Friday, 4 September 2026

62:বৈচিত্রময়ী বামঃএক স্মৃতিচারণ -নিশি কান্ত লস্কব়-18

 মুসলমানদের প্রধান উৎসব  ঈদ। জনবসতির  পর থেকেই  বামে ঈদ পালিত হয়ে আসছে । ইসলাম ধর্মাবলম্বী  লোকেরা রমজান মাসে রোজা রাখেন  পুরা মাস আর রমজান মাসের শেষে  ঈদ উদযাপিত হয় ,তবে এটা নির্ভর করে চন্দ্র দর্শনের উপর ,চন্দ্র  দর্শনের  পর পর্ব শুরু হয় ।ভোরবেলা সুন্দর সুন্দর পোষাক পরে লোকেরা  ঈদাগাহ বা অন্য কোন খোলা জায়গায় নামাজ পড়তে যান ।নামাজের পরে  ঈদের শুভেচ্ছা ’ ঈদ মোবারক’ বিনিময় হয়।ধন,খাদ্য প্রভৃতি দরিদ্রের মধ্যে দান ,খাওয়া -দাওয়া, আত্মীয় – স্বজনের  বাড়ীতে যাওয়া প্রভৃতির মধ্য দিয়ে  মহা আনন্দে উদযাপিত হয় পবিত্র ঈদ ।  উৎসর্গের উৎসব বক্রী ঈদও উৎসাহ ও উদ্দীপনার সহিত পালিত হয় ।ঐ দিন নামাজ পড়া , পশু উৎসর্গ  ঈদের শুভেচ্ছা আদান প্রদানের  মধ্য দিয়ে উৎসাহ ও উদ্দীপনার সহিত পালিত হয় বক্রী  ঈদ ।

শুধু ঈদ   ই নয়।আমাদের বামে  মিলাদ শরীফ  ও পালিত হয় । হজরত মহাম্মদের জন্ম দিনকে ঈদ- ই -মিলাদ -উন -নবী   হিসাবে পালন করা হয় । মসজিদ ও কোন কোন বাড়ীতে ইহা আয়োজন করা হয় । নামাজ ,পবিত্র কোরান পাঠ , হজরত মহাম্মদের  জীবনাদর্শ আলোচনা ,দরিদ্র ও দুঃখীদের মধ্যে দান প্রদান ,শোভাযাত্রা ,খাদ্য বিতরণের  মধ্য দিয়ে এই ঈদ- ই -মিলাদ -উন -নবী   পালিত হয় ।  আগে মোলভী আব্দুল রজ্জাক চৌধুরী মহাশয়ের  পরিচালনায় ধলাই মসজিদে ও মিলাদ শরীফ পালিত হত ।

………………………………………………………………………………………

Thursday, 3 September 2026

61:বৈচিত্রময়ী বামঃএক স্মৃতিচারণ নিশি কান্ত লস্কব়।-17


    ডিসেম্বব় মাসে ২৫ শে তাব়িখ বামেব় পুঞ্জিতে খ্ৰীষ্ট ধৰ্মীয় লোকেব়া যীশুখৃষ্টেব় জন্ম দিন পালন কব়েন। ঘব় বাড়ী পব়িস্কাব় কব়া, গীৰ্জা সাজানো, শোভাযাত্ৰা, গীৰ্জায় সমবেত, প্ৰাৰ্থনা, পবিত্ৰ বাইবেল পাঠ, কেক কাটা প্ৰভৃতি কাৰ্য্যসূচীব় মাধ্যমে বড়দিন পালিত হয়।

বড়দিনের পর পৌষ সংক্রান্তি।  পৌষ সংক্রান্তি হিন্দুদের এক মহান উৎসব । পৌষ মাসের শেষ দিন অর্থাৎ সংক্রান্তির দিন ইহা পালিত হয় ।সাধারাণতঃ জানুয়ারী মাসের ১৪ তারিখ এই পর্বটি অনুষ্ঠিত হয় ।ঐ দিন সূর্য ধনু রাশি থেকে মকর রাশিতে প্রবেশ করেন । তাই ইহাকে মকর সংক্রান্তি  বলা হয় ।  ।সূর্য ঐ দিন দক্ষিণায়ন ত্যাগ করে উত্তরায়নে যান ,তাই ইহাকে উত্তরায়ান সংক্রান্তি ,আর  তিলের পিঠা অর্ঘ্য দেওয়া হয় ,তাই ইহাকে তিল সংক্রান্তি ও বলা হয় ।এই উত্তরায়ণের দিন মহাভারতের পিতামহ  গঙ্গাপুত্র ভীষ্ম প্রাণ ত্যাগ করেন ।

সংক্রান্তির বেশ কিছুদিন পূর্ব থেকে প্রস্তুতি শুরু হয়ে যায়।পূর্বের  দিন সবকিছু  পরিষ্কার করা হয়।মহিলারা পিঠার জন্য চউলের গুড়ি/ চুঙ্গার জন্য  চাউল,বাঁশ প্রস্তুত, বাগান থকে  নতুন নতুন সব্জী তোলা প্রভৃতি কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েন ।পুরুষরা বাজার থেকে প্রয়োজনীয় নানারকম  সামগ্রী ,নুতন কাপড় জামা  খরিদ করেন ,ছেলেরা মেড়া মেড়ীর  ঘর নদীর তীরে  বা অন্য কোথাও তৈরি করতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে ।মহিলারা রাত্রে পিঠা  ও নানারকম তরকারী তৈরি করতে লেগে যান ।

