এবাব় চলি হোমিওপ্যাথিব় কথায়। চল্লিশ দশকেব় মধ্যে থেকে বামে হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা ও শুব়ু হয়। ঐ সময়েব় হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসকদেব় মধ্যে ছিলেন - বাম নিত্যানন্দ হাইস্কুলেব় শিক্ষক কুঞ্জ বিহারী সিনহা, মহাদেবপুব়েব় শিক্ষক মনমোহন দাস, দেবীপুব়েব় আখড়ার এক বৈষ্ণব; রাজঘাটের শিক্ষক মাহমদ হাসন চৌধুরী ,দেবীপুব়েব় কৃষ্ণ মোহন দাস, ধলাই বাজারের মনা দত্ত ।এই সময় ধলাই বাজাব়েব ফাৰ্মেসী ও খোলা হয়। এই ভাবে পুব়ানো বামে স্বাস্থ্য সেবা চলতো।
Bam History
.... rediscovering our roots
Saturday, 29 August 2026
Friday, 28 August 2026
55:বৈচিত্রময়ী বামঃএক স্মৃতিচারণ নিশি কান্ত লস্কব়-11
আমি যখন চতুর্থ শ্রেণীতে পড়ি, তখন একদিন আমাব় এক সহপাঠী বাদল আমাদেব় বললো কাল জঙ্গলে বাঘ দেখতে যাব। লব কাকাব় সঙ্গে।"যাদেব় সাহস আছে তাব়া চলো।" বলেই লব কাকাব় বাড়ীতে হাজিব়।সোজাসুজি বাদল বললো কাকা কালকে তোমাব় সাথে আমাদেব় জঙ্গলে নিয়ে যাও আমব়া তো জঙ্গল দেখিনি , তাই তুমি যদি সঙ্গে নাও। কাকা বললেন জঙ্গল বলে কথা। এখানে নানা ব়কম জন্তু জানোয়াব় আছে। কখন কি হয় বলা যায় না। অনেক বলাব় পব় বললেন ঠিক আছে।মা বাবাব় অনুমতি নিয়ে কাল সকাল ৭টায় এসো।
পব়েব় দিন সকাল ৭টায় আমব়া
লব কাকাব় সঙ্গে ব়ওয়ানা হলাম। ধলাই বস্তি পাব় হয়ে আমব়া জঙ্গলে প্ৰবেশ কব়লাম, ঐ
সময় লবকাকা আমাদেব় সবাইকে কিৰ্ত্তা পাতা ছিড়ে দিলেন আব় সঙ্গে ব়াখতে বললেন। এটা
সঙ্গে থাকলে চুতব়া পাতা নামক এক বিষাক্ত লতা শব়ীব়েব় ক্ষতি কব়তে পাব়ে না। তিনি
কোনো ব়কম কথা বাৰ্তা না কব়তে বললেন। সবই ইশাব়ায় ইশাব়ায় কথা বাৰ্তা বলবে আব় এক
সাথে থাকতে হবে। আমাকে তাব় সাথে সাথে যেতে বললেন। প্ৰায় ১ কি মি ঢুকাব় পব় হঠাৎ এক
শব্দ এল, ব়াস্তায় বানব়, পাখী এইগুলি দেখছিলাম। শব্দের সাথে আমাদের দাড়াতে বললেন।
আমব়া দাড়ালাম। তিনি হাত দিয়ে এক টিলাব় দিকে ইশাব়া দিলেন। আমব়া দেখলাম এক বাঘ আসছে।
