Wednesday, 1 July 2026

40. বামের হিন্দু সমাজের ধর্মীয় বৈশিষ্ট ও ধর্মস্থান-5: পঞ্চমী নাথ মাজুমদার

 

 মনসা পূজা

বামের প্রায় প্রতিটি বাঙালি হিন্দু পরিবারে সর্পের দেবী মনসার পূজা  হয়।

উৎসবটি সাধারণত শ্রাবণ ভাদ্র মাসে  অনুষ্ঠিত হয়। ভক্তরা মনসা দেবীকে তুষ্ট করতে এবং তাঁর আশীর্বাদ পেতে বিস্তারিত আচার অনুষ্ঠান করেন। দেবীকে দুধ, ফল, ফুল, মিষ্টি নিবেদন করা হয়। পূজার মাসে "মনসা মঙ্গল"  পাঠ করা হয়। বিখ্যাত বাংলা লোককাহিনী "মনসা মঙ্গল" মনসা পূজার সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। বেহুলা এবং লখিন্দরের গল্প প্রায়ই মনসা পূজা উদযাপনের সময় অভিনীত  হয়।

সর্প ভয় মানুষের সহজাত । এই সর্প বা নাগেরা  শীতকালে মাটির গর্তে বাস করে কিন্তু গ্রীষ্মে বেরিয়ে এসে যত্র তত্র বিচরণ করতে থাকে ।এদের উপদ্রবে ভীত মানুষ নাগমাতা মনসার শরণ নেয় । তাই শ্রাবনের  “ নাগ পঞ্চমী” তিথিই মনসা পূজার জন্য প্রশস্ত।

গণেশ চতুর্থীঃ

গণেশ চতুর্থী একটি হিন্দু উৎব যা প্রজ্ঞা, সমৃদ্ধি এবং বাধা অপসারণের দেবতা গণেশের জন্মকে সম্মান জানাতে উদযাপিত হয়। গণেশ চতুর্থী হিন্দু চান্দ্র মাসের ভাদ্র মাসের চতুর্থ দিনে (চতুর্থী) বামে পালিত হয়, যা সাধারণত গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার অনুসারে আগস্ট এবং সেপ্টেম্বরের মধ্যে পড়ে। উৎসবটি সাধারণত দশ দিন ধরে চলে।হিন্দু পুরাণ সংস্কৃতিতে গণেশ চতুর্থীর অপরিসীম তাৎপর্য রয়েছে ।ভগবান শিব এবং দেবী পার্বতীর প্রিয় পুত্র ভগবান গণেশকে জ্ঞান, সমৃদ্ধি এবং নতুন করে শুরুর দেবতা হিসাবে পূজা করা হয়। কোনো নতুন উদ্যোগ বা ব্যবসা শুরু করার আগে তাঁর আশীর্বাদ চাওয়া হয়। তিনি সিদ্ধিদাতা । যে কোন দেব দেবীর পূজায়  সর্বাগ্রে গনেশের উদ্দেশ্যে পূজা প্রদান হিন্দুদের এক বিশেষ রীতি ।নববর্ষের শুভারম্ভে ,দোকানের হালখাতা গনেশ পূজার মাধ্যমেই শুরু করা হয়।

কৃষ্ণ জন্মাষ্টমীঃ

কৃষ্ণ জন্মাষ্টমী  হল ভগবান বিষ্ণুর অন্য রূপ । ভগবান কৃষ্ণের জন্ম স্মরণে উদযাপিত একটি উৎসব।   ভাদ্র মাসের অষ্টমী তিথিতে  কৃষ্ণ জন্মাষ্টমী পালন করা হয়।  কৃষ্ণ জন্মাষ্টমী বামের হিন্দুদের জন্য অপরিসীম ধর্মীয় সাংস্কৃতিক তাৎপর্য বহন করে। ভগবান কৃষ্ণ, প্রেম, জ্ঞান এবং করুণার ঐশ্বরিক অবতার হিসাবে সম্মানিত,  চিরন্তন সত্যের প্রতীক হিসাবে পূজিত। তাঁর জন্ম  আধ্যাত্মিকতা জ্ঞা নার্জনের একটি নতুন যুগের সূচনাকে নির্দেশ করে বলে বিশ্বাস করা হয়।