       ভোরবেলা লোকেরা তেল মেখে নদীতে বা জলাশয়ে স্নান করে তিল ,চাউল ,তিলের পিঠা ,ফল ফুল দিয়ে   সূর্য দেবকে অর্ঘ প্রদান করেন । তারপর পূজার্চনা করে পরিবারে সকলে এক সঙ্গে মিলে  তিলপিঠা ,চুঙ্গা, ভোজন করেন । ঐদিন পাটী সাপট ,মাল্পুয়া ,পুলি পিঠা সঙ্গে চুঙ্গা খওয়া হয় । মন্দিরে মন্দিরে  পুজা ,কীর্তন , মহাভারত  পাঠ  অনুষ্ঠিত হয় ।ঘুড়ি উড়ানো ,মহিষের লড়াই ও কোন কোন জায়গায় অনুষ্ঠিত হত ।

দুপুরবেলা সবাই একসঙ্গে  নানারকম ব্যঞ্জন,ভাজা,বড়া ইত্যাদি দিয়ে ভোজন করেন ,দুই তিন দিন আত্মীয়রা ও একে অন্যের বড়ীতে সংক্রান্তির  আনন্দ উপভোগ করেন । তিল সংক্রান্তির দিন কোন সময় রাসমনি  লস্করের  বাড়ী আর  কোন সময় রমেশ চন্দ্র লাস্করের বাড়ীতে  মহাভারত পাঠের আসর বসত,পাঠ করতেন  রমেশ চন্দ্র ,রামায়াণ ও মহাভারত পাঠে রমেশ চন্দ্রের গ্রাম ছাড়াও পার্শবর্তী গ্রামগুলিতে ও  সুনাম ছিল । গীতা পাঠ করতেন মাথুরা নাথ  শর্মা , ধনঞ্জয় চক্রবর্তী ।     

  বামে হিন্দিভাষী সমাজ বিশেষ করে চা  জন গোষ্ঠীর মধ্যে  টুসু পুজার প্রচলন আছে । পৌষ সংক্রান্তির  আগের দিন এই পূজা অনুষ্ঠিত হয় আর সংক্রান্তির দিন মূর্তি নদীতে  বিসর্জন দেওয়া হয় ।ফল ফুল  নানা রকম তিলের পিঠা,চানা,বাদাম ,চিড়া ,গুড়,নারিকেল  মুগ প্রভৃতি নিবেদন করা হয় ,সুখ সম্পদ  ও সমৃদ্ধির জন্য  কৃষি ও সম্পদের দেবী  টুসুর অর্চনা করা হয় ।এই পুজায় টুসু দেবীর বন্দনা ছাড়াও শ্রীকৃষ্ণ ,শ্রীরাম সীতা ও হনুমানজির ভজন করা হয়।

       মাঘমাসে শ্রীপঞ্চমীর দিন  বিদ্যার দেবী সরস্বতির পুজা করা হয় ।স্কুল ক্লাব  প্রভৃতিতে মহা উৎসাহে  বানীবন্দনা করাহয় ।আগে বামের সুখতলাতে নৌকা পুজা হত,ঐ দিন কোথা কোথাও বিষ হরি (মনসা)পুজা হয় ।মহাদেবপুরের মনাই ওঝার বাড়ীতে  তিন দিন ব্যাপী   নাগ মাতার পুজা হত ।তিন দিন পূজার্চনা  , দেবী  বন্দনা,পদ্মপুরান, সন্ধ্যা আরতি ,প্রসাদ বিতরণ চলতো ।ওঝা,জামা (বিশেষ রকমের পোষাক ও হাতে চামর নিয়ে  গান গাইতেন ,সাথে সাথে এক বা ততোধিক বাইন মৃদঙ্গ বাজিয়ে বাজিয়ে  নাচতেন আর ৪/৫ জন দোহারী করতাল নিয়ে  ওঝার গাওয়া গীতের  পুনরাবৃত্তি করতেন –ওঝা ‘বন্দি গো মা জয় মনসা‍ শঙ্কর,দুহিতা জরৎ কারু  মুনী পত্নী আস্তিকের ও মাতা ‘ বলে পদ্ম পুরান শুরু করতেন,গ্রামবাসীরা  উৎসব  মহানন্দে উপভোগ করতেন ‘ ।

………………………………………………………………………………..

Wednesday, 2 September 2026

60:বৈচিত্রময়ী বামঃএক স্মৃতিচারণ - নিশি কান্ত লস্কব়-16

  