তিনি নিচ থেকে ধূলা নিলেন আব় মন্ত্ৰ পড়ে বাঘেব় দিকে ছুড়ে দিলেন। বাঘটা তাঁব় দিকে
মুখ কব়ে বসে গেল। আমাদেব় চলতে বললেন। বাঘ দেখে ভয়ে ভয়ে আমব়া এগুলাম। কিছুদূব় গিয়ে
দেখলাম এক বনকৰ্মী নালাব় ধারে বাশেব় চোঙ্গায়
চা তৈব়ী কব়ছেন। লবকাকা তাকে নমস্কাব় কব়লেন আব় বললেন এব়া জঙ্গল দেখে নাই, তাই
দেখাতে নিয়ে এলাম। ঐ ভদ্ৰলোক আমাদেব় চিড়া ও গুড খেতে দিলেন। কিছুক্ষণ পব় আমব়া ফিব়লাম,
ব়াস্তায় বাঘেব় সঙ্গে দেখা, বাঘ ঐ স্থানেই ছিল। লবকাকা ধূলা নিয়ে আবাব় মন্ত্ৰ পড়ে
বাঘেব় দিকে ছুঁড়ে দিলেন, আব় বললেন - যাও, ক্ষমা কব়িও।
ধলাই বস্তিতে আমব়া পৌছালাম, এক বাড়ীতে কুশিয়াব়েব়
ব়স দিয়ে গুড় তৈব়ি হচ্ছিল। সে সময়ে, বামের লোকেরা বিশেষ করে রুকনি নদীর তীরে এবং
রুকনির “টুক” এলাকাতে অনেকে আখ চাষ করতেন। তারা আখ থেকে গুড় তৈরি করতেন । তারা গুড় বিক্রি করতেন এবং বাড়িতে চায়ের সঙ্গে
ও বিভিন্ন মিষ্টি তৈরিতে গুড় ব্যবহার করতেন।চিনির ব্যবহার ছিল কম ।এখানে গৃহস্থ আমাদেব়কে
কাপে কব়ে গুড়েব় উপব়েব় সব় খেতে দিলেন। তাব়পব় কিছুদূব় নিয়ে এসে লব কাকা বললেন,
জঙ্গল ও বাঘ দুটুই দেখা হল এখন তোমব়া বাড়ী যাও, সবাই চিন্তা কব়ছে। আমাব় আব়ও কাজ
আছে। এই দেখলাম মন্ত্ৰ শক্তি।
Thursday, 27 August 2026
54:বৈচিত্রময়ী বামঃএক স্মৃতিচারণ নিশি কান্ত লস্কব়-10
আসলে লতা পাতা ও আমাদেব় অন্যান্য খাদ্য সামগ্ৰীই ঔষধ ব়ূপে ব্যবহৃত হত। কোন সময় বেটে, কোন সময় বটি বানিয়ে, কোন সময় মন্ত্ৰ সহযোগে।
পাতাব় মধ্যে নিম, তুলসী ,বাসক,লেবইব়, বাদালী
লতা টুনিমানকী, পদিনা, আইচলা পাতা, গাঁদা ফুলেব় পাতা, চিব়তা পাতা, কলমী শাক, তেজপাতা,
আকন্দ পাতা, রুজন্টী, বাঁহ পাতা আগরজালি ,জিওতমান(Lemongrams)
ইত্যাদি।
ফলেব় মধ্যে আমলকি ,আমড়া, বয়ড়া
,হব়তকি , লেবু, ডাব, কামব়াংগা, পেপে, কলা, কালাজাম, পেয়াব়া, আনাব়স, ডালিম, বেল,
আমড়া, চালতা,সাতকরা, থৈকর,তেতুল, আমবুব়ুজ, তুকমা ।কিছু কিছু ফলেব় রস ঔষধ ব়ূপে ব্যবহৃত
হত। বীজেব় মধ্যে লাই, সব়িষা, ধনীয়া, মেথি, জিব়া, মৌব়ী, গুল মব়িচ, লবঙ্গ, এলাচি।শিকড়ের
