Tuesday, 26 May 2026

5.রুকনি ও সোনাই নদীর বিস্তৃত কাটামো বা নেটওয়ার্ক-1

রুকনি ও সোনাই নদী তাদের অসংখ্য শাখা, স্রোত, নামহীন ছড়া ও খালের মাধ্যমে বাম-এর পার্বত্য অঞ্চল ও সমতল থেকে জল বহন করে সুন্দরী গ্রামে মিলিত হয়ে সোনাই নদী নামে প্রবাহিত হয়ে বারাক নদীতে পড়েছে । রুকনি বা বাম উপত্যকা তিন দিক থেকে পাহাড় পরিবেষ্টিত এক মনোরম পরিবেশে সাজানো স্থান ।পশ্চিমে বামের সঙ্গে হাইলাকান্দির সীমা নির্দেশ করছে রেংটি পাহাড় নামে উত্তর থেকে দক্ষিনে লম্বমান অরণ্য ঘেরা শৈলমালা যার বিস্তার পূর্ব থেকে পশ্চিমে ৪ থেকে ৭ কিলমিটার আর উত্তর থেকে দক্ষিণে প্রায় ১৩ কিঃ মিঃ।দক্ষিণ দিকে রয়েছে মিজোরামের গগনচুম্বী পার্বত্য অঞ্চল। সমস্ত বাম অঞ্চলটি পাহাড়,জঙ্গল,বনবনানী আর টিলা সমাকুল ভুভাগের সঙ্গে উর্বর সমভূমির শস্য শ্যামল প্রান্তর নিয়ে এক বৈশিষ্টপূর্ণ অঞ্চল । বাম উপত্যকার সমভূমিতে মিজো পাহাড় ,রেংটি পাহাড় ও ভুবন পাহাড়ের পাদ দেশে বিক্ষিপ্ত ভাবে বিস্তারিত অনেক টিলা বিরাজমান।ভূগোলবিদ ও নর্থ ইস্ট হিল উনিভারসিটির প্রাক্তন এসোচিয়াটে প্রোফেসর ডঃ নলিনিকান্ত সিনহার মতে এই টিলাগুলি মূলত নিকটস্ত পাহাড় হইতে নির্গত শৈলশিরা (স্পার) পার্শ্ববর্তী পাহাড়ের ঢাল অনুযায়ী তীব্র গতি সম্পন্ন প্রবাহিত বৃষ্টির ক্রমাগত ক্ষয়জাত কাজের ফলে মূল পাহাড় হইতে বিচ্ছিন্ন হইয়াছে । এই কারণে টিলা সমূহ প্রবাহিত বৃষ্টির জল প্রবাহের প্রভাবে ক্ষয়জাত কাজের ফলে সৃষ্ট ভোগলিক টিলা বলিয়া গণ্য হয় ।এ অঞ্চলের প্রায় ৬৬% শতাংশ বনজঙ্গল আর উচুনিচু বন্ধুর ভূমিসমাকুল বসতি বিরল এলাকা। অপরপক্ষে ৩৪ শতাংশ ভূভাগ জনবসতি সমাকীর্ণ শস্যশ্যামল উর্বর মাঠের লোভনীয় পরিবেশে মুখরিত বামাঞ্চল । বন বাদাড় আর পাহাড়ী পরিবেশ থেকে ছোট ছোট জলস্রোত বা খাল নালা এলাকার জল বহন করে রুকনি ও সোনাই নদীর জল যোগান দেয়। এতে খরস্রোতা এই নদী দুটি অতিশয় আঁকা বাঁকা প্রবাহপথ সংক্ষিপ্ত করতে গিয়ে বাঁক ছেড়ে দিয়ে অনেক অশ্ব খোরাকৃতি হ্রদ বা আনুয়ার সৃষ্টি করেছে। বামের ৬৬% বনাঞ্চলের ফাঁকে ফাঁকে গড়ে উঠেছে ৩৫ টি ফরেস্ট ভিলেজ । এসব ফরেস্ট ভিলেজে বসবাস করছে নানা সম্প্রদায়ের মানুষ ।গড়ে উঠেছে বৈচিত্রময় পরিবেশ । জনবসতির ঐতিহ্যবাহী বৈশিষ্ট্যের প্রধান অঞ্চলটি রয়েছে বামের উত্তারাঞ্চলে । দক্ষিণাঞ্চল আর পূর্বাঞ্চল প্রধানত অরণ্য সমাকুল টিলাভূমির বসতিবিরল এলাকা।
Rukni River passing through Rajghat

No comments:

Post a Comment