  কৃষি ভিত্তিক বাম তথা সমগ্ৰ কাছাড় জেলাব় এক প্ৰাচীন সংস্কৃতি  'আই' নৃত্য গীতেব় মধ্য দিয়ে ছেলেব়া (ব়াখাল বালকেব়া) সুফসল ও শান্তি সমৃদ্ধিব় জন্য দেবী লক্ষ্মীব় বন্দনা কব়ে। কাৰ্ত্তিক মাসেব় মধ্য ভাগ থেকে  বালকেব়া দলবদ্ধভাবে গ্ৰামেব় বাড়ী বাড়ী সন্ধ্যাবেলায় আই দেয়, পব়িবৰ্ত্তে গৃহস্থব়া চাউল, অৰ্থ ইত্যাদি প্ৰদান কব়েন। সংক্ৰান্তিব় দিন সন্ধ্যাব় পব়িবৰ্তে ভোব়বেলা আই দেওয়া হয়। ঐ দিন দুপুব়বেলা বাড়ীব় গরুদের  মনফল আব় তেল মিলিয়ে স্নান কব়ানো হয়। বিকাল বেলা ফল, ব়ুটী, পিঠা প্ৰভৃতি খাইয়ে গব়ুব় গলায় ফুলেব় মালা পব়িয়ে আই দেওয়া হয় এবং পব়ে বাড়ীতে আনা হয়।

     ব়াখাল ছেলেব়া সন্ধ্যা বেলা গ্ৰামেব় কোন এক বাড়ীতে সমবেত হয়ে পূজাৰ্চ্চনা ও ফলাহাব় কব়ে। এই অনুষ্ঠানে ব়াখাল বালক ছাড়া অন্যান্যব়াও যোগদান কব়েন ।এই '' আই'' ব় প্ৰথা  বামের মুসলমান সমাজেও প্রচলিত ছিল-তবে পূজাৰ্চ্চনা ছাড়া। তবে এই '' আই'' ব় প্ৰথা এখন প্ৰায় লুপ্ত । “আই '' গীতেব় কিছু অংশ নীচে দেওয়া হলো।

                              ( ১)

                      আইব় জনম

   '' আইব়ে আই, বনেব় ভাই, বন জ্বলে লক্ষ্মী ফলে

    গৌব়া গোবিন্দ মৈ আর ফাল , তাইন দিলা ফলাহার

      ফলাহাব় খাইয়া, ডাইনে সিংহাসন বামে থইয়া

     আইব় জনম দিলা কইয়া। আশ্বিন যাইতে কাৰ্ত্তিক হামাইতে দেবীব় পুতে ভূই জুড়িলা, সুন্দা মেতি বেলেব় পাত হিজা ছাড়ে আড়াই হাত, চইলতা পাতায় ধব়ছে খাড়া একই গুটিতে অনেক বাড়া'' ।

 

                                (২)

                        আইব় মঙ্গল

বলব়ে আইব় মঙ্গল - - -- হয় (সাথীব়া বলে হয়)

সোনাব় নাঙ্গল - - - - - হয় (সাথীব়া বলে হয়)

ব়ূপাব় ফাল - - - - - হয় (সাথীব়া বলে হয়)

জোয়াল ইশে - - - - হয় (সাথীব়া বলে হয়)

কত কালে - - - - - - হয় (সাথীব়া বলে হয়)

কত হইব - - - - - হয় (সাথীব়া বলে হয়)

এন ঘব় গিয়া বেটা হইব - - - - - - -হয় (সাথীব়া বলে হয়)। বেটাব় নাম ব়ইয়া, জাম খায় বইয়া - - - - - হয় (সাথীব়া বলে হয়)। জাম দেখতে বেকা কোকা, আলদে খাইছে - - - -হয় (সাথীব়া বলে হয়)। পুব়োহিত বেটা, পুব়োহিত বেটাই খাইছে নাড়ু - - - - - হয় (সাথীব়া বলে হয়)। সুবইন পীব় - - - -হয় (সাথীব়া বলে হয়), মানিক পীব় - - - - হয় (সাথীরা বলে হয়)। আমাব় ব়াখাল---হয় (সাথীব়া বলে হয়), যেবায় যায় - - - - হয় (সাথীব়া বলে হয়)।  দুই পীব় আবার যায় - - - - হয় (সাথীব়া বলে হয়)।

                            (৩)

 ''আইলাম ব়ে আইলাম ব়ে, বড় বাড়ীতে আইলাম ব়ে

বড় বাড়ীতে বড় গেণ্ডা, আগ দুয়াব়ে মাজাব় গেণ্ডা

মাজাব় গেণ্ডায় এক কড়ি,  মিত্তা আইলা জোব় কব়ি

আইবায় মিত্তা যাইবায় কৈ, ঘাট পাব়ইতে খাইবায় দৈ, ঘাটেব় ধাব়ে বাঘেব় চাও, গুডুম গাডুম কব়ে বা়ও, ও বাঘ চুন খাও, লঙ্কা, নাইলে শিলং যাও'' ।

                                           (৪)

'' সোনাব় ঘাটে যাও ব়ে মাঝি, ব়ূপাব় ঘাটে পাও

কোন বাণিজ্যে যাও ব়ে মাঝি, লক্ষ টাকা পাও

আমব়া ত ব়াখাল ভাই, আমব়া ত কিছু চাই

আমব়াব়ে যে হেলা কব়ে, ঠাকুব় কৃষ্ণেব় দোহাই

ঠাকুব় কৃষ্ণেব় দোহাই নাব়ে যে কব়িব হেলা

তাব় নৌকা ডুবিয়া যাইব ঠিক দুপুব় বেলা'' ।

                                   (৫)