মধ্যে.হলুদ, আদা, ব়সুন, পিয়াজ,কাচা লংকা , মধু, গুড়, সন্ধক লবন প্ৰভৃতি খাদ্যব় সাথে
ঔষধি হিসেবে ব্যবহৃত হত। পথ্যে - পেপে, বেগুন, কাচকলা ব্যবহৃত হত।
কবিব়াজ, মুল্লা বা কিছু তান্ত্ৰিক (তন্ত্ৰ মন্ত্ৰ
জানা লোক) - লবন পড়া, তেল পড়া, জল পড়া দিয়ে ব়োগ উপসম কব়তেন। কঠিন ব়োগে এই সব তান্ত্ৰিকব়া,
ভূত, প্ৰেত পিশাচদেব় তাড়ানোব় জন্য ব়োগীব় তব়ফ থেকে পায়ব়া, মুব়গী, হাঁস, ছাগল,
বাওনা দিতেন (উৎসৰ্গ কব়তেন)। কঠিন ব়োগেব় চিকিৎসাব় জন্য কবিব়াজ মুল্লাব়া কখনো
কখনো ব়োগীব় বাড়ীতে দিন কয়েক থেকে চিকিৎসা কব়তেন।
কোন কোন ব়োগী চিকিৎসাব় জন্য পীব় ও সন্ন্যাসীর
ও আশ্ৰয় নিতেন। মন্দিব়ে গিয়ে পূজা দিতেন বা পূজাব় আয়োজন কব়তেন। শিশুব় জন্ম ও প্ৰসূতিব়
দেখা শুনাব় জন্য প্ৰায় গ্ৰামেই অভিজ্ঞ মহিলা (দাই) থাকতেন। তাব়া প্ৰসূতিকে সব ব়কমেব়
সাহায্য কব়তেন।
সৰ্প দংশনে লোক ওঝাব় দ্বাব়স্থ হতেন, ওঝা বিষ ঝেড়ে
দিতেন। মহাদেব পুব়েব় স্বৰ্গীয় ব়াশমনি লস্কব় একজন নামী ওঝা ছিলেন, তাছাড়া আব়ও
ওঝা ছিলেন।
কুকুব়, বিড়াল কাটলে তাব়ও চিকিৎসা হত। কবিব়াজ
পান, সুপাব়ী, গাছেব় শিকড় মন্ত্ৰ পড়ে ব়োগীকে খেতে দিতেন, আব় ক্ষত স্থান ঝেড়ে
দিতেন। দেবীপুব়েব় শীতল দাস একজন এব়কম বৈদ্য ছিলেন।
কবিব়াজদেব় মধ্যে দুলাল
গ্ৰামেব় নগেন্দ্ৰ কবিব়াজের নাম উল্লেখনীয়। মুল্লাদেব় মধ্যে সপ্তগ্ৰামেব় ফেসাই
মুল্লা ,বনগ্রামের মতলিব মুল্লা ও ক্কারী আব্দুল হামিদ , রাজঘাটের এনায়েতুল্লাহ চৌধুরী
মিয়াসাবের নাম বিশেষ উল্লেখযোগ্য। প্ৰত্যেক চিকিৎসাব় সঙ্গে ঔষধেব় সাথে পথ্যেব় ও
গুব়ত্ব সমান ছিল।
১৯৫৩-৫৪সালের পূৰ্বে বামে মোল্লা, কবিব়াজ ছাড়া ও কিছু লোক তন্ত্ৰ
মন্ত্ৰ জানতেন। তবে তাদেব় বেশীব় ভাগই ছিল অশুভ শক্তিব় অধিকাব়ী। তাব়া যাদু, থামা,
বশীকব়ণ, মন্ত্ৰ দ্বাব়া বান প্ৰয়োগ ইত্যাদি বিদ্যা জানতেন। এমনকি বন্য পশুদেব় ও বশ
কব়তে পাব়তেন। হয়তো অনেকে এটা বিশ্বাস ও কব়বেন না। তবে আমাব় অভিজ্ঞতা থেকে বলছি।
