কৃষিকাজ এখন আর বামবাসীর প্রধান জীবিকা নয়। এটি একটি লাভজনক অর্থনৈতিক কার্যক্রম হিসাবেও আর বিবেচিত হয় না। এর প্রধান কারণ কৃষিকর্মীর অভাব এবং বিকল্প আয়ের সুযোগের প্রসার। বেশিরভাগ পরিবারই বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের মাধ্যমে বিনামূল্যে বা ভর্তুকিযুক্ত চাল পায়। তাই মানুষ কৃষি কার্যক্রম ছেড়ে দিয়েছে । বেশীর ভাগ জমি পতিত অবস্থায় পড়ে থাকে। নতুন প্রজন্ম কৃষিকাজের কষ্ট স্বীকার করতে আগ্রহী নয় এবং অধিকাংশই নতুন ব্যবসায়িক ও পেশাগত ক্ষেত্রগুলোর প্রতি আকৃষ্ট এবং তারা কৃষিকাজ সম্পর্কে অজ্ঞ। এটি একটি অশুভ সংকেত। যদি কখনও সরকার বিনামূল্যে বা ভর্তুকিযুক্ত চাল দেওয়া বন্ধ করে দেয়, তবে মানুষ আবার কৃষি শুরু করতে পারবে না।
বামে
পরিসেবা ভিত্তিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড যেমন পরিবহন, স্বাস্থ্যসেবা, কেনাকাটা-বেচাকেনা, শিক্ষকতা এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা, কৃষিকাজের বিকল্প হিসেবে উঠে আসছে। একইসাথে, বামবাসীরা
মিস্ত্রি,
বিদ্যুৎকর্মী,
নলকূপ ও পাইপ ফিটার,
রঙের কাজ,
আসবাবপত্র নির্মাণ,
কম্পুটার এবং
ডেস্কটপ পাবলিশিং,
ব্লগিং,
গাড়ি ধোয়া,
বৃক্ষ নার্সারি,
আগর গাছের চাষ, মৎস্যচাষ, মুরগি পালন,ডায়াগনস্টিক সেন্টার,সরকারি ও বেসরকারি খন্ডে চাকুরি, মোটর মেকানিক , পর্যটন শিল্প ,এবং হোটেল ও রেস্তোরাঁর মতো আধুনিক পেশার দিকে ঝুঁকছে।
বাম-এর ভৌগোলিক অবস্থান এই অঞ্চলের অর্থনীতির জন্য বিশেষ সুবিধা প্রদান করেছে। বাম কাছাড় এবং মিজোরামের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ স্থলের ভূমিকা পালন করে। এর ফলে মিজোরাম এবং তার বাইরের বাজারগুলোর সাথে ব্যবসায়িক সুযোগ তৈরি হয়েছে।
.বাম হল মিজোরামের বনজ সম্পদ, উদ্যানফল এবং কৃষিজাত পণ্যের বিক্রয়ের প্রবেশদ্বার, যেমন রেমা, মরিচ, সুপারি, গন্ধী, কাঠ, বাঁশের বাঁশি, আদা, হলুদ এবং অন্যান্য পণ্য। বামের ভাগবাজার এবং ধলাইবাজার মিজোরামের জন্য নির্মাণ সামগ্রী, ইলেকট্রনিক সামগ্রী এবং অন্যান্য ভোক্তা সামগ্রীর বাজার হিসেবেও পরিচিত।
ভারত সরকার প্রায় ২০/২৫ বছর ধরে ‘লুক ইস্ট’ নীতি এবং ২০১৪ সালে এনডিএ সরকারের ‘অ্যাক্ট ইস্ট’ নীতি নিয়ে কাজ করছে। কিন্তু বামবাসীরা অনেক আগেই মিজোরামের দক্ষিণের সীমানা সংলগ্ন দেশগুলোর সাথে ব্যবসায়িক সুযোগের বিষয়ে সচেতন হয়েছিলেন। সড়ক যোগাযোগের উন্নতি, যোগাযোগ নেটওয়ার্কের সম্প্রসারণ এবং পরিবহন খাতের বিকাশ বামবাসীর সামনে নতুন দ্বার উন্মোচন করেছে।
ফলস্বরূপ, বাম-এর অর্থনীতিতে এক নতুন যুগের সূচনা হয়েছে। পুরনো কৃষিনির্ভর অর্থনীতি এখন ইতিহাসের অংশ। তবে ইট প্রস্তুত শিল্প ছাড়া উৎপাদন ক্ষেত্রের প্রসার তেমন লক্ষণীয় নয়। যদিও মিজোরামের বাজারের চাহিদা মেটানোর জন্য এই শিল্প গড়ে উঠেছে, এটি বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। মূল্যবান কৃষিজমি ধ্বংস এবং পরিবেশ দূষণ এই শিল্পের প্রধান সমস্যা।
বর্তমান প্রজন্মের নতুন পেশাগত উদ্যোগ এবং পরিসেবার মাধ্যমে বামবাসীরা শুধু তাদের জীবনযাত্রার মান উন্নত করছেন না, বরং অঞ্চলের অর্থনীতিতেও নতুন শক্তি ও গতিশীলতা যোগ করছেন। তবে পরিবেশ সংরক্ষণ , দীর্ঘস্থায়ী অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ও শিক্ষার প্রসার নিশ্চিত করা এখন বাম-এর জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ
প্রত্যাহ্বান
। .এই ক্ষেত্রে বামের অনেক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা
এবং এনজিও কাজ করছে।