বাম কাছাড়ের কিছু প্রবাদ ও প্রবচনঃ
যখন খুব ছোট ছিলাম,তখন বাড়িতে
ধর্মগ্রন্থ পাঠের আসর বা অন্য কোনও কারনে বসা
আসরে মাঝে মাঝে শুনতে পেতাম “গীতায় শ্রীকৃষ্ণ বলেছেন”-------- “। তখন ধারণা হয়ে গিয়েছিলো যে গীতা লিখেছেন ভগবান শ্রীকৃষ্ণ ।
তারপর যখন পাঠশালায় ভর্তি হয়ে শিখলাম
“সকালে উঠিয়া আমি মনে মনে বলি
।
সারাদিন আমি যেন ভাল হয়ে চলি
।
তখনও এই একই ধারনা কাজ করেছিলো
। ভেবেছিলাম ঈশ্বরই আমাদের জন্য এগুলো লিখে রেখেছেন ।
পরে এম ই স্কুলে ভর্তি হয়ে
শিখলাম –
“বসেছে আজ রথের তলায়
স্নান যাত্রার মেলা ।
সকাল থেকে বাদল হলো
ফুরিয়ে এলো বেলা।। “
বা
ফুলের দলে প্রজাপতি ,হাসির
পরে হাসি ।
এমন শোভা দেখতে আমি বড়ই ভালবাসি
।
উড়ে উড়ে কেমন তারা বেড়ায় নেচে নেচে ।
ইন্দ্র ধনু দিয়ে পাখা
-জান,কে এঁকেছে ?
যাঁর দয়াতে গোলাপ ফুটে লোহিত বরন মাখা ।
যাঁর দয়াতে হাসিরছটায় শিশুর
আনন ঢাকা ।।
রবিশশী ফুটিয়ে জগৎ আলো করেন
যিনি ।
প্রজাপতির পাখায় হেন সাজ দিয়েছেন
তিনি ।।
বুঝলাম -এ কবিতাগুলো ঈশ্বরের
লেখা নয় । তাছাড়া মাষ্টার মশাইদের মুখে কবিদের কথা শুনে বুঝতে পারলাম যে – এ কবিতাগুলো ঈশ্বরের লেখা নয়।তবে ধারনা হলো -কবিরা অসাধারণ কিছু মানুষ,তারা আমাদের মতো
সাধারণ মানুষ নন ।
তবে ভুল ভাংলো ক্লাস VII এ উঠার পর ।ধলাই বি এন এম পি স্কুলে ভর্তি হলাম ।হাতে এলো ১৯৬১ সালে প্রকাশিত স্কুল ম্যাগাজিন “বামশ্রী” । দেখলাম বামশ্রীর
অনেক লেখকই আমদের স্কুলের শিক্ষক ।তাছাড়া কবিতা আর অন্য কিছু লেখায় স্কুলের বর্তমান ও প্রাক্তন ছাত্রদের
নাম আছে ।প্রাক্তন শিক্ষকও আছেন ।এর মধ্যে দুই একজন আবার আমার পরিচিত । বুঝলাম যে কেউ লিখতে পারে ।
তবে নির্দিষ্ট বিষয় এবং ভাষার উপর দখল থাকতে
হবে ।
বামশ্রীতেই পড়লাম –
“নে
ফুল তুলে নে
যত
খুশি সাজি ভরে।
সার্থক
হোক তোর পুষ্প চয়ন
শরতের
এ শান্ত প্রভাতে ।“
অভিভূত হয়ে গিয়েছিলাম । এখন বুঝতে পারি এ সব
তো বাম কাছাড়েরই কাব্যপ্রতিভা । দুর্গাপূজার
আগমনি গান গুলোতে ও এতদঞ্চলের প্রচুর রচনা আছে ।বিজয়ায় দেখা যায় এঅঞ্চলের কবি বলছেন-
যাবেই
যদি যা মা ,শুধু কথা দিয়ে যা,
বছর
গেলে আসবে ফিরে ধরার বুকে মা
মা
তোর আসার পথটি চেয়ে
রইবো
সারা বছর ধরে…।
এসব তো বাম কাছাড়েরই
প্রতিভার প্রকাশ ।
No comments:
Post a Comment