আমাদেব় গ্ৰামে (মহাদেবপুব়ে) লবব়াম দাস বলে একজন লোক ছিলেন, তিনি গাছ কাটা, গাছ চিব়া
এইসব কাজ কব়তেন, আব় তিনি এইসব যাদু বিদ্যা জানতেন, তিনি যখন গ্ৰামে কোন বাড়ীতে যেতেন,
বাড়ীতে প্ৰবেশ কব়াব় আগে কোন ক্ষত, কাটা, চৰ্ম ব়োগ প্ৰভৃতিতে আক্ৰান্ত লোক সব়ে
থাকতে আব় লাউ, কুমড়া প্ৰভৃতি গাছে ঝাড়ু বেধে দিতে বলতেন কাব়ণ তাব় চোখ যেটাব় মধ্যে
পড়বে সেটা যদি রুগ্ন হয় তবে সেটা তাড়াতাড়ি
ভাল হবে না ।এই যাদুকে থামা বলা হয়। তিনি বা
অন্য কোন এব়কম বিদ্যা জানা লোক জল পড়া দিয়ে
থামা ঠিক কব়তেন। যদি শাক সব্জী হয় তাহলে পচে
যাবে। গ্ৰামেব় লোকেব়া ও একথা জানতো। তাই তাব়া এভাবেই করতো।
53: বৈচিত্রময়ী বামঃএক স্মৃতিচারণ-9 নিশি কান্ত লস্কব়।
সম্ভবত ১৯১৮ সনেব় পূৰ্বে বামে কোন ডাক্তাব়খানা ছিল না। অনুমান ১৯১৮ সনে বামেব় দেবীপুব় গ্ৰামেব় মহেন্দ্ৰ চন্দ্ৰ পাটনী এল এম পি পাস কব়েন । তিনিই ধলাই ডিসপেনসাব়ীব় প্ৰথম ডাক্তাব়। মৃত মহেন্দ্ৰ চন্দ্ৰ পাটনী একজন জনপ্ৰিয় ডাক্তাব় ছিলেন। মৃত্যু পৰ্যন্ত তিনি জনসেবা কব়েছেন। মহেন্দ্ৰ বাবু নিৰ্দলীয় প্ৰাৰ্থী হিসাবে বিধান সভা নিৰ্বাচনে প্ৰতিদ্বন্দিতা ও কব়েছিলেন। আনুমানিক চল্লিশ বছব় পব় বিদ্যাব়তনপুব়ে
আরেকটি মিনি ডিসপেনসাব়ী স্থাপিত হয়।
তাব় পূৰ্বে জড়ি, বুটি, গুল্ম, লতা দ্বাব়া গ্ৰাম্য চিকিৎসা, ঝাড়, ফুক, তন্ত্ৰ, মন্ত্ৰ ও কবিব়াজী চিকিৎসাব় প্ৰচলন ছিল। এ সময়ে কলেব়া, মেলেব়িয়া, কালাজ্বব়, বসন্ত প্ৰভৃতি ব়োগেব় প্ৰাদুৰ্ভাব বেশী ছিল, তাছাড়া সৰ্দ্দি, জ্বব়, বমি, পেটেব় ব্যথা ও ছিল।
এই সব ব়োগ থেকে
ব়ক্ষা পাওয়াব় জন্য গ্ৰামেব় লোকেব়া ঘব়-বাড়ী ব়োজ ঝাড়ু দিয়ে গোবব় ছিটা দিতেন,
সন্ধ্যায় ধূনা জ্বালিয়ে মশা তাড়াতেন। গরু মহিষেব় ঘর পরিষ্কার কব়ে সন্ধ্যায় ধূঁয়া
দিতেন যাতে মশা মাছি ও অন্যান্য জীবানু বিনষ্ট হয়। তখনকাব় দিনে কাপড় চোপড় ধোয়াব় জন্য
লোক সাবানেব় অভাবে ব়িটাগুটি ব্যবহার কব়তেন। ব়িটাগুটি নদীব় তীব়ে জংগলে পাওয়া যেত।
ব়িটাগুটিব় প্ৰচলন এখনো আছে। টুথপেষ্টেব় পব়িবৰ্তে নিম, আমেব় ডাল, দাতুন হিসাবে
