘমাসের শুক্লা পঞ্চমী তিতিতে দেবীর আরাধনায় মেতে উঠে ছাত্র সমাজ।স্কুল-কলেজের  শিক্ষার্থী, শিক্ষকবৃন্দ ছাড়াও সঙ্গীত   শিক্ষার্থীরা ও গভীর শ্রদ্ধা ও ভক্তির সঙ্গে দেবী সরস্বতীর উপাসনা করে তারঁ  আশীর্বাদ কামনা করেন।ব্যক্তিগত ভাবে  অথবা অনেকে মিলে সম্মিলিত ভাবেও দেবীর আরধনা করা হয় ।

 

 রক্ষা বন্ধনঃ

ভাই এবং বোনের মধ্যে বন্ধন উদযাপন করতে রক্ষা বন্ধন বা রাখি উৎসব পালন করা হয়। শ্রাবণ মাসের পূর্ণিমা তিথিতে (ঝুলন পূর্ণিমার দিনে ) রক্ষা বন্ধন পালন করা হয়।  সকল প্রতিকূলতা থেকে তার বোনকে রক্ষা করার জন্য একজন ভাইয়ের প্রতিশ্রুতি হল রক্ষা বন্ধন।রক্ষা বন্ধনের দিনে, বোনেরা  ভাইদের প্রতি তাদের ভালবাসা, শ্রদ্ধা এবং তাদের মঙ্গলের জন্য প্রার্থনার প্রতীক হিসাবে  ভাইদের কব্জিতে "রাখি" নামক একটি পবিত্র সুতো বেঁধে দেয় বিনিময়ে, ভাইরা তাদের বোনদের উপহার, মিষ্টি এবং আশীর্বাদ প্রদান করে, তাদের সারা জীবন রক্ষা এবং সমর্থন করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে।

ভ্রাতৃ দ্বিতীয়া বা ভাইফোঁটাঃ

রাখী বন্ধন আর ভ্রাতৃ দ্বিতীয়া-এই দুই অনুষ্ঠানের উদেশ্য ও লক্ষ্য একই ।দীপাবলির দুই দিন পর অনুষ্ঠিত হয় ভ্রাতৃ দ্বিতীয়া ।এই দিনটিকে যম দ্বিতীয়াও বলা হয় । এদিন বোনেরা মৃত্যুর দেবতা যমের পূজা করে ভাইদের  দীর্ঘজীবন কামনা করে । ভাইএর কপালে চন্দনের ফোঁটা পরিয়ে তাঁরা বলেন-

“ভাইয়ের কপালে দিলাম ফোঁটা ।

যম দোয়ারে পড়লো কাটা ।।

যমুনা দেয় যমকে ফোঁটা

আমি দেই আমার ভাইকে ফোঁটা ।।“

যম যমুনার দিব্যি দিয়ে  বোনেরা যেমন ভাইদের জন্য রক্ষা কবচ হয়ে দাঁড়ান ,ভাইয়েরাও তেমন সারা জীবন  বোনদের সুরক্ষা প্রদানে অঙ্গিকার আবদ্ধ হন । বোনেরা নিজের হাতে ভাইএর পছন্দের নানা উপাদেয় খাদ্য  ভাইদের খাইয়ে দেন । বিনিময়ে ভাইয়েরা  নানা উপহারে সন্তুষ্ট করেন বোনদের ।পরস্পর থেকে দূরে থাকা ভাই বোনেরা এই দিনটির জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করতে থাকেন । ভাই বোনের মধ্যেকার মধুর সম্পর্ক এই দিনটিতে যেন আরও মধুময় হয়ে উঠে ।

 

