Thursday, 18 June 2026

27.বামের বিভিন্ন সমাজে ধর্মীয় বৈশিষ্ট-8ঃজিয়াউদ্দিন চৌধুরী

 বামের বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতি এবং সম্প্রদায়ের সাথে একটি ছোট কিন্তু উল্লেখযোগ্য খ্রিস্টান জনসংখ্যা রয়েছে যা প্রধানত মিজোরামের সীমান্তের কাছে বসবাসকারী উপজাতি সম্প্রদায়ের সমন্বয়ে গঠিত। এখানে কয়েকটি উল্লেখযোগ্য গীর্জা রয়েছে যা বামের খ্রিস্টানদের জন্য আধ্যাত্মিক এবং সামাজিক কেন্দ্র হিসাবে কাজ করে।
 প্রেসবিটেরিয়ান চার্চ, হাতিমারাঃ হাতিমারার প্রেসবিটেরিয়ান চার্চ এই এলাকার খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের সামাজিক ও ধর্মীয় কর্মকাণ্ডের একটি ভিত্তি। এটি তার সদস্যদের মধ্যে ঐক্য ও বিশ্বাসের একটি শক্তিশালী ভিত্তি তৈরি করে। গির্জাটি তার প্রাণবন্ত উপাসনা সেবা এবং স্থানীয় সামাজিক উদ্যোগে সক্রিয় অংশগ্রহণের জন্য পরিচিত। 
সাইহাপুর প্রেসবিটারিয়ান চার্চঃ সাইহাপুর প্রেসবিটারিয়ান চার্চ বামের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান। এটি স্থানীয় খ্রিস্টান জনগোষ্ঠীর আধ্যাত্মিক চাহিদা পূরণ করে। গির্জা তার সদস্যদের মধ্যে খ্রিস্টান মূল্যবোধ এবং শিক্ষার প্রচারে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে
বুয়ারচেপ প্রেসবিটারিয়ান চার্চঃ বুয়ারচেপের মনোরম গ্রামে অবস্থিত, বুয়ারচেপ প্রেসবিটারিয়ান চার্চটি খ্রিস্টান বিশ্বাসের প্রতীক হিসাবে দাঁড়িয়ে আছে। প্রার্থনার জন্য জায়গা দেওয়ার পাশাপাশি চার্চ শিক্ষাগত এবং স্বাস্থ্য-সম্পর্কিত পরিষেবা প্রদানের মাধ্যমে স্থানীয় উপজাতীয় জনগোষ্ঠীকে সহায়তা করে।
 ই এফ চি আই চার্চ, ধলাখাল :ধলাখালের ইভাঞ্জেলিক্যাল ফ্রি চার্চ অফ ইন্ডিয়া (ইএফসিআই) তার ইভাঞ্জেলিক্যাল প্রোগ্রামের জন্য পরিচিত। এই গির্জা খ্রিস্টান বিশ্বাসের বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য এবং বিভিন্ন দাতব্য উদ্যোগের মাধ্যমে সম্প্রদায়ের সেবা করার জন্য নিবেদিত। এটি ধলাখালের সম্প্রদায়ের জন্য আধ্যাত্মিক সাধনা এবং পরিষেবার একটি কেন্দ্র। 
 বিবিসি ব্রু ব্যাপটিস্ট চার্চ, জগা হাতিখাল পাড়া: জগা হাতিখাল পাড়ার বিবিসি ব্রু ব্যাপটিস্ট চার্চ ব্রু বা রিয়াং আদিবাসী সম্প্রদায়ের আধ্যাত্মিক চাহিদা পূরণ করে। এই গির্জা সম্প্রদায়ের আধ্যাত্মিক বিকাশকে গুরুত্ব দেয় ও এটি বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক সেবা প্রদান করে। এটি এমন একটি জায়গা যেখানে ব্রু সম্প্রদায় ধর্মীয় এবং সামাজিক-সাংস্কৃতিক কার্যকলাপের জন্য একত্রিত হতে পারে। 
 ভাগাবাজার প্রেসবিটেরিয়ান চার্চঃ ভাগাবাজার প্রেসবিটারিয়ান চার্চ বামের একটি নতুন চার্চ। এটি রাজঘাট এবং বনগ্রামের সীমান্তে অবস্থিত যেখানে কোন খ্রিস্টান জনসংখ্যা নেই। সম্প্রদায়ের উন্নতি এবং খ্রিস্টান আদর্শ প্রচারের লক্ষ্যে এটি এখনও তার বিভিন্ন সামাজিক এবং শিক্ষামূলক কর্মসূচি শুরু করার অপেক্ষায়। 

