ডিসেম্বব় মাসে ২৫ শে তাব়িখ বামেব় পুঞ্জিতে
খ্ৰীষ্ট ধৰ্মীয় লোকেব়া যীশুখৃষ্টেব় জন্ম দিন পালন কব়েন। ঘব় বাড়ী পব়িস্কাব় কব়া,
গীৰ্জা সাজানো, শোভাযাত্ৰা, গীৰ্জায় সমবেত, প্ৰাৰ্থনা, পবিত্ৰ বাইবেল পাঠ, কেক কাটা
প্ৰভৃতি কাৰ্য্যসূচীব় মাধ্যমে বড়দিন পালিত হয়।
বড়দিনের পর পৌষ সংক্রান্তি। পৌষ সংক্রান্তি হিন্দুদের
এক মহান উৎসব । পৌষ মাসের শেষ দিন অর্থাৎ সংক্রান্তির দিন ইহা পালিত হয় ।সাধারাণতঃ
জানুয়ারী মাসের ১৪ তারিখ এই পর্বটি অনুষ্ঠিত হয় ।ঐ দিন সূর্য ধনু রাশি থেকে মকর রাশিতে
প্রবেশ করেন । তাই ইহাকে মকর সংক্রান্তি বলা
হয় । ।সূর্য ঐ দিন দক্ষিণায়ন ত্যাগ করে উত্তরায়নে
যান ,তাই ইহাকে উত্তরায়ান সংক্রান্তি ,আর তিলের
পিঠা অর্ঘ্য দেওয়া হয় ,তাই ইহাকে তিল সংক্রান্তি ও বলা হয় ।এই উত্তরায়ণের দিন মহাভারতের
পিতামহ গঙ্গাপুত্র ভীষ্ম প্রাণ ত্যাগ করেন
।
সংক্রান্তির বেশ কিছুদিন পূর্ব
থেকে প্রস্তুতি শুরু হয়ে যায়।পূর্বের দিন সবকিছু
পরিষ্কার করা হয়।মহিলারা পিঠার জন্য চউলের
গুড়ি/ চুঙ্গার জন্য চাউল,বাঁশ প্রস্তুত, বাগান
থকে নতুন নতুন সব্জী তোলা প্রভৃতি কাজে ব্যস্ত
হয়ে পড়েন ।পুরুষরা বাজার থেকে প্রয়োজনীয় নানারকম
সামগ্রী ,নুতন কাপড় জামা খরিদ করেন
,ছেলেরা মেড়া মেড়ীর ঘর নদীর তীরে বা অন্য কোথাও তৈরি করতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে ।মহিলারা
রাত্রে পিঠা ও নানারকম তরকারী তৈরি করতে লেগে
যান ।
ভোরবেলা লোকেরা তেল মেখে নদীতে বা জলাশয়ে স্নান
করে তিল ,চাউল ,তিলের পিঠা ,ফল ফুল দিয়ে সূর্য
দেবকে অর্ঘ প্রদান করেন । তারপর পূজার্চনা করে পরিবারে সকলে এক সঙ্গে মিলে তিলপিঠা ,চুঙ্গা, ভোজন করেন । ঐদিন পাটী সাপট ,মাল্পুয়া
,পুলি পিঠা সঙ্গে চুঙ্গা খওয়া হয় । মন্দিরে মন্দিরে পুজা ,কীর্তন , মহাভারত পাঠ অনুষ্ঠিত
হয় ।ঘুড়ি উড়ানো ,মহিষের লড়াই ও কোন কোন জায়গায় অনুষ্ঠিত হত ।
দুপুরবেলা সবাই একসঙ্গে নানারকম ব্যঞ্জন,ভাজা,বড়া ইত্যাদি দিয়ে ভোজন করেন
,দুই তিন দিন আত্মীয়রা ও একে অন্যের বড়ীতে সংক্রান্তির আনন্দ উপভোগ করেন । তিল সংক্রান্তির দিন কোন সময়
রাসমনি লস্করের বাড়ী আর কোন সময় রমেশ চন্দ্র লাস্করের বাড়ীতে মহাভারত পাঠের আসর বসত,পাঠ করতেন রমেশ চন্দ্র ,রামায়াণ ও মহাভারত পাঠে রমেশ চন্দ্রের
গ্রাম ছাড়াও পার্শবর্তী গ্রামগুলিতে ও সুনাম
ছিল । গীতা পাঠ করতেন মাথুরা নাথ শর্মা , ধনঞ্জয়
চক্রবর্তী ।
বামে হিন্দিভাষী সমাজ বিশেষ করে চা জন গোষ্ঠীর মধ্যে টুসু পুজার প্রচলন আছে । পৌষ সংক্রান্তির আগের দিন এই পূজা অনুষ্ঠিত হয় আর সংক্রান্তির দিন
মূর্তি নদীতে বিসর্জন দেওয়া হয় ।ফল ফুল নানা রকম তিলের পিঠা,চানা,বাদাম ,চিড়া ,গুড়,নারিকেল মুগ প্রভৃতি নিবেদন করা হয় ,সুখ সম্পদ ও সমৃদ্ধির জন্য কৃষি ও সম্পদের দেবী টুসুর অর্চনা করা হয় ।এই পুজায় টুসু দেবীর বন্দনা
ছাড়াও শ্রীকৃষ্ণ ,শ্রীরাম সীতা ও হনুমানজির ভজন করা হয়।
মাঘমাসে শ্রীপঞ্চমীর দিন বিদ্যার দেবী সরস্বতির পুজা করা হয় ।স্কুল ক্লাব প্রভৃতিতে মহা উৎসাহে বানীবন্দনা করাহয় ।আগে বামের সুখতলাতে নৌকা পুজা
হত,ঐ দিন কোথা কোথাও বিষ হরি (মনসা)পুজা হয় ।মহাদেবপুরের মনাই ওঝার বাড়ীতে তিন দিন ব্যাপী নাগ মাতার পুজা হত ।তিন দিন পূজার্চনা , দেবী
বন্দনা,পদ্মপুরান, সন্ধ্যা আরতি ,প্রসাদ বিতরণ চলতো ।ওঝা,জামা (বিশেষ রকমের
পোষাক ও হাতে চামর নিয়ে গান গাইতেন ,সাথে সাথে
এক বা ততোধিক বাইন মৃদঙ্গ বাজিয়ে বাজিয়ে নাচতেন
আর ৪/৫ জন দোহারী করতাল নিয়ে ওঝার গাওয়া গীতের পুনরাবৃত্তি করতেন –ওঝা ‘বন্দি গো মা জয় মনসা শঙ্কর,দুহিতা
জরৎ কারু মুনী পত্নী আস্তিকের ও মাতা ‘ বলে পদ্ম পুরান শুরু
করতেন,গ্রামবাসীরা উৎসব মহানন্দে উপভোগ করতেন ‘ ।
No comments:
Post a Comment