Tuesday, 23 June 2026

32.বামের রাস্তাঘাট ও যোগাযোগ ব্যৱস্থা-২ঃজিয়াউদ্দিন চৌধুরী

 চান্নিঘাট -হাওয়াইথাং  রাস্থা হাওয়াইথাং বাজার অতিক্রম করে সেতু দিয়ে রুকনি নদী অতিক্রম করে রুকনির পূর্ব তীরে শেওড়ারতল ফরেস্ট ভিলেজকে সংযুক্ত করে বাঘেওলা ফরেস্ট ভিলেজ,জামিরখাল ফরেস্ট ভিলেজ হয়ে ধনিপুর সার্বজনিন দুর্গা মন্ডবের নিকট এম আর ডি রোডে (ভাগাবাজার-সাইফাই মিজুরাম রোড) মিলিত হয়েছে। রুকনির  সেতুটি এই অঞ্চলকে  বহির্বিশ্বের কাছে  উন্মুক্ত করে দিয়েছে।

       ১৬  কিঃমিঃ দীর্ঘ ভাগাবাজার মিজোরাম  শাইফাই রাস্তাটি হল রুকনি নদীর পূর্ব তীরে অবস্থিত বামের যোগাযোগ ব্যবস্থার মেরুদণ্ড। রাস্তাটি ভাগাবাজারের দক্ষিণ প্রান্তে  রুকনি নদী অতিক্রম করেছে। তারপর নদীর উজান বরাবর চলে   রাজনাগার,,রাজগোবিন্দপুর শ্যামাচরণপুর ,জামালপুরখুলিছড়া বাজার,কালারহাওর , ধলাখাল,পানছড়া  অতিক্রম করে কর্কটে গিয়ে মিজোরামের সাইফাই হয়ে চলে গেছে।  

 

অন্য একটি রাস্তা - ভাগাবাজার বিদ্যারতনপুর রোড- ভাগাবাজারের পূর্ব অঞ্চলটিকে সংযুক্ত করেছে । এটি পশ্চিম রাজনগরে ভাগাবাজার মিজোরাম সাইফাই রোডের কিঃমিঃ পয়েন্ট থেকে শুরু হয় এবং রাজনগর, বিদ্যারতনপুর, বিষ্ণুপুর হয়ে  দশ কিমি  দূরে সোনিতপুর ফরেস্ট ভিলেজ পর্যন্ত যায়। সোনিতপুর ফরেস্ট ভিলেজ সোনাই নদীর তীরে কালাখাল FV থেকে কিমি দূরে।  কিমি দূর সোনিতনগর এফ.ভি. থেকে কালাখাল এফ.ভি. পর্যন্ত কোন রাস্তা নেই।শুধু গভীর জঙ্গল।

 ভাগাবাজার থেকে ধলাইবাজার পর্যন্ত রুকনি  নদীর পূর্ব তীরে  গ্রামগুলির সংযোগকারী রাস্তার নেটওয়ার্ক রয়েছে।ভাগাবাজারে ৩০৬ নং জাতীয় সড়ক থেকে আরম্ভ হয়ে  রাস্তাটি  রুকনি নদীর পূর্ব তীরে  টিলানগর, জীবনগ্রাম, গজালঘাট, দেবীপুর, মহাদেবপুর, সদাগ্রাম ,  বিএনএমপি স্কুল হয়ে ধলাই হাইস্কুল রোড যোগে ৩০৬ নং জাতীয় সড়কের সাথে  আবার মিলিত হয়েছে।

 অন্য একটি রাস্তা ধলাইবাজার থেকে ধলাই   বি এন এম  পি স্কুল ,দুলাল্গ্রাম ,রুকনি চা বাগান হয়ে  পালংঘাটে গিয়ে  কাবুগঞ্জ আমড়াঘাট রোডের সাথে যুক্ত হয়ে কাছাড়ের দক্ষিণ পূর্ব প্রান্তের  আমড়াঘাট ,মতিনগর দরমিখাল,মনিয়ারখাল  সাথে বামকে উন্মুক্ত করেছে। এছাড়াও মালুগ্রাম হয়ে আরও বিকল্প রাস্তা রয়েছে যা আমরাঘাট এলাকাকে বামের সাথে সংযুক্ত করে। ।ধলাই থানার কাছে একটি রাস্তা বামের পশ্চিমে রেংটি পাহাড়ের পাদদেশে রজনীখাল, গুরুদয়ালপুর, বায়ওডাইভারসিটি পার্ক এবং অন্যান্য গ্রামগুলিকে সংযুক্ত করেছে । এগুলো হল বামের গুরুত্বপূর্ণ ধলাই বাজারের সাথে  উত্তর  ও পূর্বদিকে অবস্থিত বাম অঞ্চলের মূল সংযোগকারী রাস্তা।

           রুকনি নদীর উভয় তীরে ইএন্ডডি বাঁধের উন্নীতকরণের মাধ্যমে বামের সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থকে আরও মজবুত  করা হয়েছে। রুকনি নদীর উভয় তীরের বাঁধগুলিকে শক্তিশালী করা হয়েছে এবং কংক্রিটের ব্লক স্থাপন করা হয়েছে। রুকনি নদীর তীরের গ্রামবাসীদের জন্য এটি একটি বড় প্রাপ্তি ।বামের প্রায় প্রতিটি গ্রামই সারাবছর ব্যবহারযোগ্য মোটরযানযোগ্য রাস্তা দ্বারা সংযুক্ত ।প্রস্তাবিত ভারতমালা সড়কটি বাম হয়ে মিজোরামে প্রবেশ করছে। এটি বামকে ভারতের বাকি অংশের সাথে সরাসরি সংযুক্ত করবে এবং মূল ভূখণ্ড ভারত ও দূর প্রাচ্যের সাথে সরাসরি যোগাযোগ ও ব্যবসা-বাণিজ্য স্থাপন করবে। বামের উপর এর সুদূরপ্রসারী প্রভাব পড়বে।

    বামের বসতির প্রথম পর্যায়ে রুকনি নদীর পূর্ব ও পশ্চিম অঞ্চলকে সংযোগ করার জন্য নদীর উপর কোনো  সেতু ছিলনা ।বর্তমানে এই সমস্যার সমাধান হয়েছে ।  রুকনি নদীর উপর কয়েকটা সেতু নির্মাণ হয়েছে। তার মধ্যে ধলাইবাজার ,ভাগাবাজার ও হওাইথাং বাজারের নিকট তিনটি সেতু যোগা যোগের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

   বামের ভাল রাস্তাঘাট ও পরিবহন ব্যবস্থা থাকার প্রধান কারণ হল এর ভৌগোলিক অবস্থান। বাম হল কাছাড় এবং মিজোরামের মধ্যে একটি স্থল-সংযোগ মাধ্যম । মিজোরামে আসা যাওয়া ও পণ্য ও পরিষেবা সরবরাহের জন্য ‘বাম’ দিয়ে  যেতে হয়। এটি বামের দূরবর্তী অবস্থানটিকে একটি সুবিধাজনক পর্যায়ে পরিণত করে দিয়েছে।.

No comments:

Post a Comment