 সাপ্তাহিক প্রার্থনা এবং সম্প্রদায়ের সমাবেশ: চার্চে সাপ্তাহিক প্রার্থনা সভা বামের খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। প্রতি রবিবার এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। ধর্মগ্রন্থ পাঠ, এবং গান গাওয়া বামের চার্চে সাপ্তাহিক প্রার্থনার অংশ। চার্চ পরিষেবাগুলির মধ্যে প্রায়ই যাজকদের দ্বারা প্রদত্ত উপদেশ, আধ্যাত্মিক এবং নৈতিক দিকনির্দেশনা সম্বোধন করা এবং সম্প্রদায়কে খ্রিস্টান নীতি অনুসারে জীবনযাপন করতে উৎসাহিত করা অন্তর্ভুক্ত। বামের খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের দ্বারা ক্রিসমাস এবং বড়দিনের আগের দিনগুলি অত্যন্ত উৎসাহ এবং আনন্দের সাথে পালিত হয়। বড়দিনের প্রাক্কালে একটি প্রাণবন্ত এবং উৎসব পরিবেশ তৈরি করতে গীর্জাগুলি আলো দিয়ে সজ্জিত করা হয় ।

Wednesday, 17 June 2026

26.বামের বিভিন্ন সমাজে ধর্মীয় বৈশিষ্ট-7ঃজিয়াউদ্দিন চৌধুরী

 


বামে নক্সবন্দি মুজাদ্দেদি সুন্নি তরিকায় সুফিবাদ চর্চা :

রাজঘাট গ্রামে বসবাসকারী মৌলানা আরজদ আলী চৌধুরী এবং মৌলানা আব্দুল হামিদ চৌধুরী, ১৯১৭ সালে রামপুর মাদ্রাসা থেকে ইসলামিক  উচ্চ শিক্ষা সম্পন্ন করে ফিরে আসার পর, তাদের আধ্যাতিক দিক-নির্দেশক রামপুরের ইব্রাহিম আলী খানের (জনপ্রিয়ভাবে নশাখা নামে পরিচিত) নির্দেশনায় নক্সবন্দি মুজাদ্দেদি সুন্নি তরিকায় সুফিবাদ চর্চা শুরু করেন। তাঁরা আল্লাহর নৈকট্য লাভের জন্য তাঁদের অনুসারীদের পথ নির্দেশনা দেওয়ার ‘ইযাযত’(অনুমোদন) পান।

মওলানা আরজদ আলী চৌধুরী ১৯৪৫ সালে মৃত্যুবরণ করেন, এরপর একই বছরে মওলানা আব্দুল হামিদ চৌধুরীও মারা যান। উভয়কেই পারিবারিক আল-ফিরদৌস কাসিম মুফতি কবরগাহে দাফন করা হয়। মৌলানা আরজদ আলী চৌধুরী এবং মৌলানা আব্দুল হামিদ চৌধুরী  বিগত শতাব্দীর চল্লিশের দশকে বামে এক  অভূতপূর্ব   আধ্যাতিকতার বাতাবরণ সৃষ্টি করেছিলেন  সেই সময়ে বরাক উপত্যকা এবং রামপুর থেকে নক্সবন্দি তরিকার আধ্যাত্মিক নেতারা নিয়মিতভাবে বামে আসতেন। নশা খান নিজেই রাজঘাটে এসেছিলেন এবং তাঁর শিষ্যদের দিক নির্দেশনা দিয়েছিলেন। কাছাড়ে অবস্থানকালে, নশা খান তাঁর অন্যান্য শিষ্যদেরও দিকনির্দেশনা দিতেন , যার মধ্যে ছিলেন গোবিন্দপুরের ইলিয়াস আলী সাহেব এবং আমজাদ আলী সাহেব, আর ভগাডরের আফতাবুর রহমান সাহেব। তাঁরা ছিলেন মৌলানা আরজাদ আলী চৌধুরী এবং মৌলানা আবদুল হামিদ চৌধুরীর সমসাময়িক।মৌলানা আরজদ আলী চৌধুরী এবং মৌলানা আব্দুল হামিদ চৌধুরীর মৃত্যুর পর, তাঁদের অনুসারীরা তাঁদের কবরস্থলে  মোকাম নির্মাণ শুরু করেন। তবে, তাঁদের পরিবারের পক্ষ থেকে তোলা আপত্তির কারণে নির্মাণ কাজ প্লিন্থ স্তরে পৌঁছানোর পর আনুসারীগণ সে কাজ থেকে নিবৃত হন। আজও কিছু দর্শনার্থী তাঁদের কবরে 'জিয়ারত' করতে আসেন।