ছট পূজাঃ  

ছট পূজা হল বামে বসবাসকারী হিন্দুস্থানি সমাজের একটি প্রাচীনতম এবং সবচেয়ে  গুরুত্বপূর্ণ উৎসবগুলির  মধ্যে একটি  ,যা সূর্য দেবতা এবং তার সহধর্মিণী ঊষা (ছঠি মাইয়া) এর উপাসনার জন্য নিবেদিত। ছট পূজা দীপাবলির ছয় দিন পরে  উদযাপিত হয়। এটি পৃথিবীতে জীবন টিকিয়ে রাখার জন্য সূর্য দেবতার  প্রতি ভক্তি এবং কৃতজ্ঞতার প্রতীক। ছট পূজা একটি চার দিনব্যাপী উৎসব, যে সময়ে ভক্তরা কঠোর আচার উপবাস পালন করে। তারা রুকনি নদীতে ডুব দেয় এবং উদয় অস্তগামী সূর্যের উদ্দেশ্যে প্রার্থনা করে। আচারগুলির মধ্যে রয়েছে স্নান, উপবাস এবং দীর্ঘ সময় ধরে জলে দাঁড়িয়ে প্রার্থনা  করা। ছট পূজার কেন্দ্রবিন্দু হল সূর্য দেবতার পূজা। ভক্তরা সূর্যোদয় এবং অস্তগামী সূর্যের কাছে প্রার্থনা করে, সূর্যের দ্বারা প্রদত্ত জীবন, শক্তি এবং ভরণপোষণের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে।ছট পূজার  পদ্ধতিটি সাস্থ্য বিজ্ঞান সম্মতও বটে ।

........................................................................................................................................

প্রিয় পাঠকমণ্ডলী,

বাম হিস্ট্রি ব্লগ আপনাদের আন্তরিক সাড়া ও উৎসাহে ক্রমশ সমৃদ্ধ হচ্ছে। অত্যন্ত আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে, এ পর্যন্ত ১২২০৬ বার পাঠকরা ব্লগটি পরিদর্শন করেছেন।

যারা বামের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি সম্পর্কে আগ্রহী, তাঁদের কাছে অনুগ্রহ করে ব্লগটির লিংকটি শেয়ার করুন:bam-history.blogspot.com

এছাড়াও, ব্লগের Comment বিভাগে আপনাদের মূল্যবান মতামত, পরামর্শ ও প্রতিক্রিয়া জানালে আমরা অত্যন্ত উৎসাহিত হব।

আপনাদের সহযোগিতা ও ভালোবাসাই আমাদের অনুপ্রেরণা।

ধন্যবাদান্তে,

বাম হিস্ট্রি ব্লগ

 

Wednesday, 1 July 2026

40. বামের হিন্দু সমাজের ধর্মীয় বৈশিষ্ট ও ধর্মস্থান-5: পঞ্চমী নাথ মাজুমদার

 

 মনসা পূজা

বামের প্রায় প্রতিটি বাঙালি হিন্দু পরিবারে সর্পের দেবী মনসার পূজা  হয়।

উৎসবটি সাধারণত শ্রাবণ ভাদ্র মাসে  অনুষ্ঠিত হয়। ভক্তরা মনসা দেবীকে তুষ্ট করতে এবং তাঁর আশীর্বাদ পেতে বিস্তারিত আচার অনুষ্ঠান করেন। দেবীকে দুধ, ফল, ফুল, মিষ্টি নিবেদন করা হয়। পূজার মাসে "মনসা মঙ্গল"  পাঠ করা হয়। বিখ্যাত বাংলা লোককাহিনী "মনসা মঙ্গল" মনসা পূজার সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। বেহুলা এবং লখিন্দরের গল্প প্রায়ই মনসা পূজা উদযাপনের সময় অভিনীত  হয়।

সর্প ভয় মানুষের সহজাত । এই সর্প বা নাগেরা  শীতকালে মাটির গর্তে বাস করে কিন্তু গ্রীষ্মে বেরিয়ে এসে যত্র তত্র বিচরণ করতে থাকে ।এদের উপদ্রবে ভীত মানুষ নাগমাতা মনসার শরণ নেয় । তাই শ্রাবনের  “ নাগ পঞ্চমী” তিথিই মনসা পূজার জন্য প্রশস্ত।