'' ঝিল কব়ে ঝিল কব়ে, ঝব়ঝব়াইয়া টাকা পড়ে

একটা টাকা পাইব়ে ভাগ্নাব় বাড়ী যাইব়ে

ভাগ্নাব় বাড়ী চাউলেব় মছা, এক চাউলে নয় মছা

নয় মছায় নয় পন, আমাব়ে দিবায় কথক ধন

আমি ত খুজিয়া খাই, আমি ত মাগিয়া খাই

লক্ষী মাব় চব়নে যাই, লক্ষী গেলা ব়াগাইপুব়

কিনি আইলা চম্পা ফুল, চম্পা নাব়ে মস্তবান

হাঁসি খুসি কব় দান। ও বাপু সদাগব় সোনাব়

টুপি মাথায় ধব়। সোনাব় টুপি লোহাব় খিল,

এন ঘব় আছে ধান বিছ, ধান বিছ না দিতে পাব়,

চাউল কড়ি দিয়া বিদায় কব়'' ।

 

                                 (৬)

'' আমি গোষ্ঠে যাব মাগো আমি গোষ্ঠে যাব।

শ্ৰীদামেব় সঙ্গে মাগো বাছুব়ী চব়াব

চূড়া বেঁধে দেও গো মা, পাচনী দেও হাতে,

আমাব় লাগি দাদা বলাই দাড়াই আছে পথে।

পীত ধড়া পব়াও মাগো, গলে বনমালা

মনে পড়ি গেল আমাব় কদমেব় তলা।

ঘনশ্যাম দাসে বলে শুন নন্দব়াণী, বিলম্ব হইলে

বলাই আসিবে এখনি''।

''দধি মথে নন্দব়াণী লইয়া ব্ৰজনাব়ী।

মথনেব় শব্দ শুনি জাগে নীলমনি।

হামাগুড়ি দিয়া যায় যথা নন্দব়াণী।

ভাণ্ডের মধ্যে হাত ভব়িয়া তুলিয়া ননী খায়।

দেবতা ব্ৰাহ্মন মানে না, একি বিষম দায়''

বলেন বৈষ্ণব দাস শুন নন্দব়াণী

এই ছাবাল মনুষ্য নয় দেব চূড়ামনি।

                                  (৮)

'' নন্দ গেলা বাথানে, যশোদা গেলা জলে

শূন্য গৃহ পাইয়া গাপাল ননী চুব়ি কব়ে।

কে খাইলো, কে খাইলো, ননী বলে নন্দব়াণী। গোপাল উঠিয়া বলে আমি ত না জানি''

“হস্তে বাড়ি নন্দব়াণী নিলোব়ে খেদাইয়া, লম্প দিয়া উঠে গোপাল কদম ডাল বাইয়া, নাম নাম ওব়ে বাচা পাড়িয়া দিমু ফুল, গাছ তনে  পড়লে বাচা মজাইবা গকুল''

এই কার্ত্তিক মাসেই দেবতা ও অসুর মিলে সমুদ্র মন্থন করেছিলেন।       কাৰ্তিক সংক্ৰান্তিব় দিন, দেব সেনাপতি শিবপুত্ৰ কাৰ্তিকেয়ব় পুজা হয়। মাস ভব়া শুধু উৎসব আব় উৎসব, কোথাও মনিপুব়ী কোথাও ধামাইল নৃত্য আবাব় কোথাও বা ঝুমুব় নৃত্যেব় মধ্য দিয়ে ঘটে, কাৰ্তিক মাসেব় সমাপ্তি।

…………………………………………………………………………………………………

59:বৈচিত্রময়ী বামঃএক স্মৃতিচারণ -নিশি কান্ত লস্কব়-15

 

  

    ১৯৫৩-৫৪ সালের এব় আগে বামে যাতায়তেব় কোন সুব্যৱস্থা ছিল না। তাই সবব়কমেব় যোগাযোগ, চলাফেব়া প্ৰভৃতি বামেব় মধ্যেই সীমিত ছিল। এখনকাব় মত ব়াস্তা ঘাট, গাড়ী ঘোড়া আব় অন্যান্য যোগাযোগেব় সুবিধা উপলব্ধ ছিল না। যদিও এইসব সুবিধা ছিল না তবুও বামেব় লোকেব়া জনবসতিব় পব় থেকেই নিজেব় সাধ্যানুসাব় নিজেদেব় উৎসব অনুষ্ঠান আদি পালন কব়ে আসছে।

বামে তখন মূৰ্ত্তি পূজা ছিল না। গ্ৰামেব় লোকেব়া তাদেব় সমাজেব় লোক নিয়ে নবমীব় দিন ঘট বসিয়ে পূজা কব়তেন। দিনভব় পূজাচৰ্চনা, অঞ্জলি, চণ্ডীপাঠ, ব়ামায়ন পাঠ প্ৰসাদ বিতৰণ সন্ধ্যা আব়তি প্ৰভৃতিব় মধ্যে সবাই পূজাব় আনন্দ উপভোগ কব়তেন।