Tuesday, 16 June 2026

25.বামের বিভিন্ন সমাজে ধর্মীয় বৈশিষ্টঃ-৬ঃজিয়াউদ্দিন চৌধুরী

 


বামে সুফীবাদের প্রভাব :দরবেশ , পীর ,ফকির ,অলি-আউলিয়া ,দরগা-মোকামঃ সুফিবাদ, বা তাসাওউফ, ইসলাম ধর্মের একটি আধ্যাত্মিক ও মরমী শাখা, যা আল্লাহর সঙ্গে ব্যক্তিগত ও অভ্যন্তরীণ সম্পর্ক স্থাপনের ওপর গুরুত্ব দেয়। সুফিরা জিকির ও অন্যান্য ধ্যানের মাধ্যমে আল্লাহর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক স্থাপনের চেষ্টা করেন।

 

সুফীরা বিভিন্ন তরিকায় (সুফিবাদের শাখা) যেমন চিস্তিয়া, কাদিরিয়া, নকসবন্দী, সুরাওয়ার্দী ইত্যাদির অন্তর্ভুক্ত হতে পারেন, এবং তাদেরকে ফকির, দরবেশ বা পীর বলা হয়। দরবেশ এবং ফকিররা সাধারণত দারিদ্র্য ও আধ্যাত্মিকতার জীবনযাপন করেন এবং তারা জাগতিক সম্পদের প্রতি নিরাসক্ত থাকেন। জিকির এবং অন্যান্য ধ্যানের মাধ্যমে তারা আল্লাহর সঙ্গে সরাসরি ও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক স্থাপনের চেষ্টা করেন, প্রতিষ্ঠিত ইসলামী ধর্মীয় রীতিনীতি অবলম্বন না করে হৃদয় ও আত্মাকে বেশি গুরুত্ব দেন। বাম অঞ্চলে দরবেশ ও ফকিরদের নামের সঙ্গে সচরাচর "বাবা" “শাহ “বা "মামু" শব্দ যুক্ত হয়।

 

বিপরীতে পীর হলেন সেই ব্যক্তি যিনি উচ্চ স্তরের আধ্যাত্মিক জ্ঞানে পৌঁছেছেন এবং তিনি সুফি পথে অন্যদের পথপ্রদর্শন করার জন্য যোগ্য। শরিয়াহের আওতায় থেকেই পীর তার শিষ্যদের ‘মারিফাত’ (আল্লাহর উপস্থিতির ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা) অর্জনে সাহায্য করেন। বরাক উপত্যকায় তারা প্রায়ই ইসলামী উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে থাকেন। "অলি-আউলিয়া" শব্দ যুগল পীরের সমান্তরাল হিসেবে এই অঞ্চলে পরিচিত।

বাম  অঞ্চলেও পীর সুফী দরবেশগণের আগমন ঘটেছিল। তাদের সমাধি স্থলগুলো পবিত্র দরগাহ-মোকাম রূপে পরিগণিত। জাতি-ধর্ম-নির্বিশেষে যন্ত্রণাকাতর মানুষ এসব দরগাহ-মোকামে প্রতিদিন নানা মানত নিয়ে যায়, শিরনি দেয়, মোমবাতি জ্বালিয়ে দিয়ে নিজের সমস্যা নিরসনের জন্য প্রার্থনা করে।

