Saturday, 13 June 2026

22.-বামের বিভিন্ন সমাজে ধর্মীয় বৈশিষ্টঃ৩: জিয়াউদ্দিন চৌধুরী

 

মসজিদের  কর্মচারী-

 মহল্লার ধর্মীয় দায়িত্ব পালনের লক্ষ্যে মসজিদ পরিচালনার জন্য বামের প্রতিটি মসজিদে নিয়মিত কর্মী রয়েছে।

ইমাম: ইমাম হলেন মহল্লার আধ্যাত্মিক নেতা এবং প্রাথমিক ধর্মীয় কর্তৃপক্ষ। দৈনিক পাঁচবার নামজে ইমামতি করার পাশাপাশি তিনি শুক্রবার জুমার নামাজ এবং দুই ঈদের নামাজের ইমামতি করেন এবং খুতবা (ধর্মোপদেশ )দেন। তিনি ধর্মীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন এবং প্রায়ই সম্প্রদায়ের সিদ্ধান্ত গ্রহণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তিনি ২৪ ঘণ্টা মসজিদের খেদমতে নিয়োজিত থাকেন। তিনি ইসলামী ধর্মতত্ত্বে শিক্ষিত ।তাকে একটি নির্দিষ্ট সম্মানী প্রদান করা হয়। এছাড়াও তিনি মহল্লাবাসীর কাছ থেকে উদারহস্তে  দান পান যা তাকে একটি সাধারণ জীবনযাপন  করতে  সহায়তা করে।তার জীবন আখেরাতের(পরকাল) জন্য ইসলামের সেবায় নিবেদিত।

মুয়াজ্জিন: মুয়াজ্জিনরা দিনে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের জন্য মহল্লাবাসীকে আহ্বান (আজান)করার জন্য নিয়োজিত। দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ এবং সাপ্তাহিক জুম্মার নামাজের নির্দিষ্ট সময়সূচী বজায় রাখার ক্ষেত্রে তার ভূমিকা উল্লেখযোগ্য। মুয়াজ্জিন পারিশ্রমিক  পেয়ে  থাকেন

মাদ্রাসা শিক্ষক: মসজিদগুলি মাদ্রাসা হিসাবেও কাজ করে এবং শিশুদের এবং প্রাপ্তবয়স্কদের ধর্মীয় শিক্ষা প্রদানের জন্য ইমাম ছাড়াও অন্য শিক্ষকদের নিযুক্ত করা হয়। তারা ইসলামী জ্ঞান মূল্যবোধের সঞ্চার নিশ্চিত করেন।

 খাদিম (তত্ত্বাবধায়ক): মসজিদকে মুসল্লিদের (নামাজ আদায়কারি)জন্য মনোরম স্থান হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে খাদিম মসজিদের পরিচ্ছন্নতা রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করেন। ছোট মসজিদে স্বেচ্ছাসেবকরা খাদিম হিসেবে কাজ করেন।খাদিম পারিশ্রমিক  পেয়ে থাকেন ।

…………………………………………………………………………………………..

23.বামের   বিভিন্ন সমাজে ধর্মীয় বৈশিষ্ট ৪ঃজিয়াউদ্দিন চৌধুরী

21.বামের বিভিন্ন সমাজে ধর্মীয় বৈশিষ্টঃ-২জিয়াউদ্দিন চৌধুরী

 মসজিদ ও ঈদ্গাহঃ

বামের মুসলমানদের প্রতিদিন পাঁচবার নির্দিষ্ট সময়ে নমাজ পাঠ বা প্রাত্যহিক উপাসনা অবশ্যই করণীয় কর্ম এই বাধ্যতামূলক প্রাত্যহিক উপাসনা বা নমাজ পাঠে আবার এককভাবে একা একা সম্পন্ন করার চাইতে সমবেতভাবে সম্মিলিত উপাসনাতে অনেক বেশি পূণ্যার্জন হয়।