জন্মাষ্টমীর দিন  মধ্যরাত্রে  জন্মজয়ন্তী পালিত হয় । পরদিন নন্দোৎসব ।সারাদিন ব্যাপী কৃষ্ণলীলা  কীর্তন , কৃষ্ণ পূজা, প্রসাদ বিতরণের.মাধ্যমে  উৎসব পালন করা হয় ।

 .................................. ......................................................................................................   

 প্রিয় পাঠকমণ্ডলী,

বাম হিস্ট্রি ব্লগ আপনাদের আন্তরিক সাড়া ও উৎসাহে ক্রমশ সমৃদ্ধ হচ্ছে। অত্যন্ত আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে, এ পর্যন্ত ১২১৪৭ বার পাঠকরা ব্লগটি পরিদর্শন করেছেন।

যারা বামের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি সম্পর্কে আগ্রহী, তাঁদের কাছে অনুগ্রহ করে ব্লগটির লিংকটি শেয়ার করুন:bam-history.blogspot.com

এছাড়াও, ব্লগের Comment বিভাগে আপনাদের মূল্যবান মতামত, পরামর্শ ও প্রতিক্রিয়া জানালে আমরা অত্যন্ত উৎসাহিত হব।

আপনাদের সহযোগিতা ও ভালোবাসাই আমাদের অনুপ্রেরণা।

ধন্যবাদান্তে,

বাম হিস্ট্রি ব্লগ


 

 

 

 

 


Tuesday, 30 June 2026

39.বামের হিন্দু সমাজের ধর্মীয় বৈশিষ্ট ও ধর্মস্থান-4 :পঞ্চমী নাথ মাজুমদার

 দীপাবলিঃ

দীপাবলি যা অন্ধকারের ওপর আলোর জয়, মন্দের ওপর ভালোর, এবং অজ্ঞতার ওপর জ্ঞানের । এই উৎসব বামে  ব্যাপকভাবে উদযাপিত হয়৷ ।কার্তিক মাসের অমাবস্যার রাতে দীপাবলি পালিত হয়  ৷ দীপাবলি হল "আলোর উৎসব" - ঘর, মন্দির এবং পাবলিক স্পেসে তেলের প্রদীপ , মোমবাতি এবং আলংকারিক আলো জ্বালানোর ঐতিহ্য। আলোকসজ্জা অন্ধকারের উপর আলোর বিজয় এবং জ্ঞান দ্বারা অজ্ঞতা দূরীকরণের প্রতীক।

এই আলোর উৎসবের বৈজ্ঞানিক তাৎপর্য  কিন্তু বিশেসভাবে প্রনিধানযোগ্য । এই সময় মাঠ থাকে সবুজ ধানগাছে ভরা । আসন্ন শীতের হিমেল  হাওয়া সবুজ মাঠে যখন মৃদুমন্দ দোলা দিয়ে যায় তখন মনে হয়  সবুজ সাগরে ঢেউ উঠে তটভুমিতে আছড়ে  পড়ার অপেক্ষায় শুধুই ধেয়ে চলেছে  সামনের দিকে ।বড়ো নয়নাভিরাম এই দৃশ্য । এ সময় ধানগাছে  ফুল আসে,ফল  ধরে । কিন্তু ফল গুলো (ধান ) তখনও থাকে অপুষ্ট, ,কোমল ,দুধের মত তরল । আর এই সময়ই প্রাদুর্ভাব ঘটে পঙ্গপালের  মত নানা কীট  পতঙ্গের ,যারা তরল শস্য শুষে নিয়ে  ফসল নষ্ট করে দেয় । এই ক্ষতিকারক কীট পতঙ্গ থেকে ফসল রক্ষা করার প্রয়োজনেই আলোর উৎসবের   প্রচলন ।চোখ ধাধানো  আলোর হাতছানিতে ঝাঁকে ঝাঁকে পঙ্গপাল আগুনে ঝাঁপিয়ে পড়ে । ফলে বহুলাংশে ফসল রক্ষা পায় ।