এই শ্রেণীর সুফীসাধক সর্বজন শ্রদ্ধেয় আগুনখারা বাবার মাজার রাজঘাটে অবস্থিত। কথিত হয় গত শতাব্দীর প্রথম দিকে শিলচর বড়যাত্রাপুরের জনৈক রাখাল নাথ নিজের বাড়িঘর, আত্মীয়- স্বজন ত্যাগ করে সোনাবাড়িঘাটের পাশে সৈদপুরে চরকীশাহ বাবার মোকামে চলে আসেন এবং সুফীবাদের আধ্যাত্মিক সাধানায় বিভোর হয়ে এখানে অবস্থান করতে থাকেন।


আগুনখারা বাবা'র মোকাম-রাজঘাট

পরে চরকীশাহ এর মোকাম থেকে বেরিয়ে এসে এই বিবাগী ফকীর বামের রাজঘাটে সুরুজ আলির বাড়িতে আস্তানা গেড়ে এখানেই অবস্থান করতে থাকেন। আগুনের জলন্ত আঙ্গার তিনি চিবিয়ে খেতেন বলে সবাইআগুনখারা বাবা' বলে ডাকত। ১৯২৯ সালে তাঁর মৃত্যুর পর তাঁকে রাজঘাটে সমাধিস্থ করা হয়। তার সমাধিস্থল এখনআগুন খারা বাবার মাজার মোকাম' রূপে সর্ব সম্প্রদায়ের পরম শ্রদ্ধার স্থান রূপে পরিগণিত এক সামাজিক-সাংস্কৃতিক মিলনভূমির মর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত ঐক্য ভাবনার পীঠস্থল। আগুনখারা বাবার মোকামে  প্রতি  চৈত্র মাসের ২২ তারিখ বিরাট উৎসাহ ও উদ্দীপনার সহিত বিভিন্ন কর্ম কাণ্ডের মধ্য দিয়ে বার্ষিক ‘উরস ‘ উদযাপিত হয় ।সুফি মতবাদে ‘উরস’ বলতে একজন সুফির  মৃত্যুবার্ষিকীর স্মরণ অনুষ্ঠানকে বোঝায়। উরসের সময়, অনুসারীরা সুফির মোকাম বা দরগাহে একত্রিত হয়ে বিভিন্ন ভক্তিমূলক কার্যকলাপ পরিচালনা করেন ।

ভাগাবাজারের পাশে রুকনি নদীর পশ্চিম তীরে বামে বসতি শুরু হওয়ার সময় থেকেআম্ আমির মোকামবলে পরিচিত এক অজ্ঞাত পরিচয় সুফী সাধকের মোকাম সাধারণ মানুষের ভক্তি নিবেদনের কেন্দ্ররূপে এলাকার ঐতিহ্য বহন করেছে। তিনদিকে রুকনি নদীর খরস্রোত ঘেরা উচু টিলার উপর অবস্থিত বহুশতাব্দী প্রাচীন এই মোকাম লক্ষীপুরের পাশে ফুলেরতলে বরাক নদীর খরস্রোত ঘেরা লঙ্গরশাহ বাবার মোকামের মত লৌকিক ক্ষমতাসম্পন্ন সুফী সাধকের এবাদত স্থল বলে লোকবিশ্বাস মোকামের ঐতিহ্য বহন করছে। অবশ্য বর্তমান সময়ে মোকামটির অস্তিত্ব বিভিন্ন কারণে প্রায় বিলুপ্তির পথে।

 

 আর্জানপুর   গ্রামে অবস্থিত পানিসাগার মোকামের অন্যতম সুফি সাধাক ইয়াকুব শাহ আনুমানিক ১৬৬ বছর  পূর্বে সোনাই কাজিডর গ্রামে  জন্মগ্রহণ করেন। জনশ্রুতি মতে  বারো বছর  বয়সে উনি কাজিডর গ্রাম ত্যাগ করে পানিসাগরে  আসেন  এবং  বর্তমান মোকামস্থলে তার আধ্যাতিক আস্তানা স্থাপন করেন । কিংবদন্তী রয়েছে যে  তিনি বাঘের উপর চলাফেরা করতেন ।তদানিন্তন সময়ে  যার প্রত্যক্ষদর্শী অনেক মানুষ ছিলেন। ৫৩ বছর বয়সে আনুমানিক ১৯১১ সনে তিনি পরলোক গমন করেন । পানিসাগার  মোকামে তাঁর মাজার  রয়েছে। কয়েক বছর  পূর্বে এখানে  একটি মসজিদও স্থাপন করা হয়েছে। দূরদূরান্ত থেকে  অনেক লোক এই জায়গায় জিয়ারত করতে আসেন।