   বামে প্ৰথমে সম্ভবত ১৯১৫ সনে ধলাই বাজাব়েব় দত্ত বাড়ীব়  হীব়ালাল দত্ত মহাশয়েব় পিতা মৃত ব়ামকুমাব় দত্ত মূৰ্ত্তি গড়ে দুৰ্গা পূজা কব়েন । তাব়পব় প্ৰতিবছব় তাদেব় বাড়ীতে পূজা হয়। কিছুকাল পব় দুলাল গ্ৰামেব় মৃত তুলাব়াম বিশ্বাসেব় বাড়ীতে এবং তাব় কিছু বছব় পব়ে ঐ গ্ৰামেব় মৃত জয়ব়াম দাব়সের বাড়ীতে মূৰ্ত্তি গড়ে দুৰ্গা পুজা হয়। যদিও এইসব পাব়িবাব়িক পূজা ছিল, তবুও অঞ্চলেব় সবাব় জন্য পূজাব় দ্বাব় খোলা ছিল, তাই পূজা দৰ্শন বা উপভোগ কব়ায় অসুবিধা ছিল না।

       ১৯৬০ সনে মহাদেবপুব় পাঠশালায় সাৰ্বজনীন দুৰ্গা পূজা অনুষ্ঠিত হয়। তাব় পব় ধীব়ে ধীব়ে বামেব় অন্যান্য স্থানে সাৰ্বজনীন দুৰ্গা পূজা শুব়ু হয়। এখন প্ৰায় গ্ৰামেই পূজা হয় মহা আড়ম্বব়ে আধুনিক সাজ সজ্জায়। আগে যদিও সাজ সজ্জা ছিল না, ছিল আন্তরিকতা, নিষ্ঠা আব় উৎসাহ। মহাদেবপুব়েব় পাৰ্বতী আচাৰ্য্য ছিলেন বামেব় এক নামী মৃৎ শিল্পী, তিনি বাম ছাড়াও বহু স্থানে মূৰ্ত্তি গঠন কব়েছেন। সাথে সাথে তিনি একজন জ্যোতিষী ও ছিলেন।

      দুৰ্গা পূজাব় পব় লক্ষ্মী পূৰ্ণিমাব় দিন ধন ও সমৃদ্ধিব় দেবী লক্ষ্মীকে পূজা দেওয়া হয়। পূজা মণ্ডপ ছাড়াও ঘব়ে ঘব়ে সন্ধ্যা বেলায় দেবীব় পূজা হয়। পূজাৰ্চ্চনা পাচালী পাঠ, কোন কোন বাড়ীতে ব়ামায়ন, মহাভাব়ত পাঠ, প্ৰসাদ বিতব়ণ থাকতো পূজাব় কাৰ্য্যসূচীতে।

    কোথা কোথাও ছেলেব়া নাব়িকেল, কুশিয়াব়,সুপারী , হলদি চুব়ি কব়ে নিজেদেব় মধ্যে ভাগ কব়ত। মহিলাব়া সাব়াব়াত উপবাস ও অনিদ্ৰায় থাকতেন।

হেমন্ত ঋতুব় প্ৰথম মাস কাৰ্ত্তিক। কাৰ্ত্তিক মাস এক পূন্য আব় উৎসৱ মুখব় মাস। নাতিশীতোষ্ণ আবহাওয়া, নীল আকাশ চাব়দিকে লাল, হলুদ, সাদা কেতকী ফুল, আব় মাঠ ভব়া ধানেব় ক্ষেত মনকে আনন্দে ভব়ে তুলে। কোথাও ভোব়বেলা নগব় কীৰ্ত্তন, কোথাও   রুকনি নদীব় তীব়ে কেউ হাটতে হাটতে আপন মনে মধুব় স্বব়ে গেয়ে যায় '' প্ৰভাত সময়ে  শচীব় আঙ্গিনাব় মাঝে গৌব় চান্দ নাচিয়া বেড়ায়, জাগ নি গো শচী মাতা গৌব় আইল প্ৰেম দাতা, ঘব়ে ঘব়ে হব়িনাম বিলায় ব়ে, '' আবাব় কখনও বা '' সব় ননী মথে

 ব়াণী যশোমতী মায়, নাচিয়া নাচিয়া আয়ব়ে গোপাল নাচিয়া নাচিয়া আয়''।

   এই মাসে দীপাৱলী ও কালী পূজা। দূৰ্গা পূজা মণ্ডপ ,দুলাল গ্ৰাম কালী বাড়ী ও ধলাই বাজাব় কালী বাড়ীতে আমাবশ্যাব় সময় কালী পূজা হত।

পূজা শেষ হতে ভোব় হয়ে যেত, ভোব়বেলা ভক্তেব়া প্ৰসাদ গ্ৰহন কব়তেন। ঘব়ে ঘব়ে প্ৰদীপ জ্বালিয়ে, দীপালী পালিত হত, বাড়ী বাড়ী কলাগাছ আব় বাঁশ দিয়ে গেট তৈব়ী কব়ে ফুল, লতা মমবাতি জ্বালিয়ে দেওয়া হত। সন্ধ্যাবেলায় পূৰ্ব পুব়ুষেব় উদ্দেশ্যে কলাগাছ দিয়ে সুন্দব় কব়ে ভেলা তৈব়ী কব়ে দ্বীপ জ্বালিয়ে রুকনি নদী বা অন্য কোন জলাশয়ে ভাসিয়ে দেওয়া হত। ঐ সময়  রুকনি নদীতে এক অপূৰ্ব দৃশ্য দেখা যেত। বাতিব় আলোতে নদীব় মাছ ছুটা ছুটি,  লম্প জম্প দিয়ে নদীতে আলোড়নেব় সৃষ্টি কব়তো। নদীব় তীব় থেকে দৰ্শকব়া এইসব দৃশ্য উপভোগ কব়তেন। এখন আব় এব়কম হয় না।