এজন্য রোজ পাঁচবার সমবেতভাবে নামাজ পাঠ  করার জন্য এবং শুক্রবারে সমবেতভাবে জুম্মার নমাজ পাঠ করবার জন্য উপাসনালয় বা মসজিদ মুসলমান সমাজের এক অপরিহার্য ধর্মীয় অনুষঙ্গ। মসজিদ হচ্ছে মুসলমান সমাজের বৌদ্ধিক, আধ্যাত্মিক, সামাজিক অর্থনৈতিক প্রগতির  কেন্দ্রস্থল। মসজিদগুলো সামাজিক ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান।    “ তথ্য ভিত্তিক বামের মসজিদ সমুহ” গ্রন্থে অধ্যাপক সাবির আহমেদ চৌধুরী বামের প্রতিটি মসজিদের বিস্তারিত বর্ণনা দিয়েছেন। এই বইটি বামের প্রতিটি মসজিদের ঐতিহাসিক তথ্যের একটি মূল্যবান উৎস । তথ্য অনুসারে বর্তমানে বাম এলাকায়  মসজিদের  সংখ্যা ৬৫ টি।

   বামের এই সকল ৬৫ টি মসজিদের উদ্দেশ্য, মৌলিক কাঠামো, উপাদান, ব্যবস্থাপনা এবং অর্থব্যবস্থা একই রকম, শুধুমাত্র মহল্লার আকার এবং অর্থনৈতিক অবস্থার উপর ভিত্তি করে মসজিদের আকার এবং আয়তনে পার্থক্য রয়েছে।  নিম্নে বামের মসজিদসমূহের এক রূপরেখা তুলে ধরা হল।

বামের প্রতিটি মসজিদ একটি গ্রাম বা একাধিক গ্রাম নিয়ে গঠিত মহল্লার ব্যবহারের জন্য নিবেদিত ।

প্রতিটি মসজিদ সাধারণ সভায় মহল্লার বাসিন্দাদের দ্বারা নির্বাচিত একটি ম্যানেজিং  কমিটি দ্বারা পরিচালিত হয়। এক একটি  ম্যানেজিং কমিটিতে একজন সভাপতি, সেক্রেটারি -কাম-কোষাধ্যক্ষ এবং মতওয়াল্লি মুতাওয়াল্লি হলেন একজন তত্ত্বাবধায়ক বা ট্রাস্টি, যিনি একটি মসজিদের কার্যক্রম পরিচালনার দায়িত্বে থাকেন।

বামের মসজিদগুলিতে নিম্নলিখিত অবকাঠামো পাওয়া যায়।

মিহরাব- মসজিদের পশ্চিম দেয়ালে একটি কুলুঙ্গি যা মক্কার দিক নির্দেশ করে (কিবলা), যার দিকে মুখ করে মুসলমানরা প্রার্থনা করে। ইমাম মিহরাব থেকে জামাতের নামাজের নেতৃত্ব দেন।

 মিম্বর-একটি মিম্বর( ছোট এবং উচ্চতর প্ল্যাটফর্ম)  যেখান থেকে ইমাম জুমার নামাজ এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় অনুষ্ঠানে ভাষণ (খুতবা)  দেন।

 অযু এলাকা : পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করার জন্য নামাজের আগে রীতি অনুযায়ী হাত, মুখ পা ধোয়ার সুবিধা সহ স্থান।

মিনার: একটি লম্বা মিনার যেখান থেকে আযান দেওয়া হয়। এটি প্রায়শই একটি স্থাপত্য বৈশিষ্ট্য যা মসজিদের উপস্থিতির প্রতীক।

 চেহন-  মসজিদের পূর্ব অংশে একটি খোলা স্থান রয়েছে যা প্রার্থনা , শিশুদের ইসলামিক শিক্ষা এবং সম্প্রদায়ের সমাবেশের জন্য একটি অতিরিক্ত স্থান হিসাবে কাজ করে।

ওয়াশরুম -যারা এখানে নামাজের জন্য আসে তাদের প্রস্রাব এবং মলত্যাগের জন্য তৈরি ওয়াশরুম এই সুবিধাগুলো ইসলামিক অনুশীলনে পরিচ্ছন্নতা স্বাস্থ্যবিধির গুরুত্বকে প্রতিফলিত করে।

জলের পুকুর - প্রতিটি মসজিদে ওজু এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার জন্য ব্যবহারের একটি জলের পুকুর রয়েছে। এটি  মসজিদের একটি অপরিহার্য উপাদান। আজকাল জলের পুকুরের  জায়গায় পাইপের জল আসছে ।

 উপরোক্ত সাধারণ সুবিধার পাশাপাশি বামের অনেক মসজিদে ইমাম, মুয়াজ্জিন এবং অন্যান্য কর্মীদের জন্য আবাসিক কোয়ার্টার রয়েছে।