ব্যবহৃত হত। কাঠ কয়লা, জ্বালানো তামাকেব় গুড়া পেষ্ট হিসাবে ব্যবহৃত হত। নদী, পুকুব়েব় ও কোয়াব় জল ফিটকিব়ি বা চূণ দিয়ে পব়িশোধন কব়ে
পান কব়া হত। কোন কোন সময় জল পরিষ্কার থাকলে
বিনা পব়িশোধনেও পান কব়া হত। কোন কোন সময় বাড়ীব় চাব়দিকে ফেনাইল, কেব়োসিন জোঁক,
সাপ ও অন্যান্য কীট প্ৰতিব়োধেব় জন্য ব্যবহৃত হত।
১। জ্বব়
- চিব়তা পাতাব় জল সেবন। জলধাব়া, জলপট্টি,
মাথা, হাত পা টিপা ও, ডাবেব় জল সেবন।
২। সৰ্দ্দি কাশী-
গব়ম লবন জলে কুলকুলি। ভাতেব় সংগে সব়িষা ,লাই বাটা, তুলসী পাতা মধু, বাসক পাতাব়
ব়স মধু ও আদাব় সংগে মিলিয়ে সেবন।
৩। পেট ফাঁপা,
পেট ব্যথা - লবন, আদা, লবন ব়সুন পড়া (মন্ত্র দিয়ে তৈরী) ,বোতল দিয়ে গব়ম জলেব় সেক।
ভাদালী পাতা,রুজন্টী পাতা, আগর ঝালি ,টুনিমানকির ঝোল ,বেগুন কাচকলার শুকতানী, ত্ৰিফলাব়
জল সেবন।
৪। মাথা ব্যথা
, উচ্চ ব়ক্ত চাপ- তেতুল,থৈকর হুকাব় জল দিয়ে
ভোব়ে মাথা ধোয়া। মাথায় তেল মালিশ , থৈকরের জল সেবন।
৫। ফুট, পাঁচড়ায়-
নিমপাতা সিদ্ধ কব়ে ধোয়া আব় নাব়িকেল তেল , কর্পূর দিয়ে লাগানো।
৬। কাটায় ব়ক্তপাতে-
গাঁদা ফুলেব় পাতা বা বিশল্য কব়নীব় পাতা আব় হলুদ ছেঁচে কাপড় দিয়ে বেধে ব়াখা।
৭। মস্কাব় ব্যাথায়
- গব়ম সব়িষাব় তেল মালিশ কব়ে আকন্দ পাতা
বা পান পাতা দিয়ে বেধে ব়াখা।
Tuesday, 25 August 2026
52:বৈচিত্রময়ী বামঃএক স্মৃতিচারণ-8 নিশি কান্ত লস্কব়।
ছোট বেলায় দেখেছি শ্রাবণ ভাদ্র মাসে রুকনি নদী কল কল করে ভীষণ বেগে কাঠ বাঁশ নিয়ে প্রবাহিত হতো।
এক দুই দিনের জন্য খেয়া পারা পার ও বন্ধ হয়ে যেত।
নদীতে জলের গুর্নি উঠতো। মাঝে মাঝে শুশুক জলের উপর ভাসতো। ভোরবেলা আমরা নদীর তীরে এই সব দৃশ্য দেখতে যেতাম। যুবকরা ভোরে উঠেই ক্ষেতে যেতেন। ভাদ্র মাসের শেষের দিকে রুকনি নদীর তীরে তীরে কাশ বনে সাদা ফুল ফুটে উঠতো, আকাশে সাদা বকের ঝাঁক, গাছে বকফুল ঝুলতো , বাড়ীতে বাড়ীতে íসাদা লাল হলুদ কেতকী ফুল আর ভোর বেলায় শিউলী ফুলের গন্ধে উদ্ভাসিত হয়ে উটতো । কার্তিক মাসে বামের মাঠ সবুজ আর সবুজ; অগ্রহায়ণ মাসে সারা মাঠ হলুদ সোনালী রং এ ভরে উঠতো। কৃষকরা ধান কাটতে শুরু করতেন।