দীপাবলিতে রুকনি নদী   বা  অন্য কোনও জলাশয়ে আলোর ভেলা ভাসানোর রীতি ও বাম অঞ্চলে প্রচলিত ।   পূর্ব পুরুষদের  শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করার সুন্দর পদ্ধতি হলো আলো জ্বালিয়ে তাঁদের চলার পথকে আলোকিত করা । বাঙালী হিন্দুদের বিশ্বাস এতে তাঁদের চলার পথ  যেমন সুগম হয় তেমন-ই  খুশী হয়ে তারা  উত্তর পুরুষদের প্রতি প্রসন্ন দৃষ্টি নিক্ষেপ করেন অর্থাৎ আশীর্বাদ করেন । আর গুরুজন দের  আশীর্বাদ তো  চির কাম্য। তাই দীপাবলির শুভ মুহূর্তে বামের জলাশয় গুলিতে ,বিশেষ করে  রুকনি  নদীতে সারি সারি  প্রদীপের  ভেলা ভাসতে  দেখা যায় । এ দৃশ্য  যেমন দৃষ্টিনন্দন ঠিক তেমনই প্রকৃতিকে দূষণ মুক্ত করতেও বিশেষ সহায়ক ।

কাল বা সময় বড় বলবান  এবং সর্বদ্রষ্টা । সময়ের কাছে কোনও কিছুই অস্পষ্ট , অদৃশ্য কিংবা অজ্ঞাত থাকে না । সময়ই পারে  অজ্ঞতার  অন্ধকার ভেদ করে  সত্যের  উদ্ঘাটন করতে । তাই দীপাবলিতে ,অমানিশার অন্ধকারেই সচছতার দেবী কালি (‘কাল’ এর  স্ত্রী লিঙ্গ) পূজা হিন্দু আধ্যাত্ম চিন্তার এক নিগূঢ় সত্যের পরিচায়ক । শুভ দীপাবলিতে মানুষ পরস্পর উপহার ,মিষ্টি এবং শুকনো ফল বিনিময় করে । এবং শুভেচ্ছা  ও আশির্বাদ  জানাতে  আত্মীয়স্বজন এবং বন্ধুদের সংগে দেখা করে ।

বাসন্তী দুর্গাপূজাঃ

একই দেবী কখনও বাসন্তী আবার কখনও শারদীয়া । তিনি হলেন দেবী দুর্গা  । দুর্গতি নাশিনী দুর্গা বছরে  দুইবার পূজিতা । বসন্তকালে বাসন্তী আর শরৎ কালে শারদীয়া নামে পরিচিতা এই দেবীর পূজা পদ্ধতি,রীতি নীতি সবই এক এবং অভিন্ন ।

পুরাণ মতে ,পুরাকালে  মহারাজ সুরথ সর্বপ্রথম  পৃথিবীতে দেবী  দুর্গার পূজার প্রচলন করেন । তখন ছিল বসন্তকাল ।  তাই বাসন্তী   দুর্গা পূজাকেই  আদি পূজা বলে গণ্য করা হয় । আবার রামচন্দ্র ,রাবণ বধ মানসে দেবীর  কৃপা লাভের আশায় দুর্গা পূজা করেন । তখন ছিল শরৎকাল । তখন থেকে শারদীয়া দুর্গা পূজার প্রচলন ।  তবে অকালে পূজা অনুষ্ঠিত হয়েছিল বলে শরৎকালের পূজাকে  “অকাল বোধনও “ বলা হয় ।