গণেশ চতুর্থীঃ

গণেশ চতুর্থী একটি হিন্দু উৎব যা প্রজ্ঞা, সমৃদ্ধি এবং বাধা অপসারণের দেবতা গণেশের জন্মকে সম্মান জানাতে উদযাপিত হয়। গণেশ চতুর্থী হিন্দু চান্দ্র মাসের ভাদ্র মাসের চতুর্থ দিনে (চতুর্থী) বামে পালিত হয়, যা সাধারণত গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার অনুসারে আগস্ট এবং সেপ্টেম্বরের মধ্যে পড়ে। উৎসবটি সাধারণত দশ দিন ধরে চলে।হিন্দু পুরাণ সংস্কৃতিতে গণেশ চতুর্থীর অপরিসীম তাৎপর্য রয়েছে ।ভগবান শিব এবং দেবী পার্বতীর প্রিয় পুত্র ভগবান গণেশকে জ্ঞান, সমৃদ্ধি এবং নতুন করে শুরুর দেবতা হিসাবে পূজা করা হয়। কোনো নতুন উদ্যোগ বা ব্যবসা শুরু করার আগে তাঁর আশীর্বাদ চাওয়া হয়। তিনি সিদ্ধিদাতা । যে কোন দেব দেবীর পূজায়  সর্বাগ্রে গনেশের উদ্দেশ্যে পূজা প্রদান হিন্দুদের এক বিশেষ রীতি ।নববর্ষের শুভারম্ভে ,দোকানের হালখাতা গনেশ পূজার মাধ্যমেই শুরু করা হয়।

কৃষ্ণ জন্মাষ্টমীঃ

কৃষ্ণ জন্মাষ্টমী  হল ভগবান বিষ্ণুর অন্য রূপ । ভগবান কৃষ্ণের জন্ম স্মরণে উদযাপিত একটি উৎসব।   ভাদ্র মাসের অষ্টমী তিথিতে  কৃষ্ণ জন্মাষ্টমী পালন করা হয়।  কৃষ্ণ জন্মাষ্টমী বামের হিন্দুদের জন্য অপরিসীম ধর্মীয় সাংস্কৃতিক তাৎপর্য বহন করে। ভগবান কৃষ্ণ, প্রেম, জ্ঞান এবং করুণার ঐশ্বরিক অবতার হিসাবে সম্মানিত,  চিরন্তন সত্যের প্রতীক হিসাবে পূজিত। তাঁর জন্ম  আধ্যাত্মিকতা জ্ঞা নার্জনের একটি নতুন যুগের সূচনাকে নির্দেশ করে বলে বিশ্বাস করা হয়।

জন্মাষ্টমীর দিন  মধ্যরাত্রে  জন্মজয়ন্তী পালিত হয় । পরদিন নন্দোৎসব ।সারাদিন ব্যাপী কৃষ্ণলীলা  কীর্তন , কৃষ্ণ পূজা, প্রসাদ বিতরণের.মাধ্যমে  উৎসব পালন করা হয় ।

 .................................. ......................................................................................................   

 প্রিয় পাঠকমণ্ডলী,

বাম হিস্ট্রি ব্লগ আপনাদের আন্তরিক সাড়া ও উৎসাহে ক্রমশ সমৃদ্ধ হচ্ছে। অত্যন্ত আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে, এ পর্যন্ত ১২১৪৭ বার পাঠকরা ব্লগটি পরিদর্শন করেছেন।

যারা বামের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি সম্পর্কে আগ্রহী, তাঁদের কাছে অনুগ্রহ করে ব্লগটির লিংকটি শেয়ার করুন:bam-history.blogspot.com