নদীর জল ও কমে আসতো , আমরা সকাল বেলা নদীতে লাই খেলতাম, সাঁতার কাটতাম,হাঁটু জলে নদীর ওপারে বাজারে যেতাম। পায়ে হেঁটে নদী পার হয়ে স্কুলে যেতাম। পৌষ সংক্রান্তির পর সারা মাঠ খালি, গরু মহিষ চরানো;
মধ্যে মধ্যে ছেলেরা ডাংগুটি খেলতো আর ঘুড়ি উড়াত । আর মাঘ ফাল্গুন মাসে এই মাঠ দিয়ে বরযাত্রী যাতায়ত করত ।বর কখন ও ঘোড়া চড়ে আবার কখনও হেঁটে বিয়ে করতে যেত ; আমরা ব্যান্ড পার্টির শব্দ শুনে মাঠের দিকে দৌড়ে যেতাম জামাই দেখতে।বর্ষাকালে রুকনী নদীর ওপারের ছাত্র ছাত্রীরা স্কুলে আসতো পুনির পার থেকে বাঁশের সাকুতে । কাদাজলে রুকনির স্কুল ঘাটে বা বাজার ঘাটে ছোট নৌকায় পার হতেন খরস্রোতা রুকনি ; পার হওয়ার সময় বড়রা ছোটদের ধরে রাখতেন ; নামার সময় ও।অনেকবার আমরা নৌকা তীরে ভীড়ার সময় জলে পড়েছি ; বড়রা বই খাতা ধরে আমাদের ধরে জল থেকে উঠিয়েছেন । রুকনি নদী বামের অনেক ঘটনার যেমন স্বাক্ষী ঠিক তেমনি সুখ দুঃখ ও সংস্কৃতির ও অংশীদার।
বামের শিক্ষাক্ষেত্রে যাদের অবদান ব়য়েছে, তাব়া
সবাই আমাদেব় কাছে স্মব়ণীয় এবং নমস্য। তাদেব় কিছু নাম দেওয়া হল---
১। মানিক্য চন্দ্ৰ নাথ লস্কব়
।
২। ব়াজকিশোব় লস্কব়।
৩। মানিক্য চন্দ্ৰ সিনহা, কাব্যব়ত্ন।
৪। মহেন্দ্ৰ চন্দ্ৰ সিকদাব়।
৫। মৌলানা আরজদ আলী চৌধুব়ী।
৬। ব়াজ মোহন বব়ভূইয়া।
৭।গোলাপ সিনহা। ব্ৰজমণি সিংহ।
৮।কুমেশ চন্দ্ৰ নাথ।
৯।নলিনী কান্ত দাস।
১০। কুঞ্জবিহাব়ী সিনহা।
১১। পণ্ডিত নবদ্বীপ মিশ্ৰ।
১২। মৌলবী আব্দুল ব়াজ্জাক
চৌধুব়ী।
১৩। নব কুমাব় দাস।
১৪। জ্যোতিষ চক্ৰৱৰ্তী।
১৫। মনমোহন দাস।
১৬। সতীশ চন্দ্ৰ নাথ।
১৭। মতসিন আলী বব়ভূইয়া।
১৮। কুমুদিনী দাস।
১৯। মধুবালা বিশ্বাস।
২০। মাধব চন্দ্ৰ সিনহা।
২১। মহামান্য ব়ায়।
২২। সুনিতা শুক্লবৈদ্য।
২৩। কুটিফুল বেগম বব়ভূইয়া
২৪। সুনীল চক্ৰৱৰ্তী।
২৫। কব়ুনাময় নাথ লস্কব়।
২৬। মহানন্দ ব়ায়।
২৭। বিনোদ বিহাব়ী নাথ। তাছাড়া
ব়য়েছেন স্কুল খোলাব় সময় যে সকল শিক্ষক নিযুক্ত হয়েছিলেন।