 সাত্বিক     ভাবে নিষ্ঠার সঙ্গে নিরুপদ্রবে পূজা করার জন্য ,বিশেষ করে গৃহস্থ বাড়ীতে নিজস্ব ব্যক্তিগত  পূজার জন্য  সাধারণতঃ বাসন্তী দুর্গা পূজাকে বেছে নেওয়া হয় ।  সর্বজনীন বা বড় বাজেটের  পুজায় শারদীয়াই মানুষের পছন্দ ।  তবে ব্যতিক্রমও আছে ।স্থান বিশেষে ও অবস্থা বিশেষে বাসন্তী পূজায়ও জাঁকজমক , নিষ্ঠা  তথা সাত্বিকতা  দৃষ্ট হয় । যেমন মিজোরামের সীমান্তবর্তী  খুলিছড়া গ্রামে অনুষ্ঠিত সর্ব জনীন  বাসন্তী পূজা । গত ৯৭ বছর ধরে অত্যন্ত উৎসাহের সহিত এই  পূজা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে ।  দেবী বাসন্তীর  আশীর্বাদ লাভের  জন্য বিস্তৃত  আচার অনুষ্ঠান ছাড়াও  পাঁচ দিন ব্যাপী মেলা  অনুষ্ঠিত হয় । প্রতিদিন প্রায় দশ হাজার  মানুষ মেলায় অংশ গ্রহন করেন

 

…………………………………………………………………

 

 

 

 

 

 

Monday, 29 June 2026

38.বামের হিন্দু সমাজের ধর্মীয় বৈশিষ্ট ও ধর্মস্থানঃ-3 পঞ্চমী নাথ মাজুমদার

 

মহা শিবরাত্রিঃ

“মহা শিবরাত্রি" বা শিবের মহান রাত, ধ্বংস এবং পুনর্জন্মের দেবতা শিবকে উৎসর্গ করা হয়৷ চান্দ্র  ফাল্গুনের    কৃষ্ণ   পক্ষের  ১৪ তম রাতে মহা শিবরাত্রি পালিত হয়।ভক্তরা দিনরাত উপবাস, প্রার্থনা এবং আচার-অনুষ্ঠানের সাথে মহা শিবরাত্রি পালন করে।তারা  বাম অঞ্চলে  গড়ে উঠা বিভিন্ন  শিব মন্দিরে যান, এবং বিশেষ প্রার্থনা  বা পুজা করেন ।মহা শিবরাত্রি মহা ধুমধাম ও উৎসাহের সাথে পালিত হয়।মহা শিবরাত্রি অন্ধকারের ওপর আলোর বিজয়, অজ্ঞতার ওপর জ্ঞান এবং মন্দের ওপর পুণ্যের প্রতীক।দুধ,দৈ, ঘি, মধু মহাকাল কে উৎসর্গ করে ভক্তরা  মনোমতো বর প্রার্থনা করে  এই তিথিতে ।

দোল যাত্রাঃ

দোল যাত্রা, যা দোল পূর্ণিমা উৎসব নামেও পরিচিত।এটি বামে বসন্তের সূচনাকে চিহ্নিত করে এবং ভগবান কৃষ্ণ ও রাধার ঐশ্বরিক প্রেমকে স্মরণ করে। দোলযাত্রা পালিত হয় ফাল্গুন মাসের পূর্ণিমা তিথিতে ।এটি রঙের উৎসব হোলির সাথে মিলে যায়, যা ভারত জুড়ে মহা উৎসাহের  সাথে উদযাপিত হয়।ভক্তরা একে অপরকে রঙিন গুঁড়ো (আবির বা গুলাল) ছিটিয়ে দেয় এবং রঙিন জল স্প্রে করে, ঐতিহ্যবাহী হোলি গান এবং ভজন ,ভগবান কৃষ্ণকে উদ্দেশ্য করে পরিবেশিত হয়   দোল যাত্রা হল একটি প্রাণবন্ত এবং আনন্দের উৎসব যা প্রেম, বন্ধুত্ব এবং প্রকৃতির সৌন্দর্যকে উদযাপন করে   এই উৎসবটি  মানুষের মনে আনন্দ ইতিবাচকতা ছড়িয়ে দেয়।