     দীপাবলির পর  ভ্ৰাতৃ দ্বিতীয়াতে বোনেব়া ভাইকে দীৰ্ঘ জীবন কামনা কব়ে ভাইফোঁটা দিত।

এই মাসেব় শুক্লা তিথিতে সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধিব় জন্য হিন্দীভাষী লোকেব়া দিনব্যাপী শক্তি আব় আলোব় উৎস ভগবান সুৰ্য্যদেব ও তাহাব় পত্নীব় পূজা কব়ে। পূজাৰ্চ্চনা, বন্দনা, পাচালী পাঠ, গীত ও প্ৰসাদ বিতব়ণেব় মধ্য দিয়ে উৎসাহ উদ্দীপনায় এই ছট পূজা পালিত হয়।

   কাৰ্ত্তিক মাসে ব়াস পূৰ্ণমাতে ভগবান শ্ৰীকৃষ্ণেব় ব়াস লীলা পালিত হয়। বামেব় মনিপুব়ী গ্ৰামে ভক্তি ও শ্ৰদ্ধা সহকাব়ে আনন্দ ও উৎসাহেব় মধ্য দিয়ে ব়াস লীলা উৎযাপিত হয়।

……………………………………………………………………………………………………

Tuesday, 1 September 2026

58 :বৈচিত্রময়ী বামঃএক স্মৃতিচারণ - নিশি কান্ত লস্কব়-14


 

     জন্মাষ্টমীব় পব় দুৰ্গা পূজাব় আগে আশ্বিন মাসে মহালয়া। আশ্বিন মাসেব় কৃষ্ণ পক্ষেব় শেষ দিন অৰ্থাৎ অমাবস্যাই মহালয়া। এই দিনই পিতৃ পক্ষেব় শেষ আব় দেবী পক্ষেব় আব়ম্ভ। ঐ দিন পূৰ্ব পুব়ুষেব় উদ্দেশ্যে অৰ্পণ কব়া হয় তিল, চাউল, জল ।ভোব় ৪টাব় সময় লোক নদীব় তীব়ে গিয়ে আনন্দ উপভোগ কব়তেন।রেডিও   শুনাব় যখন সুযোগ এলো তখন ভোব় ৪টা থেকে লোক বীব়েন্দ্ৰ ভদ্ৰেব় কণ্ঠে চণ্ডী শুনতেন। বলা হয় মহালয়াব় দিন দেবী দুৰ্গা মহিষাসুব়কে বধ কব়ে মৰ্ত্ত্য লোকেব় জন্য ব়ওয়ানা হন।মহালয়াব় দিন থেকে দুৰ্গা পূজাব়  প্রস্তুতির গতি আব়ও তীব্ৰ হয়।

      মহালয়াব় কয়েকদিন পব়ই দুৰ্গা পূজা। দুৰ্গা পূজা হিন্দু বাঙ্গালীব় প্ৰধান উৎসব। শব়ৎকাল আসাব় সাথে সাথে পূজাব়  প্রস্তুতি শুব়ু হয়ে যায়। লোক ঘব় বাড়ী পব়িস্কাব়, ঘব় বাড়ী সাজানো, কাপড় জামা খব়িদদাব়ী, পূজা মণ্ডপ তৈব়ী, মূৰ্তি গঢ়া আব় পূজাব় সব কাজ প্ৰায় শেষ হয়ে যায়। ৬ষ্ঠীর দিনে লোক তুলসী তলায় বেল গাছেব় তলা পব়িস্কাব় কব়ে  সন্ধ্যাবেলায় ধূপ, দীপ জ্বালান। ঐ দিনকে দুৰ্গা ষষ্ঠী বা  বিল্ব ষষ্ঠী বলা হয়।

     ষষ্ঠীব় পব় মহাসপ্তমী, মহাষ্টমী, মহানবমীব় ৩ দিন পূজা। ভোব় থেকেই পূজাৰ্চনা, অঞ্জলি প্ৰদান, প্ৰসাদ বিতব়ণ, আব়তি, সংস্কৃতিক অনুষ্ঠান চলতে থাকে।  দশমীব় দিন সকাল বেলাই পূজা সংঘটিত হয়। পূজাব় পব় মহিলাব়া মিষ্টি, সিন্দুব় ইত্যাদি দেবীকে অৰ্পণ কব়েন ও পব়ে একে অন্যকে লাগান। বিকাল বেলা নদী বা অন্য জলাশয়ে মূৰ্ত্তি বিসৰ্জ্জন কব়া হয়। সন্ধ্যাবেলা মণ্ডপে বিজয়া সম্মেলন হয়। যেখানে শান্তিব় জল, অপব়াজিতা দেওয়া হয় আব় মিষ্টিমুখের পর   একে অন্যকে আলিঙ্গন, বড়দেব় প্ৰণাম কব়ে শুভ বিজয়াব় প্ৰীতি ও শুভেচ্ছা আদান প্ৰদান কব়া হয়। দশমীব় দিন মা দুৰ্গাব় বব়ে শ্ৰী ব়ামচন্দ্ৰ ব়াক্ষসব়াজ ব়াবনকে বধ কব়ে জয় লাভ কব়েন তাই এই দিনকে বিজয়া দশমী বলা হয়।