এছাড়াও, ব্লগের Comment বিভাগে আপনাদের মূল্যবান মতামত, পরামর্শ ও প্রতিক্রিয়া জানালে আমরা অত্যন্ত উৎসাহিত হব।

আপনাদের সহযোগিতা ও ভালোবাসাই আমাদের অনুপ্রেরণা।

ধন্যবাদান্তে,

বাম হিস্ট্রি ব্লগ


 

 

 

 

 


Tuesday, 30 June 2026

39.বামের হিন্দু সমাজের ধর্মীয় বৈশিষ্ট ও ধর্মস্থান-4 :পঞ্চমী নাথ মাজুমদার

 দীপাবলিঃ

দীপাবলি যা অন্ধকারের ওপর আলোর জয়, মন্দের ওপর ভালোর, এবং অজ্ঞতার ওপর জ্ঞানের । এই উৎসব বামে  ব্যাপকভাবে উদযাপিত হয়৷ ।কার্তিক মাসের অমাবস্যার রাতে দীপাবলি পালিত হয়  ৷ দীপাবলি হল "আলোর উৎসব" - ঘর, মন্দির এবং পাবলিক স্পেসে তেলের প্রদীপ , মোমবাতি এবং আলংকারিক আলো জ্বালানোর ঐতিহ্য। আলোকসজ্জা অন্ধকারের উপর আলোর বিজয় এবং জ্ঞান দ্বারা অজ্ঞতা দূরীকরণের প্রতীক।

এই আলোর উৎসবের বৈজ্ঞানিক তাৎপর্য  কিন্তু বিশেসভাবে প্রনিধানযোগ্য । এই সময় মাঠ থাকে সবুজ ধানগাছে ভরা । আসন্ন শীতের হিমেল  হাওয়া সবুজ মাঠে যখন মৃদুমন্দ দোলা দিয়ে যায় তখন মনে হয়  সবুজ সাগরে ঢেউ উঠে তটভুমিতে আছড়ে  পড়ার অপেক্ষায় শুধুই ধেয়ে চলেছে  সামনের দিকে ।বড়ো নয়নাভিরাম এই দৃশ্য । এ সময় ধানগাছে  ফুল আসে,ফল  ধরে । কিন্তু ফল গুলো (ধান ) তখনও থাকে অপুষ্ট, ,কোমল ,দুধের মত তরল । আর এই সময়ই প্রাদুর্ভাব ঘটে পঙ্গপালের  মত নানা কীট  পতঙ্গের ,যারা তরল শস্য শুষে নিয়ে  ফসল নষ্ট করে দেয় । এই ক্ষতিকারক কীট পতঙ্গ থেকে ফসল রক্ষা করার প্রয়োজনেই আলোর উৎসবের   প্রচলন ।চোখ ধাধানো  আলোর হাতছানিতে ঝাঁকে ঝাঁকে পঙ্গপাল আগুনে ঝাঁপিয়ে পড়ে । ফলে বহুলাংশে ফসল রক্ষা পায় ।

দীপাবলিতে রুকনি নদী   বা  অন্য কোনও জলাশয়ে আলোর ভেলা ভাসানোর রীতি ও বাম অঞ্চলে প্রচলিত ।   পূর্ব পুরুষদের  শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করার সুন্দর পদ্ধতি হলো আলো জ্বালিয়ে তাঁদের চলার পথকে আলোকিত করা । বাঙালী হিন্দুদের বিশ্বাস এতে তাঁদের চলার পথ  যেমন সুগম হয় তেমন-ই  খুশী হয়ে তারা  উত্তর পুরুষদের প্রতি প্রসন্ন দৃষ্টি নিক্ষেপ করেন অর্থাৎ আশীর্বাদ করেন । আর গুরুজন দের  আশীর্বাদ তো  চির কাম্য। তাই দীপাবলির শুভ মুহূর্তে বামের জলাশয় গুলিতে ,বিশেষ করে  রুকনি  নদীতে সারি সারি  প্রদীপের  ভেলা ভাসতে  দেখা যায় । এ দৃশ্য  যেমন দৃষ্টিনন্দন ঠিক তেমনই প্রকৃতিকে দূষণ মুক্ত করতেও বিশেষ সহায়ক ।