আসলে বসন্ত উৎসব শুধুমাত্র হালকা বিনোদন বা নিছক আনন্দ হৈ হুল্লোড় নয় ।এর মধ্যে লুকিয়ে আছে বিশ্বপ্রেমের গভীর তাৎপর্য ।বৃন্দাবনের  কৃষ্ণকে মানা হয় প্রেমের অবতার । এ প্রেম  অপার্থিব,সর্বব্যাপী । তিনি শুধু রাধারাণীর নন,স্ত্রী-পুরুষ নির্বিশেষে বৃন্দাবনের সকল গোপ- গোপীর প্রেমিক ,অভিন্ন-হৃদয় গোপ বালকগণ তাঁর সখা । তাঁর প্রেমে  ‘যমুনা উজান বয়’ ,তাঁর  নামে বৃন্দাবনের  তরু লতায় শিহরণ জাগে । তাঁর বিরহে বৃন্দাবনের  গাভীগণ তৃণ খায় না ,মায়ূর নৃত্য করে্‌ না ,শুক -সারি নীরব হয়ে রয় ।বৃন্দাবনের পথের ধূলো তাঁর চরণ চিহ্ন বুকে ধরে রাখার জন্য উদ্গ্রীব  হয়ে থাকে । অর্থাৎ নদ নদী ,গাছ-পালা , পশু-পাখী ,দেশের মাটি, সব কিছুকেই তিনি ভালবাসেন । তিনি প্রকৃতিপ্রেমী,তিনি মানব প্রেমী,তিনি বিশ্ব প্রেমিক । এ প্রেম ভাংতে জানে না ,শুধু গড়তে জানে । সৃষ্টির আনন্দে তাই বসন্ত উৎসব বা দোল উৎসব বিশ্বপ্রেমের রঙ ছড়িয়েই চির রঙীন ।

দোল উৎসব পালনের আর একটি তাৎপর্য পূর্ণ বিষয় হলো -এ সময় বসন্ত রোগের প্রাদুর্ভাব ঘটে আর   এই রোগের প্রতিষেধক হিসেবে সর্বাঙ্গে বিশেষ ওষধি গুণ সম্পন্ন আবির মাখা প্রাচীন আয়ুর্বেদ শাস্ত্রের নিদান ।.

বিশ্বকর্মা পূজাঃ

  বাংলা ভাদ্র মাসের শেষ দিনে বামে পালিত হয় দেবতাদের স্থপতি ও কারিগর বিশ্বকর্মার  পূজা। বিশ্বকর্মা পূজায় দেবশিল্পী  বিশ্বকর্মাকে শ্রদ্ধা জানানো হয়, যিনি হিন্দু পুরাণে মহাবিশ্বের ঐশ্বরিক স্থপতি এবং স্রষ্টা হিসেবে সম্মানিত।  বিশ্বকর্মা পূজায় কারিগর এবং কারখানার মালিকরা তাদের নিজ নিজ ব্যবসা এবং পেশায় সাফল্য, সমৃদ্ধি এবং নিরাপত্তার জন্য ভগবান বিশ্বকর্মার আশীর্বাদ কামনা করে। মন্ত্র এবং স্তোত্রের সাথে বিশেষ আরতি  সঞ্চালিত হয় ।বিশ্বকর্মা পূজা ব্যাপক উৎসাহ সামূহিক উচ্ছ্বাসের সাথে পালিত হয়। কারখানার শ্রমিক এবং কর্মচারীরা একত্রিত হয়ে পূজা উদযাপন, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং ভোজের আয়োজন করে, যা সকল অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে একতা সৌহার্দ্যের বোধ জাগিয়ে তোলে। .কারখানার যন্ত্রপাতি ও যানবাহনে ,মন্ত্র উচ্চারণের মাধ্যমে সিঁদুর পরিয়ে  দেন পুরোহিত  । সিঁদুরকে মঙ্গলের প্রতীক হিসাবেই ধরা হয় ।

 ...........................................................................................................................

