“যাহা ধারণ করে তাহাই ধর্ম ।“ অর্থাৎ,
আমাদের দেহ ,সমাজ বা জীবনটাকে সুন্দরভাবে
ধরে রাখতে যে কর্ম পদ্ধতি বা নীতি
নিয়মের অবস্থিতি আবশ্যক তা-ই ধর্ম। এটা সব জীবনের জন্য প্রযোজ্য ।তাই ধর্ম সবার
জন্য এক এবং অভিন্ন । তবে জীবন টাকে যাপন করার জন্য বেছে নেওয়া পথ এক না-ও হতে
পারে।তাই ভিন্ন হয় “ধর্ম মত “ ।যেমন -হিন্দু,মুসলমান , বৌদ্ধ জৈন ,খৃষ্টান ইত্যাদি ।তবে এই মতগুলোই ধর্ম বলে
ব্যাপকভাবে পরিচিত ।
.বাম প্রধানত
হিন্দু ,মুসলমান, এবং সীমিত সংখ্যক খ্রিস্টান দ্বারা অধ্যুষিত।প্রতিটি সম্প্রদায়ই
তাদের নিজনিজ ধর্মীয় রীতিনীতি, বৈশিষ্ট্য এবং তাদের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান নিয়ে
বসবাস করছে।
কথায় বলে বাঙ্গালী হিন্দুদের”বার মাসে তেরো পার্বন”।বলা যায় বামের ক্ষেত্রে এই কথাটি আক্ষরিক অর্থে প্রযোজ্য। কথাটা নতুন নহে ,বরং অতি পুরাতন ।কারণ অতি প্রাচীন কাল থেকেই নানা রীতি নীতি ,পূজা পার্বণ এই সমাজে প্রচলিত । এবং এর যথোপযুক্ত কারণ ও আছে ।কারণ হলো- শৈব,শাক্ত, সৌর , গাণপত্য ছাড়াও বৈষ্ণব মতের প্রচুর সংখ্যক মানুষ বামের বাঙালি হিন্দু সমাজে বর্তমান । বাঙালি ছাড়াও কিছু সংখ্যক হিন্দুস্থানী ও মনিপুরী ভাষাভাষী হিন্দুও এখানে বসবাস করেন ।
প্রত্যেক মতের অনুসারী মানুষ নিজেদের বিশ্বাস অনুযায়ী
ইষ্টদেবতার পূজার্চনা করে থাকেন। এই পূজার্চনাকে
কেন্দ্র করে উৎসব অনুষ্ঠানে যোগদান করতে পারেন সবাই ।শৈব রা শিবের, শাক্তরা দুর্গা-কালি-মনসা প্রভৃতি শক্তির
,সৌরাগণ সূর্যের ,গানপত্যরা গণেশের পূজা করে থাকেন । নিজস্ব বিশ্বাস ও শ্রদ্ধা অনুযায়ী
একাধিক মতের অনুসারী হতেও কোনও আপত্তি নেই । এছাড়াও ভাইফোঁটা ,জামাইষষ্ঠী ,বিয়ে ,আন্নপ্রাশন
প্রভৃতি সামাজিক অনুষ্ঠানগুলো বামের সব হিন্দুরাই পালন করে থাকেন ।ফলে এগুলো পার্বণের
সংখ্যা আরও বাড়িয়ে দেয় ।
বাম অঞ্চলে ধর্মীয় অনুষ্ঠানগুলো পালনের জন্য নির্দিষ্ট কিছু দেবালায় যেমন বিদ্যমান ,তেমনই অস্থায়ী মণ্ডপ বানিয়ে একক বা সামূহিক পূজার্চনার প্রচলনও দেখা যায় । স্থায়ী দেবালয়গুলোতে অধিষ্ঠিত দেবদেবীর পূজাই হয়ে থাকে । অস্থায়ী মন্ডপে যে কোনও দেবদেবীর পূজা করা যায় । কিন্তু কোনও নির্দিষ্ট স্থানে বার বার একই পুজা অনুষ্ঠিত হলে স্বাভাবিক ভাবেই স্থানটি ঐ নির্দিষ্ট পূজার নামেই খ্যাতি পেয়ে যায় ।
…………………………………………………………………………………………….