কাল বা সময় বড় বলবান  এবং সর্বদ্রষ্টা । সময়ের কাছে কোনও কিছুই অস্পষ্ট , অদৃশ্য কিংবা অজ্ঞাত থাকে না । সময়ই পারে  অজ্ঞতার  অন্ধকার ভেদ করে  সত্যের  উদ্ঘাটন করতে । তাই দীপাবলিতে ,অমানিশার অন্ধকারেই সচছতার দেবী কালি (‘কাল’ এর  স্ত্রী লিঙ্গ) পূজা হিন্দু আধ্যাত্ম চিন্তার এক নিগূঢ় সত্যের পরিচায়ক । শুভ দীপাবলিতে মানুষ পরস্পর উপহার ,মিষ্টি এবং শুকনো ফল বিনিময় করে । এবং শুভেচ্ছা  ও আশির্বাদ  জানাতে  আত্মীয়স্বজন এবং বন্ধুদের সংগে দেখা করে ।

বাসন্তী দুর্গাপূজাঃ

একই দেবী কখনও বাসন্তী আবার কখনও শারদীয়া । তিনি হলেন দেবী দুর্গা  । দুর্গতি নাশিনী দুর্গা বছরে  দুইবার পূজিতা । বসন্তকালে বাসন্তী আর শরৎ কালে শারদীয়া নামে পরিচিতা এই দেবীর পূজা পদ্ধতি,রীতি নীতি সবই এক এবং অভিন্ন ।

পুরাণ মতে ,পুরাকালে  মহারাজ সুরথ সর্বপ্রথম  পৃথিবীতে দেবী  দুর্গার পূজার প্রচলন করেন । তখন ছিল বসন্তকাল ।  তাই বাসন্তী   দুর্গা পূজাকেই  আদি পূজা বলে গণ্য করা হয় । আবার রামচন্দ্র ,রাবণ বধ মানসে দেবীর  কৃপা লাভের আশায় দুর্গা পূজা করেন । তখন ছিল শরৎকাল । তখন থেকে শারদীয়া দুর্গা পূজার প্রচলন ।  তবে অকালে পূজা অনুষ্ঠিত হয়েছিল বলে শরৎকালের পূজাকে  “অকাল বোধনও “ বলা হয় ।

 সাত্বিক     ভাবে নিষ্ঠার সঙ্গে নিরুপদ্রবে পূজা করার জন্য ,বিশেষ করে গৃহস্থ বাড়ীতে নিজস্ব ব্যক্তিগত  পূজার জন্য  সাধারণতঃ বাসন্তী দুর্গা পূজাকে বেছে নেওয়া হয় ।  সর্বজনীন বা বড় বাজেটের  পুজায় শারদীয়াই মানুষের পছন্দ ।  তবে ব্যতিক্রমও আছে ।স্থান বিশেষে ও অবস্থা বিশেষে বাসন্তী পূজায়ও জাঁকজমক , নিষ্ঠা  তথা সাত্বিকতা  দৃষ্ট হয় । যেমন মিজোরামের সীমান্তবর্তী  খুলিছড়া গ্রামে অনুষ্ঠিত সর্ব জনীন  বাসন্তী পূজা । গত ৯৭ বছর ধরে অত্যন্ত উৎসাহের সহিত এই  পূজা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে ।  দেবী বাসন্তীর  আশীর্বাদ লাভের  জন্য বিস্তৃত  আচার অনুষ্ঠান ছাড়াও  পাঁচ দিন ব্যাপী মেলা  অনুষ্ঠিত হয় । প্রতিদিন প্রায় দশ হাজার  মানুষ মেলায় অংশ গ্রহন করেন

 

…………………………………………………………………