প্রিয় পাঠকমণ্ডলী,

বাম হিস্ট্রি ব্লগ আপনাদের আন্তরিক সাড়া ও উৎসাহে ক্রমশ সমৃদ্ধ হচ্ছে। অত্যন্ত আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে, এ পর্যন্ত ১১,৯৫৩ বার পাঠকরা ব্লগটি পরিদর্শন করেছেন।

যারা বামের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি সম্পর্কে আগ্রহী, তাঁদের কাছে অনুগ্রহ করে ব্লগটির লিংকটি শেয়ার করুন:

bam-history.blogspot.com

এছাড়াও, ব্লগের Comment বিভাগে আপনাদের মূল্যবান মতামত, পরামর্শ ও প্রতিক্রিয়া জানালে আমরা অত্যন্ত উৎসাহিত হব।

আপনাদের সহযোগিতা ও ভালোবাসাই আমাদের অনুপ্রেরণা।


ধন্যবাদান্তে,
বাম হিস্ট্রি ব্লগ


 

 

 

 

 

 

Sunday, 28 June 2026

37.বামের হিন্দু সমাজের ধর্মীয় বৈশিষ্ট ও ধর্মস্থানঃ-2পঞ্চমী নাথ মজুমদার


 বাম অঞ্চলের হিন্দুদের স্থায়ী মন্দির ও অস্থায়ী  মণ্ডপে পালিত  বিভিন্ন উৎসব ও পূজার বিবরণ দেওয়া হল-

দুর্গাপূজাঃ

দুর্গাপূজা বা দুর্গোৎসব হল একটি প্রধান বাঙালি হিন্দু উৎসব যা চান্দ্র আশ্বিন মাসে বামে জাঁকজমক উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে  উদযাপিত হয়। দুর্গাপূজা মহিষাসুরের উপর দেবী দুর্গার বিজয়ের জন্য উদযাপন করা হয়। এটি মন্দের উপর ভালোর জয়ের প্রতীক।মহালয়া থেকেই শুরু হয় দুর্গাপূজার প্রস্তুতি।।দুর্গাপূজার কেন্দ্রবিন্দু হল পূজার জন্য সুসজ্জিত প্যান্ডেলগুলিতে স্থাপন করা  অন্যান্য দেব-দেবীর সাথে দেবী দুর্গার মূর্তি। দুর্গা পূজা শুধু একটি ধর্মীয় উৎসব নয়। এটি একটি সাংস্কৃতিক  ও সামাজিক অনুষ্ঠানও। বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান যেমন সঙ্গীত, নৃত্য, নাটক এবং শিল্প প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়। নতুন জামাকাপড়, খেলনা, উপহার সামগ্রী  কেনাকাটা দুর্গোৎসবের একটি অপরিহার্য অংশ। জাতি-গোষ্ঠী নির্বিশেষে সবাই পুজোর কেনাকাটায় মেতে উঠে। দুর্গা পূজার  একটি জনপ্রিয় কার্যকলাপ হল "প্যান্ডেল হপিং", যেখানে লোকেরা তাদের সেরা পোশাক পরে, প্রতিমার সাজসজ্জা, থিম এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান দেখতে সারা রাত বিভিন্ন পূজা প্যান্ডেল ঘুরে বেড়ায়। দূর্গাপুজার পর বামের গ্রামবাসীরা সাংস্কৃতিক উৎসবের অংশ হিসেবে যাত্রাপালার আয়োজন করে যেখানে স্থানীয় শিল্পীরা অংশ নেয়।সর্বজনীন দুর্গাপূজা স্থানীয় সম্পদ ব্যবহার করে পরিকল্পনা থেকে বাস্তবায়ন পর্যন্ত স্থানীয় কমিটি দ্বারা পরিচালিত হয়।দুর্গাপূজার সময় ঢাক, শঙ্খ  ও মন্ত্র উচ্চারণের শব্দে বাতাস মুখরিত হয়ে উঠে এবং একটি উৎসবের পরিবেশ তৈরি করে।