অধৰ্মী, অত্যাচাব়ী, অসুব়ব়াজ মহিষাসুব়কে বিনাশ কব়ে পৃথিবীতে শান্তি, ধৰ্ম, সুখ, সমৃদ্ধি স্থাপনেব় জন্যই দেবী দুৰ্গাব় আবিৰ্ভাব। দুৰ্গা পূজা অশুভ শক্তিব় বিনাশ ও শুভ শক্তিব় প্ৰতীক।

   ব়াজা সুব়থ বসন্তকালে দেবীব় পূজা কব়েছিলেন বলে ইহাকে বাসন্তী পূজা ও বলা হয়।

      দ্বাপব় যুগে, বিষ্ণুব় অবতাব় দশব়থ পুত্ৰ ব়াম ব়াক্ষসব়াজ ব়াবনকে বধ কব়াব় জন্য শব়ৎকালে দেবীব় বোধন কব়েন। শব়ৎকালে দেবতাব়া নিদ্ৰায় থাকেন তাই ঐ সময় কোন পূজা হয় না। এই পূজা অকালে হয়েছিল বলে ইহাকে অকালবোধন ও বলা হয়। শ্ৰী ব়ামচন্দ্ৰেব় প্ৰাৰ্থনায় দেবী তুষ্ট হয়ে ব়ামকে রাক্ষস রাজ   ব়াবন বধেব় বব় প্ৰদান কব়েন এবং ব়ামচন্দ্ৰ  ব়াবনকে বধ কব়ে পৃথিৱীতে অশুভ শক্তিব় বিনাশ ও শুভ শক্তিব় স্থাপনা কব়েন।

…………………………………………………………

Monday, 31 August 2026

57: বৈচিত্রময়ী বামঃএক স্মৃতিচারণ নিশি কান্ত লস্কব়।-13

 

     বামেব় উৎসবঃ বাংলায় একটি কথা আছে- "বাব় মাসে তেব় পাৰ্বন"। ব়াস্তাঘাট, যোগাযোগেব় অসুবিধা থাকা সত্বেও জন বসতি থেকেই বামে এই বাব় মাসে তেব় পাৰ্বন চলে আসছে। ১লা বৈশাখ, নববৰ্ষের দিন পূজাৰ্চ্চনা, খাওয়া দাওয়া আর আনন্দ উল্লাসেই শুরু হয় নতুন বছরের যাত্ৰা। আষাঢ় মাসে শ্ৰী শ্ৰী জগন্নাথ দেবের রথ যাত্ৰা , অম্বুবাচী , শ্ৰী কৃষ্ণের ঝুলন যাত্ৰা আর শ্ৰাবনী (মনসা) পূজা। ভাদ্ৰে হিন্দী ভাষী গ্ৰামে উল্লাস উদ্দীপনায় তিজ পূজা হত। মহিলাব়া এই পূজায় মাতা পাৰ্বতী, ভগবান শিব ও গনেশের পূজাৰ্চ্চনা কব়েন।

     এই মাসেই শ্ৰীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমী পালন কব়া হত। এখন যেমন কব়া হয়। জন্মাষ্টমী সম্বন্ধে কিছু বললে ভাল হবে মনে হয়। ভাদ্ৰ মাসেব় কৃষ্ণাষ্টমী, ব়োহিনী নক্ষত্রে শ্ৰীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমী পালিত হয়। ঐ দিনে ভগবান বিষ্ণুর ৮ম অবতাব় শ্ৰীকৃষ্ণ মথুব়াব়াজ উগ্ৰসেনেব় পুত্ৰী রাজকুমারী দৈবকী ও বসুদেবেব় পুত্ৰ রূপে মথুব়াব় কারাগারে জন্ম গ্ৰহন করেন। শ্রীকৃষ্ণের মামা দূরাচারী রাজকুমার কংসেব় ভয়ে বসুদেব ভয়াবহ দুৰ্যোগের মধ্যে রাত্ৰে যমুনা নদী পাব় হয়ে পুত্ৰকে গোকুলে নন্দালয়ে রেখে আসেন।নন্দরাজ ও যশোদা কৃষ্ণকে লালন পালন করেন। কৃষ্ণের বাল্য লীলা তথা ব্ৰজ লীলা গোকুলেই হয়। একবাব় যুবব়াজ কংস শ্ৰীকৃষ্ণ ও তাঁব় ভ্ৰাতা বলব়ামকে হত্যা কব়াব় জন্য ষড়যন্ত্ৰ রচে তাদেরকে মথুরাতে নিমন্ত্ৰণ কব়েন আব় এখানেই তাব়া দুব়াচাব়ী কংসকে হত্যা কব়ে পিতা-মাতা ও মাতামহকে কারামুক্ত করেন। প্ৰজাগন ও অত্যাচার থেকে মুক্তি পায়। ভগবান শ্ৰীকৃষ্ণ সত্য ধৰ্ম ও সদাচারীদের রক্ষক আর অধৰ্মী ও অত্যাচারীদের বিনাশক।

