Monday, 25 May 2026
3.রুকনি নদীর পশ্চিম পাড়ের উপনদীগুলি: জিয়াউদ্দিন চৌধুরী
ধলাইখাল: বাম-এর দক্ষিণে মিজোরামের বিলখাউথির গ্রাম থেকে উৎপন্ন হয়ে এটি বাম-মিজোরাম সীমান্তের কাছাকাছি পশ্চিম দিকে প্রবাহিত হয় এবং ভাইরেংটি ও বিলাইপুরের মাঝখানে বামে প্রবেশ করে। মিজোরামে এটি "ছিমলুং লুই" নামে পরিচিত। বামে প্রবেশের পর এটি রেংটি পাহাড়ের পশ্চিম প্রান্ত ধরে ধলাইখাল বস্তি ও জামিরখালের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়। জামিরখাল থেকে এটি ধলাইখাল নামে পরিচিত হয় এবং সুপারি খাল, আর্জানপুর, গুরুদয়ালপুর হয়ে ধলাইবস্তি সংলগ্ন রুকনি উপত্যকার সমতলে প্রবেশ করে। অবশেষে এটি সাদাগ্রামে রুকনি নদীর সাথে মিলিত হয়।
পানিসাগর:এই উপনদীটি মিজো পাহাড়ের পাদদেশে ফ্রেঞ্চনগরের টাই্য়া বিল থেকে উৎপন্ন হয়। এটি হাওয়াইথাং-এ পৌঁছে "ছাগির আনুয়া খাল" নামে পরিচিত হয় এবং এনএইচ ৩০৬ পেরিয়ে উত্তর দিকে হাওয়াইথাং-এর মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়।
‘ রাঙ্গা খাল’ নামে একটি স্রোত দক্ষিণ লাইলাপুরের আর্মি ক্যাম্পের কাছে রেংটি পাহাড় থেকে উৎপন্ন হয় এবং উত্তর হাওয়াইথাং-এর বরালা বিলে পড়ে।
বরালা খাল বরালা বিল থেকে জল নিষ্কাশন করে প্রবাহিত হয় এবং উত্তর লাইলাপুর তবতকুড় স্রোত এবং সোনাছড়া স্রোতের সাথে মিলিত হয় ( সোনাছড়া গতিপতে রেংটি পাহাড়ের জয়ধনপুর তবতকুড় জলপ্রপাত তৈরি করেছে)। এই সম্মিলিত স্রোতটি উত্তর হাওয়াইথাং-এ ছাগির আনুয়া খালে গিয়ে মেশে। এখান থেকে এটি "পানিসাগর" নামে পরিচিত হয় এবং জয়ধনপুর, রাজঘাট প্রথম খণ্ড, লোকনাথপুর, আর্জনপুর এবং সপ্তগ্রামের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়।এরপর এটি এনএইচ ৩০৬ পেরিয়ে সপ্তগ্রামের উত্তর সীমানায় ধলাই শশানঘাটের পাশ দিয়ে প্রবাহিত হয় এবং ধলাইখালের সাথে মিলিত হয়ে সদাগ্রামে রুকনি নদীতে পড়ে।
হাওয়াইথাংখাল:হাওয়াইথাং বাজারে গিয়ে রুকনিতে পড়ে। মিজোরাম থেকে উৎপন্ন পাগলাছড়া ও বিষ্ণুছড়া ফ্রেঞ্চনগর খাসি পুঞ্জিতে মিলিত হয়ে হাওয়াইথাং খাল নামে প্রবাহিত হয়। লালছড়া নামে আরেকটি শাখা সিঙুয়া বস্তির মধ্য দিয়ে হাওয়াইথাং খালের সাথে মিশে যায় ।
খুলিছড়া:দুটি স্রোত — ফাইনুং ফরেস্ট ভিলেজ থেকে উৎপন্ন ‘ধলাখাল’ এবং মিজোরাম থেকে উৎপন্ন ‘সাইফাল লুই’ মিলে খুলিছড়া নামে প্রবাহিত হয়। এটি খুলিছড়া গ্রাম ও বাগেওয়ালা গ্রামের মাঝে রুকনি নদীর সাথে মিশে যায়। সাইফাল লুই-এর একটি শাখা ‘থাংতেপুই লুই’ মিজোরাম থেকে এসে সাইফাল লুইতে মিলিত হয়েছে ।