চান্দ্র আশ্বিন মাসের শুক্লা সপ্তমী,অষ্টমী ও নবমী তিথিত্রয়ে মহা ধূমধামে দেবীর পূজা অনুষ্ঠিত হয় ।কিন্তু নবমীর নিশি শেষে দশমীর আগমনেই বেজে উঠে  বিষাদের সুর । শোনা যায়  বিজয়ার করুণ রাগিনী । দেবীর বিসর্জনে ভগ্নহৃদয় ভক্তগণ  সান্ত্বনা  খুঁজে বেড়ায় আত্মীয়- স্বজন-বন্ধু-বান্ধবের মধ্যে ।গুরুজন দের প্রণাম  আর বন্ধুদের আলিঙ্গনে  আবদ্ধ করা বিজয়ার বিশেষ রীতি । এই সময় শত্রুকেও মিত্র করার রেওয়াজ আছে । জাতি-ধর্ম- বর্ণ নির্বিশেষে সবাইকে  আপন করে নেওয়াই বিজয়ার  বিশেষত্ব ।  এই সৌভ্রাতৃত্ব বোধটাকেই দুর্গাপূজার ফল বা দেবী দুর্গার  আশীর্বাদ বলে মনে করা হয় ।

লক্ষ্মী পূজাঃ

দেবীপক্ষের শেষ হয় শারদ পূর্ণিমায় আর এই পূর্ণিমা তিথিতেই অনুষ্ঠিত হয় লক্ষ্মী পূজা ।লক্ষ্মী মানে শ্রী,লক্ষ্মী মানে সুরুচি।লক্ষ্মী সৌভাগ্য ও সৌন্দর্যের দেবী ।লক্ষ্মী পূজার দিনে   বাড়িঘর পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করে,বামের প্রায় প্রতিটি হিন্দু পরিবারে  চালের পিটুলি দিয়ে  আলপনা দেওয়া হয়।সে আল্পনায় থাকে ধানের ছড়া,লক্ষ্মীর চরণ চিহ্ন ,ক্ষেতের সরঞ্জাম,লতাপাতা প্রভৃতি ।হৈমন্তিক ধান ঘরে তোলার প্রাক মুহূর্তে  লক্ষ্মীর আরাধনা কৃষিভিত্তিক সমাজের মানস কল্পনাকে প্রতিফলিত করে। প্রাচুর্য ও সমৃদ্ধির আশীর্বাদ প্রাপ্তির জন্যই লক্ষ্মী পূজার আয়োজন।

কার্তিক  পূজাঃ

কার্ত্তিক সংক্রান্তি অর্থাৎ কার্ত্তিক মাসের শেষ দিনে কার্ত্তিক পূজা অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে । এখানে কোনও তিথি নক্ষত্র বারের বিধি নিষেধ নেই ।দেবসেনাপতি কার্ত্তিক বীরত্ব আর শৌর্য বীর্যের প্রতীক । তাঁর আশীর্বাদে সন্তান লাভ হয় -এই বিশ্বাসে বিশেষতঃ নববিবাহিতা বধূরাই কার্তিকের পূজা করে থাকেন । কার্তিকের মতো বীর যোদ্ধা সুদর্শন সন্তান লাভের আশায়,ময়ুরাসনে বিরাজিত কার্তিকের সঙ্গে তীর ধনুকের ও পূজা করা হয় । সাধারনতঃ কয়েকজন ব্রতী  একত্রিত হয়ে ,সমবেত ভাবে ,একই স্থানে কার্ত্তিক পূজা করে থাকেন ।

সারাদিন উপবাস করে ,  সারা রাত জেগে থেকে প্রহরে প্রহরে পূজা হয় । সেই সঙ্গে ধান ,মাস কলাই,মুগ  ইত্যাদি শস্যের  নবাঙ্কুর অর্থাৎ নব অঙ্কুরিত শস্যে জলাভিষেক করা হয় । সম্ভবতঃ এই আচার অনুষ্ঠানটি নবপ্রজন্মকে স্বাগত জানাবার ইঙ্গিত বাহী । কার্তিক পূজার পরে আসে ফসল কাটার মৌসুম । কৃষকরা প্রচুর  ফলনের জন্য  আশা প্রকাশ করে  এবং আসন্ন কৃষি চক্রে অনুকূল আবহাওয়া  ও সমৃদ্ধির জন্য প্রার্থনা জানায় ।