 সোনাহর আলী ওরফে “গাইটআলা মামু “ বাম অঞ্চলের এক অত্যন্ত পরিচিত ব্যক্তি যাঁকে সবাই “মজ্জুফ”  বলে বিশ্বাস করতেন ।শরীরের  সবদিকে গাট-গাঠালি ঝুলিয়ে চলাফেরা করতেন বলে  তাঁকে “গাইটআলা মামু “ নামেই অভিহিত করা হত ।প্রারম্ভিক জীবনে  তিনি হাতির মাহুত ছিলেন বলে  জানান তাঁর মূল বাড়ি বাঁশখালের এক বংশধর ।তাঁর জীবনের অনেক অলৌকিক কর্মকাণ্ড নিয়ে অনেক জনশ্রুতি প্রচলিত আছে ।মৃত্যুর কিছুদিন  পূর্বে তাঁর জন্মস্থান বাঁশখাল থেকে  লোক এসে  তাঁকে নিয়ে যায় । বাঁশখালেই আনুমানিক ৮০ বছর  বয়সে তাঁর মৃত্যু হয় এবং সেখানেই তাঁকে কবরস্ত করা হয় । তাঁর কবরকে কেন্দ্র করে একটি মোকাম গড়ে উঠেছে সেখানে ।

বামের সপ্তগ্রামে  রয়েছে ‘নারায়ণ শাহ বাবার মোকাম’ নামে পরিচিত  একটি মোকাম । এ সম্পর্কে তথ্য প্রদান করতে গিয়ে  এলাকার প্রবীণ দু’জন ব্যক্তি এবং মোকামে  অবস্থানকারী খাদিম  প্রচলিত জনশ্রুতির উপর  ভিত্তি করে জানান এই নারায়ণ শাহ ছিলেন পানিভরার বাসিন্দা । পানিভরায় তিনি শিলচর -আইজল সড়কের  পাশের একটি গাছের নিচে বসে থাকতেন আলুথালু বেশে ।কিংবদন্তি মতে  একদিন সপ্তগ্রামের বাসিন্দা হাসন লস্কর ঘোড়ায় চড়ে এক খুনের মামলার আসামী রূপে শিলচর আদালতে  হাজিরা দিতে  গাছের নিচে অবস্থানরত নারায়ণ শাহের পাশ দিয়ে  যাওয়ার সময়  শুনেন যে  ঐ ব্যক্তি  মাটির মধ্যে আচড় কেটে কেটে বলছেন “ হাছন খালাস ,হাছন খালাস” । কথাগুলি শুনে শুনে তিনি  আদালতে চলে যান এবং সেখানে  বিচারক তাকে নির্দোষ ঘোষণা করে মামলা থেকে অব্যাহতি দেন ।সেদিন থেকে হাছন লস্কর কথিত ব্যক্তির সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করেন । এবং এই ব্যক্তি  সপ্তগ্রামে তাঁর বাড়িতে আসা যাওয়া  শুরু করেন এবং এখানেই প্রায় থাকতে  শুরু করেন ।পরবর্তীতে তাঁর মৃত্যু হলে তাঁর মৃত্যু পূর্ববর্তী শর্ত অনুসারে হাছন লস্কর  তাঁর মৃতদেহ সপ্তগ্রামে নিয়ে আসেন এবং  তাঁকে এখানেই সমাধিস্থ করা  হয় । বর্তমানে তাঁর কবর ঘিরে  একটি মোকাম গড়ে উঠেছে ।এখানে উল্লেখ্য যে  নারায়ণ শাহের কবরের পাশেই স্বাধীনতা সংগ্রামী মৌলানা ফরমুজ আলী লস্করের  সমাধি  ।উপরোক্ত সাধকগণ কোন সুফি তরিকায় এবাদত বা ধ্যান ধরণা করেছিলেন জানা নাই ।