বাঘখাল:মৌলভি খালের উত্তরে উৎপন্ন হয়ে বাঘখাল বাগেওয়ালায় রুকনি নদীর সাথে মিলিত হয়।
মৌলভীখাল:মিজোরাম সীমান্তের কাছে থেকে উৎপন্ন হয়ে এটি উত্তর তুলারতল গ্রামে রুকনি নদীর সাথে মিশে যায়। এই খালটির নামকরণ হয়েছে মৌলভি আবদুর রেজ্জাক চৌধুরীর নামে, যিনি বাম নিত্যানন্দ হাইস্কুলের শিক্ষক ছিলেন। তিনি ১৯৭০-এর দশকের শেষে কাঠ ব্যবসা করতেন এবং এই খালের মাধ্যমে কাঠ পরিবহন করতেন।
খেরগুলনালা:এটি খেরগুল সেতুর কাছে রুকনি নদীর সাথে মিলিত হয় এবং এর উৎপত্তি মিজোরামে।
সোনাই নামে যে নদীটির কথা বলা হয়েছে সে আর এক পাহাড়ি নদী। মিজোরামের উত্তর চাওইলাং থেকে বেরিয়ে এসে বামের বিষ্ণু পুর ফরেস্ট ভিলেজ এর ১১ কিলো মিটার পূর্বে বামে প্রবেশ করে আপন গতিতে বামের পূর্ব প্রান্ত দিয়ে প্রবাহমান ।এ নদী প্রধানত বারাক নদীর পশ্চিমের বিশাল ভূবন অরণ্য ভূমির পশ্চিম প্রান্ত দিয়ে প্রবাহিত।এ নদীর অববাহিকায় রয়েছে চেখারচাম,ধলাখাল ফরেস্ট ভিলেজ,মাচখাল ফরেস্ট ভিলেজ,জুড়াখাল ফরেস্ট ভিলেজে,কালাখাল ফরেস্ট ভিলেজ এবং জুড়খাল।
বামের পূর্ব প্রান্ত দিয়ে প্রবাহিত গতিপতে সোনাই নদীর বহু ছোট ছোট উপনদী বাম অঞ্চলের জল সোনাই নদীতে নিষ্কাশন করছে । এগুলি হল:
সোনাই নদীর পূর্ব তীরে:
জাপলাখাল: মিজুরামে উৎপন্ন হয়ে সীমানা বরাবর প্রবাহিত হয়ে মিজুরাম সীমান্তের অল্প উত্তরে সোনাই নদীতে গিয়ে মিশে।
বড়হা খাল: মিজোরাম সীমান্তের কাছ থেকে উৎপন্ন হয়ে এটি সোনাই নদীর সমান্তরালে উত্তর দিকে প্রবাহিত হয় এবং হাথিখাল বনগ্রামের কাছে সোনাই নদীর সাথে মিলিত হয়। বরাক খাল, সাইকাহ লুই এবং ভাওক্লিয়ান লুই ইহার শাখা।
জোরখাল: মেটনাখাই গ্রামে উৎপন্ন হয়ে স্মিথনগর ফরেস্ট ভিলেজে সোনাই নদীতে মিশে।
নাগাখাল: চন্ডিখাল ফরেস্ট ভিলেজ থেকে উৎপন্ন হয়ে সোনাই নদীতে সোনিতপুর গ্রামে মিশে।
সোনাই নদীর পশ্চিম তীরে:
তিয়ামাখাল: সুপারিখাল ফরেস্ট ভিলেজর পশ্চিম দিক থেকে উৎপন্ন হয়ে সোনাই নদীতে সুপারিখাল ফরেস্ট ভিলেজে মিশে।
হাথিখাল: পুনিরহাওর গ্রামে উৎপন্ন হয়ে হাথিভাঙ্গুরি চাকমা গ্রাম ও হাতিখাল রিয়াং পুঞ্জির পাস দিয়ে প্রবাহিত হয়ে হাতিখাল ফরেস্ট ভিলেজে সোনাই নদীতে মিশে।
অগ্রিখাল: আনন্দখাল ফরেস্ট ভিলেজ থেকে উৎপন্ন হয়ে গোরখাল ফরেস্ট ভিলেজে সোনাই নদীতে মিশে।
Subscribe to:
Post Comments (Atom)
No comments:
Post a Comment