মকর  সংক্রান্তিঃ

বাম অঞ্চলের বাঙালি হিন্দুদের মধ্যে   মকর সংক্রান্তি এক বিশেষ স্থান অধিকার করে আছে । কৃষি প্রধান এই অঞ্চলে  কৃষির সঙ্গে  সম্পর্কিত এই অনুষ্ঠানটি বিশেষ  অর্থবহ ।পৌষ মাসের সংক্রান্তিতে অর্থাৎ বাংলা পৌষ মাসের শেষ দিনে  এই উৎসব পালিত হয় ।

   ইংরেজী ক্যালেন্ডার অনুযায়ী  জানুয়ারী মাসের ১৪ বা ১৫ তারিখে পড়ে এই সংক্রান্তি  । এ সময় শীতকালীন  ফসলের মৌসুমের   সমাপ্তি ঘটে অর্থাৎ এতদঞ্চলের ‘শাইল‘ (শালি) ধান  কাটা শেষ হয় । হাড় ভাঙ্গা পরিশ্রমের পর  সোনালী ধানে গোলা যখন  ভরে যায় তখন কৃষকের মনও ভরে উঠে আনন্দে । সদ্য ঘরে তোলা  নতুন ধানের চাল দিয়ে  তৈরী হয়  নানা রকম পিঠে পুলি । বামের ঐতিহ্যবাহী উপাদেয় সব স্থানীয় খাবারের সাথে ‘ চুঙ্গাপিঠা’র উপস্থিতি গৃহস্থের রসুইকে পরিপূর্ণ করে তুলে । প্রত্যেকের বাড়ীতে প্রত্যেকের আমন্ত্রণ থাকায় উৎসবের মেজাজটা সর্বজনীন রূপ ধারণ করে ।

এছাড়াও  মকর সংক্রান্তির আর একটি  তাৎপর্য  আছেমহাভারত খ্যাত  পিতামহ ভীষ্ম শরশয্যায় শায়িত ছিলেন তিনি ছিলেন  ইচ্ছামৃত্যুর বরপ্রাপ্ত । এই  সংক্রান্তির দিনেই তিনি স্বেচ্ছায় মৃত্যু বরণ করেন । এ জন্য হিন্দুরা ব্রাহ্ম মুহূর্তে স্নান সেরে ‘তিল’ গ্রহণ করেন সর্বপ্রথম । তাই ঘরে ঘরে তিলের নাড়ু তৈরী হয় । এই সংক্রান্তিকে এই জন্য তিল সংক্রান্তি  ও বলা হয় ।

………………………………………………………………..

প্রিয় পাঠকমণ্ডলী,

বাম হিস্ট্রি ব্লগ আপনাদের আন্তরিক সাড়া ও উৎসাহে ক্রমশ সমৃদ্ধ হচ্ছে। অত্যন্ত আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে, এ পর্যন্ত ১১,৮৫০ বার পাঠকরা ব্লগটি পরিদর্শন করেছেন।

যারা বামের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি সম্পর্কে আগ্রহী, তাঁদের কাছে অনুগ্রহ করে ব্লগটির লিংকটি শেয়ার করুন:

bam-history.blogspot.com

এছাড়াও, ব্লগের Comment বিভাগে আপনাদের মূল্যবান মতামত, পরামর্শ ও প্রতিক্রিয়া জানালে আমরা অত্যন্ত উৎসাহিত হব।

আপনাদের সহযোগিতা ও ভালোবাসাই আমাদের অনুপ্রেরণা।


ধন্যবাদান্তে,
বাম হিস্ট্রি ব্লগ