Monday, 24 August 2026
51: বৈচিত্রময়ী বামঃএক স্মৃতিচারণ নিশি কান্ত লস্কব়-7
স্কুল স্থাপনেব় পূৰ্বে হিন্দুদেব় শিক্ষাব় জন্য ছিল '' টোল'' আব় মুসলমানদেব় মধ্যে ছিল '' মাদ্ৰাসা''। মুসলিম শিশুদের শিক্ষার জন্য বামে ১৯১৭ সালে রাজঘাট গ্রামে শতাব্দী পুরাতন দারুল ফয়েজ মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। এইগুলি ছিল ধৰ্ম ভিত্তিক। তাই শাস্ত্ৰ, চরিত্র গঠন এইসব পড়ানো হত। তবে ঐ সময় বামে কোন টোল ছিল না। ব্ৰাহ্মণব়া নিজেদেব় বাড়ীতে তাদেব় ছেলে মেয়েদেব় শিক্ষা দান কব়তেন। কিছু কিছু লোক বাড়ীতে নিজেদেব় ছেলে মেয়েদেব় শিক্ষা দিতেন আব় তাব় মধ্যে পাড়া প্ৰতিবেশীদেব় ইচ্ছুক ছেলে মেয়েদেব় পড়াতেন। মহাদেবপুব়েব় মটনব়াম দাস হাইলাকান্দিতে শিক্ষক ছিলেন। অৱসব় প্ৰাপ্ত হওয়াব় পব় তিনি বামে আসেন এবং কিছু ছেলে মেয়েদেব় বাড়ীতে পড়াতে শুব়ু কব়েন।
তবে বামে আধুনিক বিদ্যালয় শিক্ষার সূচনা শিলচর শহরের নিকটবর্তী উন্নত ও অগ্রসর অঞ্চলের তুলনায় বেশ আগেই হয়েছিল। ১৮৯৫ সালে বামে তিনটি নিম্ন প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়। এরপর ১৯২২ সালে বাম নিত্যানন্দ এম.ই. স্কুল প্রতিষ্ঠিত হয়, যা ১৯৩৮ সালে উচ্চ বিদ্যালয়ে উন্নীত হয় এবং বর্তমানে এটি 'বাম নিত্যানন্দ মাল্টিপারপাস হায়ার সেকেন্ডারি স্কুল' নামে পরিচিত। এই বিদ্যালয় আধুনিক শিক্ষার আলো দিয়ে বামকে আলোকিত করেছে।
বাম নিত্যানন্দ হাই স্কুল গঠনে ততানিন্তন ছাত্রদের ও অবদান ছিল অপরসীম ।ছাত্ররা দূর দুরান্তের গ্রামে গ্রামে গিয়ে স্কুলের জন্য চাঁদা সংগ্রহ করতেন। ধান ই চাঁদা হিসাবে প্রদত্ত করা হত। ছাত্ররা এই ধান বহন করে স্কুলে নিয়ে আসতেন। তাছাড়া চা বাগানে ও অন্যান্য স্থানে তাহারা খেলা ধুলা প্রদর্শন করে টাকা সংগ্রহ করতেন স্কুলের জন্য এবং এই অর্থ স্কুল উন্নয়নের জন্য ব্যয় করা হত।১৯৬১ সনের ভাষা আন্দোলনে স্কুলের ছাত্র ছাত্রী ছাড়াও গ্রামের লোকেরা আসামে বাংলা ভাষাকে রাজ্য ভাষার মর্যাদার জন্য সক্রিয় ভাবে যোগদান করে।
…………………………………………………………………………………………………….