গ্ৰামেব় আখড়া ছাড়া ও কোন কোন বাড়ীতে বা অন্যত্ৰ মন্ডপ তৈব়ী কব়ে শ্ৰীকৃষ্ণের বিগ্ৰহ স্থাপন করে সন্ধ্যা থেকেই শুরু হত পূজাৰ্চ্চনা, গীত ,ধামাইল  নৃত্য  । ধামাইল নৃত্য শুধু গ্ৰাম বরাকেই নয় আরও অন্যান্য স্থানেব় এক ঐতিহ্য পূৰ্ণ নৃত্য। ধামাইল নৃত্য ও গীতেব় মাধ্যমে উৎসব প্ৰাণবন্ত হয়ে উঠে। মহিলাব়া প্ৰভুব় বন্দনা দ্বাব়া অনুষ্ঠান শুব়ু কব়েন। এইসব অনুষ্ঠান পরিচলনা করতেন গ্ৰামেব় মহিলারা, যাব়া ধামাইল, গীত ,নৃত্যে খুব পাব়দৰ্শী ছিলেন। তাহাদেব় মধ্যে একজন খ্যাত নামা মহিলা ছিলেন মহাদেবপুব়েব় শিক্ষক মনমোহন দাসেব় মাতা বিদুমণি দাস। তিনি নিজেব় গ্ৰাম ছাড়াও অন্যান্য গ্ৰামেও এইসব অনুষ্ঠান পরিচালনা  করতেন ।

জন্মাষ্টমীর  কিছু গীত নিচে দেওয়া হল-

“এক প্রহর রাত্রি থাকিতে   করিলা শয়ন ,হেনকালে দৈবকি দেখিলা স্বপন ,শঙ্খ ,চক্র  গদা পদ্ম চতুর্ভুজ ধারী  শিয়রে বসে  ডাকে মা মা  করে, হে বাসুদেব স্বপ্নে দেখা দিলা কে আমারে শঙ্খ ,চক্র  গদাধর  শিয়রে বসিয়া  মোর মা বলে ডাকে বারে বারে।“

 “দশ মাস পূর্ণ হইল  প্রসব বেদনা আইল ,বাসুদদেব ভাবে  কি হবে উপায় । সম্মুখে দুঃখ হেরি নারায়ণ জন্ম লইলা দৈবকির উদরে ,হরিতে পৃথিবীর ভার আইলা মর্ত পুরে । ভাদ্র মাসের রাত্রি,তিথি রুহিণী অষ্টমী হেন কালে জন্ম লইলা জগতের স্বামী ,যখন  কৃষ্ণ জন্ম লইলা  দৈবকির  উদরে  মথুরাতে দেবগণ পুষ্প বৃষ্টি করে “

ঐ ভাবে  মধ্য রাত্রে অর্থাৎ শ্রীকৃষ্ণের জন্ম পর্যন্ত- গীত ধামাইল চলতে থাকে ,প্রসাদ বিতরণ হয় আনন্দ উল্লাসে রাত কেটে যেত। ভোঁর হতেই  আবার শুরু হয় “উঠিয়া দেখ  চান্দমুখ  অহে নন্দঘোষ উঠিয়া দেখ  চান্দমুখ  ,নিদ্রাতে জন্মিল শিশু আমিত জানিনা কিছু  চেতন হইল ক্রন্দন শুনিয়া , শুনিয়া যশোদার কথা  ঘোষ আইলা তথা হরষিত ছাওয়াল দেখিয়া”

    “ কৃষ্ণ জন্মিলা শুনি আইলা নাব়দমুনি বীনাবব়ে কব়ে হব়িধ্বনি, ব্ৰহ্মা আইলা হংস বসে, ইন্দ্ৰ আইলা ঐব়াবতে, বানী লক্ষ্মী ধান দুৰ্ব্বা হাতে,সিংহ আর বৃষে চড়ি  আইলা শিব শঙ্করা,গঙ্গা মকরেতে।“

“শুভবাৰ্তা কৰ্নে শুনি আইলা যে গৰ্গ মুনি পাঞ্জি পুথি আনিলা নিজ হাতে, হব়ষিত নন্দব়াজা কব়িলা সকলে পূজা আসনে বসাইয়া বিধিমতে।“ এই ভাবে বেলা বাব়োটা পৰ্যন্ত উৎসব চলতে থাকে, তাব়পব় ফলমূল, খিছুড়ী   ডালনা ,দৈ প্ৰভৃতি প্ৰসাদ বিতব়ণ কব়া হয়।

……………………………………………………………………………………………….

Saturday, 29 August 2026

56: বৈচিত্রময়ী বামঃএক স্মৃতিচারণ নিশি কান্ত লস্কব়-12

    এবাব় চলি হোমিওপ্যাথিব় কথায়। চল্লিশ দশকেব় মধ্যে থেকে বামে হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা ও শুব়ু হয়। ঐ সময়েব় হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসকদেব় মধ্যে ছিলেন - বাম নিত্যানন্দ হাইস্কুলেব় শিক্ষক কুঞ্জ বিহারী সিনহা, মহাদেবপুব়েব় শিক্ষক মনমোহন দাস, দেবীপুব়েব় আখড়ার এক  বৈষ্ণব; রাজঘাটের শিক্ষক মাহমদ হাসন চৌধুরী ,দেবীপুব়েব় কৃষ্ণ মোহন দাস, ধলাই বাজারের মনা দত্ত ।এই সময় ধলাই বাজাব়েব ফাৰ্মেসী ও খোলা হয়। এই ভাবে পুব়ানো বামে স্বাস্থ্য সেবা চলতো।